ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির নামে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ওয়ার্কিং ও ফ্যাসিলিটিজে তামিম, বাকিরা কে কোন দায়িত্বে? অস্ত্রের মুখে প্রতিবন্ধীসহ দুই যুবককে তুলে নিয়ে, অর্থ আদায়ের অভিযোগ রাজারকুল রেঞ্জের বিরুদ্ধে,, মদ্যপ ওয়ার্নারের কাণ্ডকে ‘খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বেরোবিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রক্টরের বাঁধা তেল বরাদ্দে অনিয়ম, যমুনার এজিএম (সেলস) সাময়িক বরখাস্ত সাইক্লিস্ট কোচিং কোর্সে এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশের রাকিবুল ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানীদের গবেষণার আহ্বান পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার নগদে শতকোটির ব্যবসা ডাক বিভাগের কর্মকর্তা জাকিরের

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে কী বোঝায়? এটি থেকে কি মুক্তি পাওয়া যায়?

  • লাইফস্টাইল
  • আপডেট সময় ০৮:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ফাস্টিং সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি এসেছে, কিন্তু ডাক্তার বলেছেন—এখনো ডায়াবেটিস নয়, তবে প্রি-ডায়াবেটিস। এই কথাটা শুনে অনেকেই স্বস্তি পান, আবার অনেকে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন। কিন্তু প্রি-ডায়াবেটিস মানে শরীর ইতোমধ্যেই সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে, ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে কী বোঝায়

প্রি-ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা পড়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়—

> ফাস্টিং ব্লাড সুগার: ১০০–১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার

> HbA1c: ৫.৭–৬.৪ শতাংশ

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই মানগুলোর অর্থ— শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে এগোচ্ছে।

প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ

প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

> অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

> শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

> অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস

> বংশগত ঝুঁকি

> দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, জীবনধারার পরিবর্তনই প্রি-ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ।

লক্ষণগুলো অনেক সময় বোঝা যায় না

প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা ঝুঁকিতে আছেন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে—

> অতিরিক্ত ক্লান্তি

> ওজন বৃদ্ধি বা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা

প্রি-ডায়াবেটিস কি রিভার্স করা যায়?

ভালো খবর হলো—হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি রিভার্স করা সম্ভব। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, মাত্র ৫–৭ শতাংশ ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

রিভার্স করতে কী করবেন?

> প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম

> ভাত, রুটি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমিত খাওয়া

> শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো

> ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

> নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই পরিবর্তনগুলো ওষুধ ছাড়াই অনেক মানুষের রক্তে শর্করাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনে।

প্রি-ডায়াবেটিস কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা ও সুযোগ। সচেতন জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে দূরে রাখা যায়।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির নামে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে কী বোঝায়? এটি থেকে কি মুক্তি পাওয়া যায়?

আপডেট সময় ০৮:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ফাস্টিং সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি এসেছে, কিন্তু ডাক্তার বলেছেন—এখনো ডায়াবেটিস নয়, তবে প্রি-ডায়াবেটিস। এই কথাটা শুনে অনেকেই স্বস্তি পান, আবার অনেকে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন। কিন্তু প্রি-ডায়াবেটিস মানে শরীর ইতোমধ্যেই সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে, ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে কী বোঝায়

প্রি-ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা পড়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়—

> ফাস্টিং ব্লাড সুগার: ১০০–১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার

> HbA1c: ৫.৭–৬.৪ শতাংশ

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই মানগুলোর অর্থ— শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে এগোচ্ছে।

প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ

প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

> অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

> শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

> অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস

> বংশগত ঝুঁকি

> দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, জীবনধারার পরিবর্তনই প্রি-ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ।

লক্ষণগুলো অনেক সময় বোঝা যায় না

প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা ঝুঁকিতে আছেন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে—

> অতিরিক্ত ক্লান্তি

> ওজন বৃদ্ধি বা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা

প্রি-ডায়াবেটিস কি রিভার্স করা যায়?

ভালো খবর হলো—হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি রিভার্স করা সম্ভব। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, মাত্র ৫–৭ শতাংশ ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

রিভার্স করতে কী করবেন?

> প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম

> ভাত, রুটি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমিত খাওয়া

> শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো

> ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

> নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই পরিবর্তনগুলো ওষুধ ছাড়াই অনেক মানুষের রক্তে শর্করাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনে।

প্রি-ডায়াবেটিস কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা ও সুযোগ। সচেতন জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে দূরে রাখা যায়।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)