ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনবিআরে যোগ দিতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র জাল নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রামে ৪ ভবনের অংশ ভাঙল সিডিএ, সিলগালা ২টি বরগুনায় ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াবে বাংলাদেশ, বাস্তবে লাভ কতটা? চার বছরে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা লোকসান, তবু লভ্যাংশ ঘোষণা তিতাসের মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের চুক্তি সই, নির্মিত হবে ৮ স্টেশন জুলাই হত্যা মামলার আসামিরাও ডিএনসিসির বড় ঠিকাদার, ৫ আ.লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানে ৮০৫ কোটি টাকার কাজ ময়মনসিংহে মিনহাজুল ইসলাম রাসুর নেতৃত্বে যুবদলের আনন্দ র‍্যালি পার্বতীপুরে রেলওয়ের লোকোমোটিভ কারখানায় ক্যাবল চুরি, শ্রমিকের কারাদণ্ড বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের চুক্তি সই, নির্মিত হবে ৮ স্টেশন

রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় মোট ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, দুটি মেট্রোরেলের ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা, প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায় পাতাল থেকে উড়ালপথে ওঠার স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণের সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তিও হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজট কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এনবিআরে যোগ দিতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র জাল

মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের চুক্তি সই, নির্মিত হবে ৮ স্টেশন

আপডেট সময় ০৮:০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় মোট ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, দুটি মেট্রোরেলের ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা, প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায় পাতাল থেকে উড়ালপথে ওঠার স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণের সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তিও হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজট কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।