ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে আয়ান, খায়রুল ও মতিউর কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বালিয়াডাঙ্গী মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বার্ষিক বনভোজন  -২০২৬ অনুষ্ঠিত অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে ফরম্যাট বদলাতেই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, সমস্যা দেখেন না লিটন মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় সাফ ও বিদেশি কোটার ২ জন করে বিদেশি নেওয়ার প্রস্তাব

সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করেছে লামা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী

রাশেদুল ইসলাম গাছ কাটার কতই না কায়দা! কিন্তু এবার গাছ মারার এক অমানবিক ও অভিনব কৌশল দেখা গেল বান্দরবানের লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অফিসের আঙিনায় থাকা বিশাল সব শিল কড়ই গাছ মারতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুটন্ত গরম পানি। গাছ মরে যাওয়ার পর খুব ভোরে সেগুলো কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে খোদ অফিসের অসাধু চক্র।

অভিযোগের তির লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী এবং ইলেকট্রিশিয়ান শেখ নাছিরের দিকে। কৌশলটা বেশ অভিনব- প্রথমে গাছের গোড়ায় নিয়মিত ঢালা হয় ফুটন্ত গরম পানি। শিকড় সেদ্ধ হয়ে গাছ যখন মরে যায়, তখনই শুরু হয় কাটার উৎসব।

নির্মাণাধীন ভবনের দোহাই দিয়ে সম্প্রতি বিনা টেন্ডারে সাবাড় করা হয়েছে প্রায় ৯টি মূল্যবান শিল কড়ই গাছ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন খুব ভোরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এসব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আর সেই বিক্রির টাকায় অফিসে নিজের নাম বরাদ্দকৃত টিনের ঘরে এসি লাগানোর বিলাসিতাও দেখিয়েছেন অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান নাছির।

পুরো ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর নাম আসলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারি সম্পদ বিনা টেন্ডারে কাটার কোনো বিধান নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার শাস্তি থেকে বাঁচতে প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী এবং ইলেকট্রিশিয়ান শেখ নাছির উর্ধ্বতনদের কাছে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।

সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে শেখ নাছির দাবি করেছেন, গাছ কাটার ঘটনায় তিনি ও গৌতম চৌধুরী দুজনে মিলে চট্টগ্রাম গিয়ে চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে ম্যানেজ করে এসেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করেছে লামা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী

আপডেট সময় ০৩:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাশেদুল ইসলাম গাছ কাটার কতই না কায়দা! কিন্তু এবার গাছ মারার এক অমানবিক ও অভিনব কৌশল দেখা গেল বান্দরবানের লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অফিসের আঙিনায় থাকা বিশাল সব শিল কড়ই গাছ মারতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুটন্ত গরম পানি। গাছ মরে যাওয়ার পর খুব ভোরে সেগুলো কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে খোদ অফিসের অসাধু চক্র।

অভিযোগের তির লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী এবং ইলেকট্রিশিয়ান শেখ নাছিরের দিকে। কৌশলটা বেশ অভিনব- প্রথমে গাছের গোড়ায় নিয়মিত ঢালা হয় ফুটন্ত গরম পানি। শিকড় সেদ্ধ হয়ে গাছ যখন মরে যায়, তখনই শুরু হয় কাটার উৎসব।

নির্মাণাধীন ভবনের দোহাই দিয়ে সম্প্রতি বিনা টেন্ডারে সাবাড় করা হয়েছে প্রায় ৯টি মূল্যবান শিল কড়ই গাছ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন খুব ভোরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এসব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আর সেই বিক্রির টাকায় অফিসে নিজের নাম বরাদ্দকৃত টিনের ঘরে এসি লাগানোর বিলাসিতাও দেখিয়েছেন অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান নাছির।

পুরো ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর নাম আসলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারি সম্পদ বিনা টেন্ডারে কাটার কোনো বিধান নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার শাস্তি থেকে বাঁচতে প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী এবং ইলেকট্রিশিয়ান শেখ নাছির উর্ধ্বতনদের কাছে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।

সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে শেখ নাছির দাবি করেছেন, গাছ কাটার ঘটনায় তিনি ও গৌতম চৌধুরী দুজনে মিলে চট্টগ্রাম গিয়ে চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে ম্যানেজ করে এসেছেন।