ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে: ড. মঈন খান সওজের প্রকৌশলী শাহনুর রশিদকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ রাজপথে নতুন নাটক শুরু করেছে বিরোধী দল: রিজভী পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা খুন: পুলিশ সুপার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক পিআইও ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ময়লার বিল থেকে বছরে ৩১৭ কোটি টাকা আদায়, সিটি করপোরেশন পায় ১২ কোটি-বাকি টাকা যায় কোথায়? সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা: শামা ওবায়েদ কালিয়াকৈরে ইবনে সিনার কারখানায় আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট গুলশানের ‘জার্মান ক্লাবে’ অভিযানে ২৪৪ লিটার মদ-বিয়ার জব্দ

মানসিক চাপ কমাতে কফি কতটা উপকারী, জানুন সঠিক পরিমাণ

সকালের এক কাপ গরম কফি শুধু যে আমাদের ঘুম তাড়ায় তা নয়, এটি আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। কিন্তু কফি কি সত্যিই মানসিক চাপ কমাতে পারে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, কফি পানের অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তবে এর সুফল পেতে হলে জানতে হবে ঠিক কতটুকু কফি আপনার জন্য আদর্শ।

‘জার্নাল অফ অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডারস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি পান করলে মানসিক চাপ এবং মেজাজ বা মুড সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসে।

গবেষকদের মতে, দিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি পান করা হলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ বা ‘সুইট স্পট’। এই পরিমাণ কফি পানে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো সমস্যার ঝুঁকি সবচেয়ে কম থাকে।

অতিরিক্ত পানে হিতে বিপরীত
অনেকেই মনে করেন বেশি কফি মানেই বেশি সতেজতা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ৩ কাপের বেশি কফি পান করলে এর সুফল আর পাওয়া যায় না, বরং তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত কফি পানে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, অস্থিরতা বাড়ে এবং উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষকরা একে একটি ‘J-shaped’ সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছেন, অর্থাৎ কফি পানের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হয়ে গেলেই এর উপকারিতা কমতে শুরু করে।

শুধু ক্যাফিন নয়, কারণ আরও আছে
মজার ব্যাপার হলো, ক্যাফিনমুক্ত বা ‘ডিক্যাফ’ কফি পানের ক্ষেত্রেও মানসিক প্রশান্তির একই ধরনের ফলাফল দেখা গেছে। এর থেকে বোঝা যায় যে, কফির এই গুণটি কেবল ক্যাফিনের জন্য নয়, বরং এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বা অন্যান্য জৈব উপাদানের কারণেও হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কফি পান করার যে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকে, সেটিও মন ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে বা কাজের ফাঁকে একটু বিরতি নিয়ে কফি পান করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি শৃঙ্খলা ও প্রশান্তি আনে।

সতর্কতা ও ব্যক্তিগত সহনশীলতা
কফি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করলেও এটি কোনো মানসিক রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়। বিষণ্নতা বা উদ্বেগের চিকিৎসার জন্য কফির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এছাড়া প্রত্যেকের ক্যাফিন সহ্য করার ক্ষমতা আলাদা। কারো জন্য ২ কাপ কফি খুব ভালো কাজ করে, আবার কারো জন্য সেই একই পরিমাণ কফি অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি
কফি আপনার জীবনযাত্রার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ হতে পারে, তবে এটিই শেষ কথা নয়। মানসিক চাপ কমাতে কফি পানের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যতালিক এবং নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, কারণ এই উপাদানগুলো গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই দিনভর চনমনে থাকতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম মেনে ২ থেকে ৩ কাপ কফিতেই সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করুন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

মানসিক চাপ কমাতে কফি কতটা উপকারী, জানুন সঠিক পরিমাণ

আপডেট সময় ০৮:২১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকালের এক কাপ গরম কফি শুধু যে আমাদের ঘুম তাড়ায় তা নয়, এটি আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। কিন্তু কফি কি সত্যিই মানসিক চাপ কমাতে পারে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, কফি পানের অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তবে এর সুফল পেতে হলে জানতে হবে ঠিক কতটুকু কফি আপনার জন্য আদর্শ।

‘জার্নাল অফ অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডারস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি পান করলে মানসিক চাপ এবং মেজাজ বা মুড সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসে।

গবেষকদের মতে, দিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি পান করা হলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ বা ‘সুইট স্পট’। এই পরিমাণ কফি পানে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো সমস্যার ঝুঁকি সবচেয়ে কম থাকে।

অতিরিক্ত পানে হিতে বিপরীত
অনেকেই মনে করেন বেশি কফি মানেই বেশি সতেজতা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ৩ কাপের বেশি কফি পান করলে এর সুফল আর পাওয়া যায় না, বরং তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত কফি পানে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, অস্থিরতা বাড়ে এবং উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষকরা একে একটি ‘J-shaped’ সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছেন, অর্থাৎ কফি পানের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হয়ে গেলেই এর উপকারিতা কমতে শুরু করে।

শুধু ক্যাফিন নয়, কারণ আরও আছে
মজার ব্যাপার হলো, ক্যাফিনমুক্ত বা ‘ডিক্যাফ’ কফি পানের ক্ষেত্রেও মানসিক প্রশান্তির একই ধরনের ফলাফল দেখা গেছে। এর থেকে বোঝা যায় যে, কফির এই গুণটি কেবল ক্যাফিনের জন্য নয়, বরং এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বা অন্যান্য জৈব উপাদানের কারণেও হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কফি পান করার যে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকে, সেটিও মন ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে বা কাজের ফাঁকে একটু বিরতি নিয়ে কফি পান করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি শৃঙ্খলা ও প্রশান্তি আনে।

সতর্কতা ও ব্যক্তিগত সহনশীলতা
কফি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করলেও এটি কোনো মানসিক রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়। বিষণ্নতা বা উদ্বেগের চিকিৎসার জন্য কফির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এছাড়া প্রত্যেকের ক্যাফিন সহ্য করার ক্ষমতা আলাদা। কারো জন্য ২ কাপ কফি খুব ভালো কাজ করে, আবার কারো জন্য সেই একই পরিমাণ কফি অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি
কফি আপনার জীবনযাত্রার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ হতে পারে, তবে এটিই শেষ কথা নয়। মানসিক চাপ কমাতে কফি পানের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যতালিক এবং নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, কারণ এই উপাদানগুলো গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই দিনভর চনমনে থাকতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম মেনে ২ থেকে ৩ কাপ কফিতেই সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করুন।