চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের আজগবী হাজীপাড়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে রাতের আঁধারে ১৪০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র তিন মাস আগে লাগানো এসব গাছ কেটে ফেলায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আজগবী হাজীপাড়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানের ফাঁকা জায়গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রায় তিন মাস আগে ১৬৮টি মেহগনি গাছ লাগানো হয়। এর মধ্যে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ১৪০টি গাছ কেটে ফেলে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি গোরস্থান কমিটিকে জানানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছগুলো বড় হলে কবরস্থানটি আরও সবুজ ও নান্দনিক হয়ে উঠত। অল্প সময়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে এতগুলো গাছ কেটে ফেলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গোরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুবিন মিয়া বলেন, রাতের আঁধারে কবরস্থানের গাছ কেটে ফেলা অত্যন্ত অন্যায় ও দুঃখজনক। যারা এ কাজ করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।
গোরস্থান কমিটির সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, ওই জায়গায় আগে স্থানীয়রা খেলাধুলা করতেন। পরবর্তীতে খেলাধুলা বন্ধ করে সেখানে গাছ লাগানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে কারা গাছগুলো কেটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, সরকার মানুষকে বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছে। এমন সময়ে কবরস্থানে লাগানো এতগুলো গাছ কেটে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহাঃ রকিব উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার 


















