ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জ্বালানির দাম বাড়লেও বৈরী আবহাওয়ায় সবজির বাজার স্থিতিশীল

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়লে তার আঁচ সাধারণত বাজারের নিত্যপণ্যে সরাসরি পড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে কাঁচাবাজারের দরদামও বেড়ে যাওয়াটাই প্রচলিত নিয়ম। তবে এবার সেই চেনা সমীকরণ উল্টে দিয়েছে প্রকৃতি। জ্বালানির দাম বাড়ার এক সপ্তাহ পার হলেও বৈরী আবহাওয়ায় সবজির দাম বাড়েনি।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দামে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত শুক্রবার যেসব সবজি ১০০ টাকার উপরে ছিল, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। তবে এর মধ্যে কিছু সবজির দাম বাড়তির দিকেও রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কালো গোল বেগুন ১০০ টাকায় এবং সাদা গোল ও কালো লম্বা বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোল (হাইব্রিড) ৭০ টাকা ও দেশি পটোল ১০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙা কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সব ধরনের বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং অন্য সবজিগুলো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। সে সময় দেশি পটোলের দাম ছিল ১২০ টাকা।

অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং করলা ও উস্তা যথাক্রমে ৬০ ও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। কচুরমুখী আগের সপ্তাহের মতোই ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে চালকুমড়া ও কচুর লতি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে ছোট আকারের কাঁচা কলার হালি ৩০ টাকা ও বড় সাইজের হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা কম। লাউয়ের দামও পিসপ্রতি ১০ টাকা কমে আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে। লেবুর হালি আগের মতোই ২০ টাকায় স্থির আছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্রবার ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

শীতকালীন সবজির মধ্যে শিমের দাম ১০ টাকা কমে ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি পিসপ্রতি ৬০-৮০ টাকা এবং মুলা ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা এবং রসুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টির প্রভাবে টমেটো, গাজর ও শসার দাম কিছুটা বেড়েছে। টমেটো ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। দেশি গাজর ও শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ৭০-৮০ টাকা এবং ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মানিকনগর বাজারের ক্রেতা রহমত উল্লাহ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির দাম এখন কম রয়েছে। ভেবেছিলাম সবজি বিক্রেতারাও তেলের দাম বাড়ার অযুহাতে সবজির দামও বাড়িয়ে দেবেন। তবে এখনো বাজারে সবজির দাম বাড়েনি। বৃষ্টি কমলে কয়েকদিন পর দাম স্বাভাবিক থাকবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

অন্যদিকে আমিষের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানি মুরগি ৩৫০ টাকা, ছোট কক ৩৬০ টাকা ও বড় কক ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা। প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১৩০ টাকা ও সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালী জেটিঘাট জরাজীর্ণ: ঝুঁকিতে হাজারো যাত্রী, দ্রুত সংস্কারের দাবি

জ্বালানির দাম বাড়লেও বৈরী আবহাওয়ায় সবজির বাজার স্থিতিশীল

আপডেট সময় ০৬:৩১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়লে তার আঁচ সাধারণত বাজারের নিত্যপণ্যে সরাসরি পড়ে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে কাঁচাবাজারের দরদামও বেড়ে যাওয়াটাই প্রচলিত নিয়ম। তবে এবার সেই চেনা সমীকরণ উল্টে দিয়েছে প্রকৃতি। জ্বালানির দাম বাড়ার এক সপ্তাহ পার হলেও বৈরী আবহাওয়ায় সবজির দাম বাড়েনি।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দামে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত শুক্রবার যেসব সবজি ১০০ টাকার উপরে ছিল, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। তবে এর মধ্যে কিছু সবজির দাম বাড়তির দিকেও রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কালো গোল বেগুন ১০০ টাকায় এবং সাদা গোল ও কালো লম্বা বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোল (হাইব্রিড) ৭০ টাকা ও দেশি পটোল ১০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙা কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সব ধরনের বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং অন্য সবজিগুলো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। সে সময় দেশি পটোলের দাম ছিল ১২০ টাকা।

অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং করলা ও উস্তা যথাক্রমে ৬০ ও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। কচুরমুখী আগের সপ্তাহের মতোই ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে চালকুমড়া ও কচুর লতি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে ছোট আকারের কাঁচা কলার হালি ৩০ টাকা ও বড় সাইজের হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা কম। লাউয়ের দামও পিসপ্রতি ১০ টাকা কমে আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে। লেবুর হালি আগের মতোই ২০ টাকায় স্থির আছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্রবার ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

শীতকালীন সবজির মধ্যে শিমের দাম ১০ টাকা কমে ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি পিসপ্রতি ৬০-৮০ টাকা এবং মুলা ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা এবং রসুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টির প্রভাবে টমেটো, গাজর ও শসার দাম কিছুটা বেড়েছে। টমেটো ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। দেশি গাজর ও শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ৭০-৮০ টাকা এবং ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মানিকনগর বাজারের ক্রেতা রহমত উল্লাহ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির দাম এখন কম রয়েছে। ভেবেছিলাম সবজি বিক্রেতারাও তেলের দাম বাড়ার অযুহাতে সবজির দামও বাড়িয়ে দেবেন। তবে এখনো বাজারে সবজির দাম বাড়েনি। বৃষ্টি কমলে কয়েকদিন পর দাম স্বাভাবিক থাকবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

অন্যদিকে আমিষের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানি মুরগি ৩৫০ টাকা, ছোট কক ৩৬০ টাকা ও বড় কক ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা। প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১৩০ টাকা ও সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।