ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী ব্যর্থ জ্বালানি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম রোজার চার মাস আগেই কারসাজি, ছয় পণ্যের দামে সিন্ডিকেটের অভিযোগ লালপুরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ‘প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে উঠতে পারবে না অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা’ ভাড়া বাসায় মাদক সেবনরত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবলসহ দুইজন আটক নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লোব শপিং সেন্টারে হামলা-লুটের অভিযোগ, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন এসেনশিয়াল ড্রাগসে জুলাই যোদ্ধা কোটায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে শামীম আহমেদের স্বজনপ্রীতি হুথি হামলার জেরে তেলের দাম গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

সন্তান অনলাইন গেমে আসক্ত হলে যা করবেন

  • লাইফস্টাইল
  • আপডেট সময় ০১:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৪৭ বার পড়া হয়েছে

আজকাল সবার হাতে স্মার্টফোন। অনলাইন ক্লাস বা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখার জন্য শিশুরাও অনেক সময় ফোন হাতে পায়। কিন্তু কিছু সময় পরে সন্তানরা নিজেও অনলাইনে বিভিন্ন কাজ, কখনও কখনও খারাপ অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে যাওয়া ভয়ঙ্কর হতে পারে।

ভারতের গাজিয়াবাদে সম্প্রতি তিন বোনের অনলাইন গেম আসক্তির কারণে আত্মহত্যার ঘটনা এ ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। এর আগেও ‘ব্লু হোয়াইল’-এর মতো বিপজ্জনক গেমে বহু কিশোর-কিশোরীর প্রাণ গেছে।

অনলাইন গেম আসক্তি কী?

এটি এক ধরনের আচরণগত আসক্তি। সন্তান গেম ছাড়া থাকতে পারে না, পড়াশোনা, ঘুম বা খাওয়াও উপেক্ষা করে, সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছু গেম ধাপে ধাপে খেলোয়াড়কে আরও গভীরে টেনে নেয়, যা মানসিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

লক্ষণগুলো চিহ্নিত করুন:

  • মোবাইল বা কম্পিউটার ছাড়া অস্থির হওয়া
  • রাত জেগে খেলা, দিনে ঘুম
  • পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
  • বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলা
  • রাগী আচরণ, মিথ্যা বলা
  • নিজের ঘরে আটকা থাকা
  • আত্মহত্যার কথা বলা বা হতাশাজনক মন্তব্য

কী করবেন অভিভাবকরা:

রাগ নয়, বোঝার চেষ্টা করুন: আগে জানতে হবে সন্তান কেন গেমে আসক্ত হচ্ছে।

খোলামেলা কথা বলুন: বন্ধুর মতো আলাপ করুন, সহানুভূতির সঙ্গে প্রশ্ন করুন।

হঠাৎ বন্ধ করবেন না: ধীরে ধীরে গেমের সময় কমান।

বিকল্প দিন: খেলাধুলা, গান, আঁকা, বই পড়া বা পরিবারে সময় কাটানোর সুযোগ দিন।

স্ক্রিন টাইম ঠিক করুন: পরিবারের সবাইকে নিয়ম মানার জন্য উদাহরণ তৈরি করুন।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন: বয়সভিত্তিক ফিল্টার ও সময়সীমা নির্ধারণ করুন।

মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন: আত্মহানির ইঙ্গিত বা চরম আচরণ দেখা দিলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।

সমাজ ও স্কুলের ভূমিকা:

  • শুধু পরিবার নয়, স্কুল ও সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। যেমন:
  • ডিজিটাল সচেতনতা ক্লাস চালু করা
  • শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা
  • কাউন্সেলিং সুবিধা দেওয়া
  • গণমাধ্যমে সচেতনতা প্রচার
  • গেম আসক্তির ক্ষতি বোঝানো
  • এক্সট্রা কারিকুলাম ও খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহী করা

সংক্ষেপে, সন্তানকে অনলাইন গেম আসক্তি থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, বোঝাপড়া, বিকল্প কার্যকলাপ এবং সমাজ-স্কুলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

সন্তান অনলাইন গেমে আসক্ত হলে যা করবেন

আপডেট সময় ০১:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজকাল সবার হাতে স্মার্টফোন। অনলাইন ক্লাস বা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখার জন্য শিশুরাও অনেক সময় ফোন হাতে পায়। কিন্তু কিছু সময় পরে সন্তানরা নিজেও অনলাইনে বিভিন্ন কাজ, কখনও কখনও খারাপ অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে যাওয়া ভয়ঙ্কর হতে পারে।

ভারতের গাজিয়াবাদে সম্প্রতি তিন বোনের অনলাইন গেম আসক্তির কারণে আত্মহত্যার ঘটনা এ ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। এর আগেও ‘ব্লু হোয়াইল’-এর মতো বিপজ্জনক গেমে বহু কিশোর-কিশোরীর প্রাণ গেছে।

অনলাইন গেম আসক্তি কী?

এটি এক ধরনের আচরণগত আসক্তি। সন্তান গেম ছাড়া থাকতে পারে না, পড়াশোনা, ঘুম বা খাওয়াও উপেক্ষা করে, সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছু গেম ধাপে ধাপে খেলোয়াড়কে আরও গভীরে টেনে নেয়, যা মানসিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

লক্ষণগুলো চিহ্নিত করুন:

  • মোবাইল বা কম্পিউটার ছাড়া অস্থির হওয়া
  • রাত জেগে খেলা, দিনে ঘুম
  • পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
  • বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলা
  • রাগী আচরণ, মিথ্যা বলা
  • নিজের ঘরে আটকা থাকা
  • আত্মহত্যার কথা বলা বা হতাশাজনক মন্তব্য

কী করবেন অভিভাবকরা:

রাগ নয়, বোঝার চেষ্টা করুন: আগে জানতে হবে সন্তান কেন গেমে আসক্ত হচ্ছে।

খোলামেলা কথা বলুন: বন্ধুর মতো আলাপ করুন, সহানুভূতির সঙ্গে প্রশ্ন করুন।

হঠাৎ বন্ধ করবেন না: ধীরে ধীরে গেমের সময় কমান।

বিকল্প দিন: খেলাধুলা, গান, আঁকা, বই পড়া বা পরিবারে সময় কাটানোর সুযোগ দিন।

স্ক্রিন টাইম ঠিক করুন: পরিবারের সবাইকে নিয়ম মানার জন্য উদাহরণ তৈরি করুন।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন: বয়সভিত্তিক ফিল্টার ও সময়সীমা নির্ধারণ করুন।

মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন: আত্মহানির ইঙ্গিত বা চরম আচরণ দেখা দিলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।

সমাজ ও স্কুলের ভূমিকা:

  • শুধু পরিবার নয়, স্কুল ও সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। যেমন:
  • ডিজিটাল সচেতনতা ক্লাস চালু করা
  • শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা
  • কাউন্সেলিং সুবিধা দেওয়া
  • গণমাধ্যমে সচেতনতা প্রচার
  • গেম আসক্তির ক্ষতি বোঝানো
  • এক্সট্রা কারিকুলাম ও খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহী করা

সংক্ষেপে, সন্তানকে অনলাইন গেম আসক্তি থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, বোঝাপড়া, বিকল্প কার্যকলাপ এবং সমাজ-স্কুলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।