ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যুবায়েত–রফিকুলের তদারকিতে ত্রিশাল সড়ক ধোঁকা

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এখন স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে চেলেরঘাট–আমতলী জিসি রোড ভায়া চান্দেরটেকি পর্যন্ত ২.৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি কাগজে-কলমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হলেও ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের অগ্রগতি ও মান নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, কর্মকর্তারা বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এই দুজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদ কোটি টাকার ওপর, যা প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

প্রকল্পের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, উন্নতমানের পেভমেন্ট ও সারফেসিংয়ের জন্য ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো স্থানে তা পাওয়া যায়নি। বরং রাস্তার বিভিন্ন অংশে বালুর বদলে সরাসরি মাটি ব্যবহার এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে নির্মিত হলে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

রাস্তার সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও—যেমন ২২ লাখ টাকা সুরক্ষা কাজের জন্য এবং ৮ লাখ টাকা গাইডওয়াল ও নিরাপত্তা চিহ্নের জন্য—বাস্তবে কোনো সুরক্ষা অবকাঠামো দেখা যায়নি। স্থানীয়রা এটিকে অর্থের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন এবং প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতাকেও দায়ী করছেন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, “আলম” নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ দেখানো হলেও সরকারি নথিতে তার অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রকৃত ঠিকাদার কে, তা আজও রহস্য। এলাকাবাসীর ধারণা, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো আড়ালের বা বেনামি ঠিকাদারি ব্যবস্থা থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কাজের ধীরগতি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তবে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে এবং তা নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে করা হয়েছে। এই দ্বৈত তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। একদিকে প্রশাসনিক দাবি, অন্যদিকে জনগণের অভিজ্ঞতা—এই পার্থক্য প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।

উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি খুব কম। এ ধরনের তদারকি না থাকা এবং শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখানোর অভিযোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলেও, প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির অন্যান্য স্তরেরও ভূমিকা থাকে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের দীর্ঘসময় ধরে অসম্পূর্ণ থাকা তাদের দৈনন্দিন চলাচলকে দুর্বিষহ করেছে। বর্ষাকালে কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি চলাচল ব্যাহত করছে। এলাকার মানুষজন মনে করছেন, বরাদ্দ অর্থ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি মিলছে না। তারা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দ, ব্যবহৃত উপকরণের মান, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া এবং কাজের অগ্রগতি—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, তদন্তে প্রকৃত চিত্র সামনে এলে দায় নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম এড়ানো সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের কোটি টাকার সম্পদের তথ্যও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। তারা মনে করছেন, ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রকল্পের অগ্রগতি ও মান নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে এই সম্পদের উৎস এবং প্রকৃততা যাচাই করা ছাড়া দোষী বা সুবিধাভোগী নির্ধারণ সম্ভব নয়।

এদিকে প্রশাসনিক মহল এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা তদন্তের ঘোষণা দেয়নি। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয়দের একাংশ আশাবাদী যে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে নজরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ত্রিশালের এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দক্ষতার প্রতীক। উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এখন সময়ের দাবি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে একটি নিরপেক্ষ সরকারি তদন্তের ওপর, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত অবস্থা এবং দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ অর্থ, ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তাদের তদারকি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তি—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে জনমনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্নীতি এড়ানো সম্ভব হবে।


Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

যুবায়েত–রফিকুলের তদারকিতে ত্রিশাল সড়ক ধোঁকা

আপডেট সময় ১২:০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এখন স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে চেলেরঘাট–আমতলী জিসি রোড ভায়া চান্দেরটেকি পর্যন্ত ২.৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি কাগজে-কলমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হলেও ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের অগ্রগতি ও মান নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, কর্মকর্তারা বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এই দুজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদ কোটি টাকার ওপর, যা প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

প্রকল্পের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, উন্নতমানের পেভমেন্ট ও সারফেসিংয়ের জন্য ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো স্থানে তা পাওয়া যায়নি। বরং রাস্তার বিভিন্ন অংশে বালুর বদলে সরাসরি মাটি ব্যবহার এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে নির্মিত হলে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

রাস্তার সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও—যেমন ২২ লাখ টাকা সুরক্ষা কাজের জন্য এবং ৮ লাখ টাকা গাইডওয়াল ও নিরাপত্তা চিহ্নের জন্য—বাস্তবে কোনো সুরক্ষা অবকাঠামো দেখা যায়নি। স্থানীয়রা এটিকে অর্থের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন এবং প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতাকেও দায়ী করছেন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, “আলম” নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ দেখানো হলেও সরকারি নথিতে তার অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রকৃত ঠিকাদার কে, তা আজও রহস্য। এলাকাবাসীর ধারণা, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো আড়ালের বা বেনামি ঠিকাদারি ব্যবস্থা থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কাজের ধীরগতি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তবে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে এবং তা নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে করা হয়েছে। এই দ্বৈত তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। একদিকে প্রশাসনিক দাবি, অন্যদিকে জনগণের অভিজ্ঞতা—এই পার্থক্য প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।

উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি খুব কম। এ ধরনের তদারকি না থাকা এবং শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখানোর অভিযোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলেও, প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির অন্যান্য স্তরেরও ভূমিকা থাকে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের দীর্ঘসময় ধরে অসম্পূর্ণ থাকা তাদের দৈনন্দিন চলাচলকে দুর্বিষহ করেছে। বর্ষাকালে কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি চলাচল ব্যাহত করছে। এলাকার মানুষজন মনে করছেন, বরাদ্দ অর্থ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি মিলছে না। তারা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা শক্তিশালী না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দ, ব্যবহৃত উপকরণের মান, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া এবং কাজের অগ্রগতি—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, তদন্তে প্রকৃত চিত্র সামনে এলে দায় নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম এড়ানো সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের কোটি টাকার সম্পদের তথ্যও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। তারা মনে করছেন, ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রকল্পের অগ্রগতি ও মান নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে এই সম্পদের উৎস এবং প্রকৃততা যাচাই করা ছাড়া দোষী বা সুবিধাভোগী নির্ধারণ সম্ভব নয়।

এদিকে প্রশাসনিক মহল এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা তদন্তের ঘোষণা দেয়নি। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয়দের একাংশ আশাবাদী যে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে নজরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ত্রিশালের এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দক্ষতার প্রতীক। উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এখন সময়ের দাবি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে একটি নিরপেক্ষ সরকারি তদন্তের ওপর, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত অবস্থা এবং দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ অর্থ, ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তাদের তদারকি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তি—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে জনমনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্নীতি এড়ানো সম্ভব হবে।