ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে আমুভূঞার হাট-চন্দ্রদ্বীপ সংযোগ সড়ক-সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ২ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার ৪৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন আরসিসি গার্ডার সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়াল ও সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় পুরো সেতুটি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‌‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজ প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজটি করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ড ওয়ালের নিচের মাটি সরে গেছে এবং সংযোগ সড়কের কয়েক স্থানে বড় ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গিয়ে কার্পেটিং ভেঙে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখনো কাজ পুরো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই যদি রাস্তা ধসে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমন নিম্নমানের কাজ মানুষ মেনে নিতে পারছে না।

আমুভূঞার হাটের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে গেছে। মানুষ খুব ভয় নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় যুবক মো. রুবেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সঠিকভাবে মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন করা হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে এই অবস্থা হয়েছে।

পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর নবী বলেন, হেমন্তের জন্য করা কাজ বর্ষায় কি টিকবে? এখনই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে পুরো রাস্তা ভেঙে যাবে।

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে দাগনভূঞা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা প্রকল্পের গুণগতমান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ৪ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস, এক জেলায় পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু

আপডেট সময় ০৭:০২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নে আমুভূঞার হাট-চন্দ্রদ্বীপ সংযোগ সড়ক-সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ২ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার ৪৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন আরসিসি গার্ডার সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়াল ও সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় পুরো সেতুটি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‌‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজ প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজটি করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ড ওয়ালের নিচের মাটি সরে গেছে এবং সংযোগ সড়কের কয়েক স্থানে বড় ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গিয়ে কার্পেটিং ভেঙে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখনো কাজ পুরো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই যদি রাস্তা ধসে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমন নিম্নমানের কাজ মানুষ মেনে নিতে পারছে না।

আমুভূঞার হাটের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে গেছে। মানুষ খুব ভয় নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় যুবক মো. রুবেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সঠিকভাবে মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন করা হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে এই অবস্থা হয়েছে।

পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর নবী বলেন, হেমন্তের জন্য করা কাজ বর্ষায় কি টিকবে? এখনই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে পুরো রাস্তা ভেঙে যাবে।

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ৩ কোটি টাকার সড়ক-সেতু

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে দাগনভূঞা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা প্রকল্পের গুণগতমান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।