ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্ট চালুর পায়তারা, জ্বালানি বিভাগে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের তদবির দিরাইয়ের ওসির বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কুরিয়ার অফিস থেকে পার্সেল নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার ভুয়া চুক্তিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপের মানববন্ধন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে প্রশাসকের শুভেচ্ছা বিনিময় পবিপ্রবির পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর এনবিআরে যোগ দিতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র জাল নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রামে ৪ ভবনের অংশ ভাঙল সিডিএ, সিলগালা ২টি

‘এই সাদা গেঞ্জি পরেই ও আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে’

সাদা গেঞ্জি পড়া রানা। এই সাদা গেঞ্জি পরেই ও আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে।’ কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে দেখিয়ে নিহতের মা এ কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে দাঁড়িয়ে গ্রেপ্তার আসামি রানাকে দেখিয়ে একথা বলেন নিহত ইমনের মা ফেরদৌসী।

গত ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে  বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মিলে ইমনকে কুপিয়ে আহত করে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার মা ফেরদৌসী মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটা সারা বাংলাদেশের আলোচিত ঘটনা। এলেক্স গ্রুপের প্রধান এলেক্স ইমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামিরা সবাই এজাহারনামীয় আসামি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামিদের মধ্যে তুহিন, সাঈদ ও রাব্বির পক্ষে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম (শফিক) রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আসামিদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়নি। তারা ঘটনাস্থলে ছিল না।

মামলার বাদী বলেছেন, তারা ঘটনাস্থলে ছিল না। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন। প্রয়োজনে তার কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

এসময় বাদী ফেরদৌসীকে ডাকেন বিচারক। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,’ওই তিন জন (তুহিন, সাঈদ ও রাব্বি) ঘটনারসঙ্গে জড়িত না। তারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কিন্তু বাকিরা ওদেরকে আমার ছেলের কাছে যেতে দেয়নি। কাঠগড়ায় আসামি রানাকে দেখিয়ে ফেরদৌসী বলেন, ওই সাদা গেঞ্জি পরা লোকটা। এই সাদা গেঞ্জি পড়েই আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে। পরে আদালত এই ছয় আসামির চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে এলেক্স ইমনকে বাসায় রাখা মাছ নিয়ে আসতে সংবাদ পাঠায় তার শ্বশুড়। মাছ আনতে বাইরে যায় সে। বাসা থেকে বের হয়ে আড্ডা দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মোহাম্মদপুরের বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে পৌঁছালেই পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারায় এলেক্স ইমন। আশপাশের লোকজনের খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন তার মা ফেরদৌসী মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য

‘এই সাদা গেঞ্জি পরেই ও আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে’

আপডেট সময় ০৭:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সাদা গেঞ্জি পড়া রানা। এই সাদা গেঞ্জি পরেই ও আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে।’ কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে দেখিয়ে নিহতের মা এ কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে দাঁড়িয়ে গ্রেপ্তার আসামি রানাকে দেখিয়ে একথা বলেন নিহত ইমনের মা ফেরদৌসী।

গত ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে  বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মিলে ইমনকে কুপিয়ে আহত করে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার মা ফেরদৌসী মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটা সারা বাংলাদেশের আলোচিত ঘটনা। এলেক্স গ্রুপের প্রধান এলেক্স ইমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামিরা সবাই এজাহারনামীয় আসামি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামিদের মধ্যে তুহিন, সাঈদ ও রাব্বির পক্ষে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম (শফিক) রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আসামিদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়নি। তারা ঘটনাস্থলে ছিল না।

মামলার বাদী বলেছেন, তারা ঘটনাস্থলে ছিল না। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন। প্রয়োজনে তার কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

এসময় বাদী ফেরদৌসীকে ডাকেন বিচারক। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,’ওই তিন জন (তুহিন, সাঈদ ও রাব্বি) ঘটনারসঙ্গে জড়িত না। তারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কিন্তু বাকিরা ওদেরকে আমার ছেলের কাছে যেতে দেয়নি। কাঠগড়ায় আসামি রানাকে দেখিয়ে ফেরদৌসী বলেন, ওই সাদা গেঞ্জি পরা লোকটা। এই সাদা গেঞ্জি পড়েই আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে। পরে আদালত এই ছয় আসামির চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে এলেক্স ইমনকে বাসায় রাখা মাছ নিয়ে আসতে সংবাদ পাঠায় তার শ্বশুড়। মাছ আনতে বাইরে যায় সে। বাসা থেকে বের হয়ে আড্ডা দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মোহাম্মদপুরের বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে পৌঁছালেই পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারায় এলেক্স ইমন। আশপাশের লোকজনের খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন তার মা ফেরদৌসী মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের করেন।