ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ মাস কারাবন্দি, জামিন চাইলেন তৌফিক-ই ইলাহী

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন চেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী।

রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ নিয়ে শুনানি হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

তৌফিক-ই ইলাহীর জামিন চেয়ে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী খোকন বলেন, আমার ক্লায়েন্ট তৌফিক-ই ইলাহী শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৪ দলের কেউ নন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও তিনি এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিলে জামিন পেতে পারেন। তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত।

এ সময় চিফ প্রসিকিউটরকে শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল। তিনি আরও সময় চান। এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী খোকন  বলেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হন তৌফিক-ই ইলাহী। ট্রাইব্যুনালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় একই বছরের ২৭ অক্টোবর। আইসিটির আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদি না দিতে পারে তাহলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। ‘প্রাইমা ফেসি’ না থাকলে অব্যাহতিও দিতে পারেন আদালত। এছাড়া উপদেষ্টার পদটি কোনো নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ে না। শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ উপদেশ সরকার পালন করতেও পারে নাও করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল আমাদের কথা শুনেছেন। জামিন আবেদন খারিজও করেননি। তবে আমলে নিয়ে পরবর্তী তারিখে শুনবেন বলে আশা করছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭ মাস কারাবন্দি, জামিন চাইলেন তৌফিক-ই ইলাহী

আপডেট সময় ০২:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন চেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী।

রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ নিয়ে শুনানি হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

তৌফিক-ই ইলাহীর জামিন চেয়ে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী খোকন বলেন, আমার ক্লায়েন্ট তৌফিক-ই ইলাহী শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৪ দলের কেউ নন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও তিনি এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিলে জামিন পেতে পারেন। তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত।

এ সময় চিফ প্রসিকিউটরকে শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল। তিনি আরও সময় চান। এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী খোকন  বলেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হন তৌফিক-ই ইলাহী। ট্রাইব্যুনালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় একই বছরের ২৭ অক্টোবর। আইসিটির আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, গ্রেপ্তারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদি না দিতে পারে তাহলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ট্রাইব্যুনালের। ‘প্রাইমা ফেসি’ না থাকলে অব্যাহতিও দিতে পারেন আদালত। এছাড়া উপদেষ্টার পদটি কোনো নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ে না। শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ উপদেশ সরকার পালন করতেও পারে নাও করতে পারে। ট্রাইব্যুনাল আমাদের কথা শুনেছেন। জামিন আবেদন খারিজও করেননি। তবে আমলে নিয়ে পরবর্তী তারিখে শুনবেন বলে আশা করছি।