ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটিতে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বেরোবির বিজয়-২৪ হলে আধুনিকায়িত রিডিং রুম ও মসজিদ উদ্বোধন বিএনপি’র কান্ডারী ছাত্রনেতা তপন মাহমুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় মোহাম্মদপুরবাসী নওগাঁয় বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও মদ জব্দ আশুলিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের রহস্যজনক আত্মহত্যা পীরগঞ্জে দাদন ব্যবসায়ী জিয়ার আতঙ্কে শতাধিক পরিবার বরগুনায় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বেরোবিতে ‘ঐতিহ্য উৎসব’: একই মঞ্চে প্রাচীন মিশর ও বাংলার লোকসংস্কৃতি সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় খাদিজা খাতুন (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সিরাজগঞ্জের হেলথ কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজা খাতুন সলঙ্গা থানার বাসুদেবকোল গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী এবং আমশড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে।

স্বজনদের দাবি, ডা. জেবুন্নেছার তত্ত্বাবধানে খাদিজাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। অপারেশনের সময়ই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাদের ভাষ্য, খাদিজার মৃত্যুর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বরং অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে চিকিৎসক স্বজনদের জানান, রোগীর জ্ঞান ফিরতে সময় লাগছে এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পরও তাঁকে বেডে নেওয়া না হলে স্বজনদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তাঁরা অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে খাদিজাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় কান্না-আহাজারি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের আরও অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর ডা. জেবুন্নেছা ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ডা. হযরত আলী হাসপাতাল থেকে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. জেবুন্নেছা বলেন, ঘটনার দিন এবং পরদিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ডা. হযরত আলী বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। খাদিজার রক্তস্বল্পতা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপারেশনের সময় ডা. জেবুন্নেছা সেখানে ছিলেন।

খাদিজার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটির লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল এবং অপারেশন থিয়েটারের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেছেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডা. জেবুন্নেছার বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

হাসপাতালটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ডা. জেবুন্নেছার স্বামী ফিরোজ আহমেদ। ডা. জেবুন্নেছা সরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও পরিচালনা করছেন বেসরকারি হাসপাতাল।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ডা. জেবুন্নেছার স্বামী ফিরোজ আহমেদ একটি প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের দাবি, শুধু খাদিজার মৃত্যুর ঘটনা নয়, হাসপাতালটির পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা তদন্তের আওতায় আনা উচিত। বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটার, অ্যানেসথেশিয়া ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব পালন এবং হাসপাতালের অনুমোদন ও লাইসেন্স যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগীর মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অবহেলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন

সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় খাদিজা খাতুন (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সিরাজগঞ্জের হেলথ কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজা খাতুন সলঙ্গা থানার বাসুদেবকোল গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী এবং আমশড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে।

স্বজনদের দাবি, ডা. জেবুন্নেছার তত্ত্বাবধানে খাদিজাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। অপারেশনের সময়ই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাদের ভাষ্য, খাদিজার মৃত্যুর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বরং অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে চিকিৎসক স্বজনদের জানান, রোগীর জ্ঞান ফিরতে সময় লাগছে এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পরও তাঁকে বেডে নেওয়া না হলে স্বজনদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তাঁরা অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে খাদিজাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় কান্না-আহাজারি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের আরও অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর ডা. জেবুন্নেছা ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ডা. হযরত আলী হাসপাতাল থেকে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. জেবুন্নেছা বলেন, ঘটনার দিন এবং পরদিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ডা. হযরত আলী বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। খাদিজার রক্তস্বল্পতা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপারেশনের সময় ডা. জেবুন্নেছা সেখানে ছিলেন।

খাদিজার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটির লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল এবং অপারেশন থিয়েটারের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেছেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডা. জেবুন্নেছার বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

হাসপাতালটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ডা. জেবুন্নেছার স্বামী ফিরোজ আহমেদ। ডা. জেবুন্নেছা সরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও পরিচালনা করছেন বেসরকারি হাসপাতাল।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ডা. জেবুন্নেছার স্বামী ফিরোজ আহমেদ একটি প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের দাবি, শুধু খাদিজার মৃত্যুর ঘটনা নয়, হাসপাতালটির পুরো চিকিৎসাব্যবস্থা তদন্তের আওতায় আনা উচিত। বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটার, অ্যানেসথেশিয়া ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব পালন এবং হাসপাতালের অনুমোদন ও লাইসেন্স যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগীর মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অবহেলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।