লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ৬নং চরশাহী ইউনিয়নের নুরুল্যাপুর গ্রামে ‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’ নামে একটি ইটভাটা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ইটভাটার জায়গায় সম্প্রতি সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
একই সঙ্গে ইটভাটাটি চালুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ৬নং চরশাহী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নুরুল্যাপুর কাজীর ডগিতে ২০১৭ সালে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের মুকবুল হাজী বাড়ির মুকবুল হাজীর ছোট ছেলে ফারুক হোসেন ‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’ নামে ইটভাটাটি চালু করেন। শুরুর দিকে ইটভাটাটির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইট বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দাদনে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ও এনজিও থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দাদন ও ঋণের টাকা পরিশোধ না করেই ফারুক হোসেন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পাওনাদাররা বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

দীর্ঘদিন ইটভাটাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় একপর্যায়ে এর জায়গাটি স্থানীয় অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় হঠাৎ করেই ‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’ পুনরায় চালুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইটভাটার জায়গায় সংস্কার,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ইটভাটাটি নিলামে বিক্রি করে দেয়। পরে একই এলাকার আরেক ইটভাটা ব্যবসায়ী ‘মা ব্রিক ফিল্ড’-এর মিঠুসহ কয়েকজন নিলামে ক্রয়কারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’ ভাড়া নিয়ে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বর্তমানে ইটভাটাটি চালুর লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। তবে নতুন করে ইটভাটা চালুর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইটভাটাটি পুনরায় চালু হলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইটভাটার ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা ইটভাটাটি চালুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
তবে‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’-এর পূর্বের মালিক ফারুক হোসেনের ঋণ ও মানুষের দাদনের টাকা পরিশোধের বিষয়ে বর্তমানে ইট ভাটাটি চালু করা ব্যক্তিরা সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
একইভাবে ব্যাংকের নিলাম প্রক্রিয়া,নিলামের মাধ্যমে ইটভাটাটি ক্রয় এবং পরবর্তীতে ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিলাম ক্রেতা ও বর্তমান উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইটভাটাটি পুনরায় চালুর আগে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না-এখন সেটিই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
হুমায়ুন কবির নিজস্ব প্রতিবেদক 
























