ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটিতে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বেরোবির বিজয়-২৪ হলে আধুনিকায়িত রিডিং রুম ও মসজিদ উদ্বোধন বিএনপি’র কান্ডারী ছাত্রনেতা তপন মাহমুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় মোহাম্মদপুরবাসী নওগাঁয় বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও মদ জব্দ আশুলিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের রহস্যজনক আত্মহত্যা পীরগঞ্জে দাদন ব্যবসায়ী জিয়ার আতঙ্কে শতাধিক পরিবার বরগুনায় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বেরোবিতে ‘ঐতিহ্য উৎসব’: একই মঞ্চে প্রাচীন মিশর ও বাংলার লোকসংস্কৃতি সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

আশুলিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের রহস্যজনক আত্মহত্যা

উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘তালেব ভাইজান’ খ্যাত তালেব আলীর ভাতিজা ও উদীয়মান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ এবং নিকটজনদের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রোববার দুপুরে নিজ কক্ষে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে লাশ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মৃত্যুর ঠিক আগের দিন (৫ সেপ্টেম্বর) স্ত্রী কামরুন নাহার কাজলের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন সোহাগ। সেখানে তিনি লেখেন, “তোমার Birthday আমার কাছে তেমনই special যেমনটা তুমি আমার কাছে special… সত্যিই বলতে ভালোবাসা কী জিনিস সেটা তোমায় না দেখলে বুঝতাম না। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে আমি তোমার মতন একটা Caring লাইফ পার্টনার পেয়েছি। সারাজীবন একসাথেই তোমাকে নিয়ে বৃদ্ধ হতে চাই… নিরানব্বই বার ঝগড়ার পরেও শতবারের সময় আমার।”

যে মানুষটি স্ত্রীকে নিয়ে সারাজীবন বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলেন, তার পরের দিনই এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

ঘটনার পর সোহাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সায়েম এক একান্ত ফোনালাপে এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন। তার মতে, ঘটনার পেছনে রয়েছে মারাত্মক এক মানসিক আঘাত। সায়েমের দাবি, মৃত্যুর ঠিক আগে সোহাগের স্ত্রী কাজল তাকে বলেছিলেন—“আমার পেটে থাকা সন্তান তোমার নয়।” স্ত্রীর এই একটি কথাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সোহাগ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি বন্ধুর।

সোহাগের এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেবলই স্ত্রীর এক কথার আবেগীয় প্রভাব, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব—তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ফেসবুক পোস্টে সোহাগের লেখা “নিরানব্বই বার ঝগড়ার পরেও…” বাক্যটি ইঙ্গিত দেয় যে তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল।

এ বিষয়ে সোহাগের চাচা ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তালেব ভাইজান বলেন, “আমি দিনাজপুরে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সোহাগের মৃত্যুর খবর পাই। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন

আশুলিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের রহস্যজনক আত্মহত্যা

আপডেট সময় ০৭:২৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘তালেব ভাইজান’ খ্যাত তালেব আলীর ভাতিজা ও উদীয়মান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ এবং নিকটজনদের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রোববার দুপুরে নিজ কক্ষে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে লাশ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মৃত্যুর ঠিক আগের দিন (৫ সেপ্টেম্বর) স্ত্রী কামরুন নাহার কাজলের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন সোহাগ। সেখানে তিনি লেখেন, “তোমার Birthday আমার কাছে তেমনই special যেমনটা তুমি আমার কাছে special… সত্যিই বলতে ভালোবাসা কী জিনিস সেটা তোমায় না দেখলে বুঝতাম না। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে আমি তোমার মতন একটা Caring লাইফ পার্টনার পেয়েছি। সারাজীবন একসাথেই তোমাকে নিয়ে বৃদ্ধ হতে চাই… নিরানব্বই বার ঝগড়ার পরেও শতবারের সময় আমার।”

যে মানুষটি স্ত্রীকে নিয়ে সারাজীবন বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলেন, তার পরের দিনই এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

ঘটনার পর সোহাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সায়েম এক একান্ত ফোনালাপে এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন। তার মতে, ঘটনার পেছনে রয়েছে মারাত্মক এক মানসিক আঘাত। সায়েমের দাবি, মৃত্যুর ঠিক আগে সোহাগের স্ত্রী কাজল তাকে বলেছিলেন—“আমার পেটে থাকা সন্তান তোমার নয়।” স্ত্রীর এই একটি কথাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সোহাগ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি বন্ধুর।

সোহাগের এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেবলই স্ত্রীর এক কথার আবেগীয় প্রভাব, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব—তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ফেসবুক পোস্টে সোহাগের লেখা “নিরানব্বই বার ঝগড়ার পরেও…” বাক্যটি ইঙ্গিত দেয় যে তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল।

এ বিষয়ে সোহাগের চাচা ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তালেব ভাইজান বলেন, “আমি দিনাজপুরে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সোহাগের মৃত্যুর খবর পাই। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না।”