সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

মহেশখালী জেটিঘাট জরাজীর্ণ: ঝুঁকিতে হাজারো যাত্রী, দ্রুত সংস্কারের দাবি

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর হাজারো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই জেটিঘাট। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটিই এখন চরম জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

১৯৮৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি)-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই জেটিঘাটটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সংস্কার বা উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে জেটির বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের জন্য।

ঘাটের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে গিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন কোনো পরিত্যক্ত ভগ্নপ্রায় স্থাপনার ধ্বংস্তপ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই জেটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো মানুষ, যেখানে সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

ঘাটের যাত্রীরা বলেনঃ প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও উদাসীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, যেকোনো সময় জেটির অংশ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। দ্রুত সংস্কার না হলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে শুধু সংস্কারই নয়,ঘাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।

স্পীড বোট চালকরা জানানঃ জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যাত্রী ওঠানামা করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওয়াকিল জানান, ১৯৮৬ সালে নির্মাণের পর থেকে এটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘাটটি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং এলজিডি অফিসেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। সব তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের হবে

তবে বাস্তবতা বলছে, দীর্ঘসূত্রতা আর প্রশাসনিক জটিলতায় যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মুখ না দেখে, তাহলে মহেশখালী জেটিঘাটে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, এখন আর আশ্বাস নয় প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

মহেশখালী জেটিঘাট জরাজীর্ণ: ঝুঁকিতে হাজারো যাত্রী, দ্রুত সংস্কারের দাবি

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর হাজারো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই জেটিঘাট। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটিই এখন চরম জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

১৯৮৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি)-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই জেটিঘাটটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সংস্কার বা উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে জেটির বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের জন্য।

ঘাটের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে গিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন কোনো পরিত্যক্ত ভগ্নপ্রায় স্থাপনার ধ্বংস্তপ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই জেটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো মানুষ, যেখানে সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

ঘাটের যাত্রীরা বলেনঃ প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও উদাসীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, যেকোনো সময় জেটির অংশ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। দ্রুত সংস্কার না হলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে শুধু সংস্কারই নয়,ঘাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।

স্পীড বোট চালকরা জানানঃ জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যাত্রী ওঠানামা করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওয়াকিল জানান, ১৯৮৬ সালে নির্মাণের পর থেকে এটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘাটটি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং এলজিডি অফিসেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। সব তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের হবে

তবে বাস্তবতা বলছে, দীর্ঘসূত্রতা আর প্রশাসনিক জটিলতায় যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মুখ না দেখে, তাহলে মহেশখালী জেটিঘাটে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, এখন আর আশ্বাস নয় প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরি