ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে আয়ান, খায়রুল ও মতিউর কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বালিয়াডাঙ্গী মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বার্ষিক বনভোজন  -২০২৬ অনুষ্ঠিত অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে ফরম্যাট বদলাতেই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, সমস্যা দেখেন না লিটন মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় সাফ ও বিদেশি কোটার ২ জন করে বিদেশি নেওয়ার প্রস্তাব

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুন, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সাড়ে ১৪ বছর আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামী সায়েদ আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সায়েদকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভিকটিমের ছেলেকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় সায়েদ ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে, ২০১০ সালের ২৫ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগম। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ যৌতুকের টাকা এবং রেহানার নামে থাকা বাড়ি লিখে দিতে মারধর করতো। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার মা রেজিয়া বেগম মেয়ের নামে কামরাঙ্গীরচরে কিনে দেওয়া বাড়িতে যান। অনেক সময় ডাকাডাকির পর সায়েদ দরজা খুলে দেয়। রেজিয়া বেগম সেখানে সায়েদ ও তার ভাই শফি আহমেদকে দেখতে পান। রেহানাকে দেখতে পান, ছেলেকে নিয়ে শুয়ে আছে। তাকে জাগানোর জন্য গায়ে হাত দিলে দেখেন, ঠান্ডা এবং মুখে লাল লাল দাগ। শ্বাস নিচ্ছে না দেখে চিৎকার করে রেজিয়া। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে সায়েদ ও শফি তাতে বাধা দেন। সেখানে কুলসুমা নামে একজন রেজিয়াকে জানান, যৌতুক হিসেবে বাড়ি লিখে দিতে ঝগড়া করতো। ওই দিন সকাল থেকে তারা রেহানাকে মারধর করেছে। মেয়ের মৃত্যুর কথা শুনে জ্ঞান হারান রেজিয়া। জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, রেহানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সায়েদ ও শফি জানান, রেহানা স্ট্রোক করেছে। তাকে তাড়াহুড়ো করে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করে। রেজিয়া কামরাঙ্গীরচর থানায় যান মামলা করতে। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি। পরে রেজিয়া ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সায়েদ ও শফির নামে মামলা করেন।

ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। রেহানার মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা যেতে পারে মর্মে মতামত দিয়ে ১৬ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ পর্যায়ে রেজিয়া এ বিষয়ে নারাজি দাখিল করলে আদালত মামলাটি সিআইডি পুলিশকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।

সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্ত করে সায়েদকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে শফির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাননি তিনি। এরপর সায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুন, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১২:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সাড়ে ১৪ বছর আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামী সায়েদ আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সায়েদকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভিকটিমের ছেলেকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় সায়েদ ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে, ২০১০ সালের ২৫ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগম। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ যৌতুকের টাকা এবং রেহানার নামে থাকা বাড়ি লিখে দিতে মারধর করতো। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার মা রেজিয়া বেগম মেয়ের নামে কামরাঙ্গীরচরে কিনে দেওয়া বাড়িতে যান। অনেক সময় ডাকাডাকির পর সায়েদ দরজা খুলে দেয়। রেজিয়া বেগম সেখানে সায়েদ ও তার ভাই শফি আহমেদকে দেখতে পান। রেহানাকে দেখতে পান, ছেলেকে নিয়ে শুয়ে আছে। তাকে জাগানোর জন্য গায়ে হাত দিলে দেখেন, ঠান্ডা এবং মুখে লাল লাল দাগ। শ্বাস নিচ্ছে না দেখে চিৎকার করে রেজিয়া। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে সায়েদ ও শফি তাতে বাধা দেন। সেখানে কুলসুমা নামে একজন রেজিয়াকে জানান, যৌতুক হিসেবে বাড়ি লিখে দিতে ঝগড়া করতো। ওই দিন সকাল থেকে তারা রেহানাকে মারধর করেছে। মেয়ের মৃত্যুর কথা শুনে জ্ঞান হারান রেজিয়া। জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, রেহানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সায়েদ ও শফি জানান, রেহানা স্ট্রোক করেছে। তাকে তাড়াহুড়ো করে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করে। রেজিয়া কামরাঙ্গীরচর থানায় যান মামলা করতে। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি। পরে রেজিয়া ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সায়েদ ও শফির নামে মামলা করেন।

ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। রেহানার মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা যেতে পারে মর্মে মতামত দিয়ে ১৬ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ পর্যায়ে রেজিয়া এ বিষয়ে নারাজি দাখিল করলে আদালত মামলাটি সিআইডি পুলিশকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।

সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্ত করে সায়েদকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে শফির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাননি তিনি। এরপর সায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।