ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

জুলাইয়ে পলকের নির্দেশেই বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এক জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ মামলায় পলক ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। পলাতক থাকায় তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ফোন করেন তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয় যে- বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে সাক্ষীকে নির্দেশ দেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর থেকে একটি গ্রুপ খোলেন এই কর্মকর্তা।

আইটিসি অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইংরেজিতে খোলা গ্রুপটির নাম ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এতে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটিডের খালিদ, ফাইবার এটহোমের মশিউর, নভোকম-এর আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএল-এর আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসি,-এর ওহাব।

গ্রুপটি খোলার পরই মহাপরিচালককে জানান বিটিআরসির এই কর্মকর্তা। এরপর তিনি (কাজী মোস্তাফিজুর রহমান) গ্রুপে কল দেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

তিনি জানান, গ্রুপ কলে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাটি জানান বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক। এরপর ওই দিনই তথা ১৮ জুলাই রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

সাক্ষী বলেন, ২৩ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভা ডাকেন জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে (যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনম্যান্ট ইত্যাদি) সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন তৎকালীন এই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

জুলাইয়ে পলকের নির্দেশেই বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট

আপডেট সময় ০৫:২১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এক জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ মামলায় পলক ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। পলাতক থাকায় তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ফোন করেন তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয় যে- বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে সাক্ষীকে নির্দেশ দেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর থেকে একটি গ্রুপ খোলেন এই কর্মকর্তা।

আইটিসি অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইংরেজিতে খোলা গ্রুপটির নাম ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এতে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটিডের খালিদ, ফাইবার এটহোমের মশিউর, নভোকম-এর আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএল-এর আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসি,-এর ওহাব।

গ্রুপটি খোলার পরই মহাপরিচালককে জানান বিটিআরসির এই কর্মকর্তা। এরপর তিনি (কাজী মোস্তাফিজুর রহমান) গ্রুপে কল দেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

তিনি জানান, গ্রুপ কলে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাটি জানান বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক। এরপর ওই দিনই তথা ১৮ জুলাই রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

সাক্ষী বলেন, ২৩ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভা ডাকেন জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে (যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনম্যান্ট ইত্যাদি) সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালু করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন তৎকালীন এই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।