ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটিতে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বেরোবির বিজয়-২৪ হলে আধুনিকায়িত রিডিং রুম ও মসজিদ উদ্বোধন বিএনপি’র কান্ডারী ছাত্রনেতা তপন মাহমুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় মোহাম্মদপুরবাসী নওগাঁয় বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও মদ জব্দ আশুলিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের রহস্যজনক আত্মহত্যা পীরগঞ্জে দাদন ব্যবসায়ী জিয়ার আতঙ্কে শতাধিক পরিবার বরগুনায় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বেরোবিতে ‘ঐতিহ্য উৎসব’: একই মঞ্চে প্রাচীন মিশর ও বাংলার লোকসংস্কৃতি সিজারিয়ানের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
সাজাপ্রাপ্ত হয়েও দক্ষিণার বিনিময়ে পদোন্নতি

যশোর বিআরটিএ’র এডি জমির হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সরকারি চাকরিতে বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা-সংক্রান্ত ধারাবাহিকতায় কর্মচারীদের পদোন্নতি একটি স্বাভাবিক ও সর্বজনস্বীকৃত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যখন গুরুতর অপরাধ, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যে অভিযুক্ত কোনো সাজাপ্রাপ্ত কর্মচারী নিজের শাস্তি চেপে রেখে কিংবা প্রশাসনিক ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে মরিয়া হয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন, তখন পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ জমির হোসেন (পরিচিতি নং: ২০১৪২০০০১৫)-এর ক্ষেত্রে ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। হাতে-নাতে দুর্নীতি ও দালাল চক্রের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভাগীয় সাজা ও বরখাস্তের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তিনি পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (যশোর সার্কেল) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।

অভিযোগের পটভূমি: সরকারি আদেশ অমান্য ও হাতে-নাতে অভিযান
বিআরটিএ’র বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সার্কেল অফিসগুলোকে দালালমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। গত ০২ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে (স্মারক নং: ৩৫.০৩.০০০০.০০১.৩৩.০৪৬.২৩-১৯) বিআরটিএ’র সকল দপ্তরে দালাল প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি বিশেষ পরিপত্র প্রেরণ করা হয়।

তবে এই স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া)-এ কর্মরত থাকাকালে মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ জমির হোসেন দালালদের সাথে সরাসরি অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহযোগিতা বজায় রাখেন।

অভিযানের বিবরণ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বেলা ৩:৪৫ ঘটিকায় বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া) কেরাণীগঞ্জের অধীনে গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপোস্থ ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ড পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
দালাল আটক ও কারাদণ্ড: অভিযানকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের অফিস কক্ষ থেকে অনৈতিক লেনদেনের নগদ অর্থসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী দালালকে হাতে-নাতে আটক করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
শৃঙ্খলামূলক অপরাধ: তদন্তে মোটরযান পরিদর্শক জমির হোসেনের সাথে উক্ত দালাল চক্রের সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের সত্যতা মেলে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ২(খ) অনুযায়ী তা ‘অসদাচরণ’ এবং ৩(খ) অনুযায়ী গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি: অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গত ০৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই দিনে প্রকাশিত বদলি আদেশে (স্মারক নং ৩৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.১৭৬.২৪-৪৪৬) তাকে ঢাকা থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি করা হয়।
শাস্তি এড়াতে মোটা অঙ্কের উৎকোচ ও পদোন্নতির কারসাজি
সরকারি চাকরির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক অপরাধ প্রমাণিত হয় বা যারা সাময়িক বরখাস্ত হন, তাদের পদোন্নতি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত থাকার কথা। তবে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালেই শুরু হয় তার নেপথ্য তৎপরতা।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, বরখাস্তের আদেশ কাটানো এবং স্থগিত পদোন্নতি পুনর্বহাল করতে জমির হোসেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ সদর দপ্তরের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার সাথে চুক্তি করেন। মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাকে পদোন্নতির যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এই জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে কোনো বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী পরিচালক (যশোর সার্কেল) হিসেবে পদায়ন করা হয়।

বর্তমান চিত্র: দুই সার্কেলেই একই সিন্ডিকেট ও অনিয়ম
পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পদায়ন পাওয়ার পর মোহাম্মদ জমির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর সার্কেলের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক হিসেবেও ক্ষমতার চর্চা করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলেই তিনি তার অধীনস্থ মোটরযান পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)-দের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদান এবং রুট পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে থেকে পূর্বের ন্যায় বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
এসব গুরুতর অভিযোগ এবং নিয়ম বহির্ভূত পদোন্নতির বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে যশোর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জমির হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ পরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“জমির হোসেনের বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় শাস্তি ও চূড়ান্ত বরখাস্তের আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া উচিত ছিল। অথচ তা না করে উচ্চপদস্থ দুই-তিনজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অনৈতিকভাবে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া এবং যশোরের মতো স্পর্শকাতর সার্কেলেই পদায়ন নিশ্চিত করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য এক চরম বিপর্যয়।”

বিআরটিএ’র মতো নাগরিক সেবামূলক সংস্থায় সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতির আসামিদের পদোন্নতি ও পুনঃপদায়নে সাধারণ সেবাগ্রহীতা এবং সৎ কর্মকর্তাদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই অবৈধ পদোন্নতির বাতিল ও এর সাথে জড়িত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় মিথ্যা মামলার অভিযোগে সোনাহর আলীর সংবাদ সম্মেলন

সাজাপ্রাপ্ত হয়েও দক্ষিণার বিনিময়ে পদোন্নতি

যশোর বিআরটিএ’র এডি জমির হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:১৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা-সংক্রান্ত ধারাবাহিকতায় কর্মচারীদের পদোন্নতি একটি স্বাভাবিক ও সর্বজনস্বীকৃত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যখন গুরুতর অপরাধ, দুর্নীতি ও নৈরাজ্যে অভিযুক্ত কোনো সাজাপ্রাপ্ত কর্মচারী নিজের শাস্তি চেপে রেখে কিংবা প্রশাসনিক ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে মরিয়া হয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন, তখন পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ জমির হোসেন (পরিচিতি নং: ২০১৪২০০০১৫)-এর ক্ষেত্রে ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। হাতে-নাতে দুর্নীতি ও দালাল চক্রের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভাগীয় সাজা ও বরখাস্তের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তিনি পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (যশোর সার্কেল) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।

অভিযোগের পটভূমি: সরকারি আদেশ অমান্য ও হাতে-নাতে অভিযান
বিআরটিএ’র বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সার্কেল অফিসগুলোকে দালালমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। গত ০২ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে (স্মারক নং: ৩৫.০৩.০০০০.০০১.৩৩.০৪৬.২৩-১৯) বিআরটিএ’র সকল দপ্তরে দালাল প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি বিশেষ পরিপত্র প্রেরণ করা হয়।

তবে এই স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া)-এ কর্মরত থাকাকালে মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ জমির হোসেন দালালদের সাথে সরাসরি অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহযোগিতা বজায় রাখেন।

অভিযানের বিবরণ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বেলা ৩:৪৫ ঘটিকায় বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া) কেরাণীগঞ্জের অধীনে গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপোস্থ ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ড পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
দালাল আটক ও কারাদণ্ড: অভিযানকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের অফিস কক্ষ থেকে অনৈতিক লেনদেনের নগদ অর্থসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী দালালকে হাতে-নাতে আটক করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
শৃঙ্খলামূলক অপরাধ: তদন্তে মোটরযান পরিদর্শক জমির হোসেনের সাথে উক্ত দালাল চক্রের সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের সত্যতা মেলে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ২(খ) অনুযায়ী তা ‘অসদাচরণ’ এবং ৩(খ) অনুযায়ী গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি: অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গত ০৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই দিনে প্রকাশিত বদলি আদেশে (স্মারক নং ৩৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.১৭৬.২৪-৪৪৬) তাকে ঢাকা থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি করা হয়।
শাস্তি এড়াতে মোটা অঙ্কের উৎকোচ ও পদোন্নতির কারসাজি
সরকারি চাকরির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক অপরাধ প্রমাণিত হয় বা যারা সাময়িক বরখাস্ত হন, তাদের পদোন্নতি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত থাকার কথা। তবে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালেই শুরু হয় তার নেপথ্য তৎপরতা।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, বরখাস্তের আদেশ কাটানো এবং স্থগিত পদোন্নতি পুনর্বহাল করতে জমির হোসেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ সদর দপ্তরের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার সাথে চুক্তি করেন। মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাকে পদোন্নতির যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এই জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে কোনো বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী পরিচালক (যশোর সার্কেল) হিসেবে পদায়ন করা হয়।

বর্তমান চিত্র: দুই সার্কেলেই একই সিন্ডিকেট ও অনিয়ম
পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পদায়ন পাওয়ার পর মোহাম্মদ জমির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর সার্কেলের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক হিসেবেও ক্ষমতার চর্চা করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলেই তিনি তার অধীনস্থ মোটরযান পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)-দের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদান এবং রুট পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে থেকে পূর্বের ন্যায় বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
এসব গুরুতর অভিযোগ এবং নিয়ম বহির্ভূত পদোন্নতির বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে যশোর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জমির হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ পরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“জমির হোসেনের বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় শাস্তি ও চূড়ান্ত বরখাস্তের আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া উচিত ছিল। অথচ তা না করে উচ্চপদস্থ দুই-তিনজন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অনৈতিকভাবে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া এবং যশোরের মতো স্পর্শকাতর সার্কেলেই পদায়ন নিশ্চিত করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য এক চরম বিপর্যয়।”

বিআরটিএ’র মতো নাগরিক সেবামূলক সংস্থায় সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতির আসামিদের পদোন্নতি ও পুনঃপদায়নে সাধারণ সেবাগ্রহীতা এবং সৎ কর্মকর্তাদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই অবৈধ পদোন্নতির বাতিল ও এর সাথে জড়িত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।