চাকরি পাওয়ার আনন্দ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) যোগ দিতে এসেছিলেন এক যুবক। কিন্তু কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর হাতে থাকা নিয়োগপত্রটি জাল। এতে চাকরির আশায় থাকা ওই যুবকের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ ঘটনা সামনে আসে। চাকরিপ্রার্থী মো. সৌভিক রহমান ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে যোগদান করতে এসে জানতে পারেন, তাঁর নিয়োগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্রগুলো জাল। ভুয়া নিয়োগপত্র দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
এ বিষয়ে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, এনবিআরের লোগো ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা ওই নিয়োগপত্রে রাজস্ব খাতের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে ১৬তম গ্রেডে আটজন প্রার্থীর নাম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চাকরি দেওয়ার কথা বলে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, জাল নিয়োগপত্রে মেধাক্রম অনুসারে মাকসুদা আক্তার মুক্তি, সাথী রানী দাস, মো. আবু সাইম, মো. আকতার হোসেন, সিদ্দিকুর রহমান, মো. সৌভিক রহমান, মো. মাসুদ রানা ও মো. ইউসুফ আলীর নাম রয়েছে।
তালিকায় থাকা সৌভিক রহমান মঙ্গলবার সকালে ওই নিয়োগপত্র নিয়ে এনবিআরে যোগদান করতে হাজির হন। পরে বোর্ডে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তাঁর নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পদে কোনো নিয়োগপ্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেনি এনবিআর। পুরো নিয়োগপত্রটিই ভুয়া।
প্রতারণার এ ঘটনায় চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে সরকারি স্মারক নম্বর, ওয়েবসাইটের তথ্য এবং এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমানের নাম ও স্বাক্ষর জাল করেছে বলে জানা গেছে। নিয়োগপত্রে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শর্তও যুক্ত করা হয়েছিল, যাতে প্রার্থীরা সহজে সন্দেহ না করেন।
দেশের বিভিন্ন এলাকার বেকার চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্য করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























