মাইনাস তাপমাত্রা, ছয় মাসের অন্ধকার আর চারদিকে শুধু বরফ—ভাবতেই কাঁপুনি ধরছে? তবে এই প্রতিকূল পরিবেশই যদি আপনার কাছে অ্যাডভেঞ্চার মনে হয়, তাহলে আপনার জন্য দারুণ সুখবর। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে অ্যান্টার্কটিকায় তাদের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে।
এই চাকরিতে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বার্ষিক বেতন ৩০ হাজার ২৪৪ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা) থেকে শুরু। সেই সঙ্গে থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, বিশেষ শীতবস্ত্র, এমনকি প্রশিক্ষণ—সব কিছুই সম্পূর্ণ ফ্রি। কর্মীদের কোনো খরচই বহন করতে হবে না।
বর্তমানে যেসব পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে—
- শেফ
- কাঠমিস্ত্রি
- প্লাম্বার
- ইলেকট্রিশিয়ান
- প্ল্যান্ট অপারেটর
- বোটিং অফিসার
- আবহাওয়া পর্যবেক্ষক
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে অ্যান্টার্কটিকা জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে স্টেশন লিডার, প্রাণিবিদ্যা, ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টসহ আরো কয়েকটি পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
অ্যান্টার্কটিকায় কাজ মানেই আরাম নয়। বছরের প্রায় ছয় মাস সূর্যের আলো দেখা যায় না।
চারদিকে শুধু অন্ধকার, বরফ আর ভয়ংকর তুষারঝড়। কখনো কখনো তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।রথেরা রিসার্চ স্টেশনের অপারেশন ম্যানেজার মাইক ব্রায়ান বলেন, ‘একটি ছোট সমাজ চালাতে যেমন শেফ দরকার, তেমনি দরকার মেকানিক, কারিগর ও প্রকৌশলী। আমাদের কর্মীরা সাধারণ মানুষ, কিন্তু কাজ করেন পৃথিবীর সবচেয়ে অসাধারণ জায়গাগুলোর একটিতে।
এই চাকরিগুলোর চুক্তির মেয়াদ ৬ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত হতে পারে। এখানে কাজের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলগতভাবে মানিয়ে নেওয়া। হ্যালি-৬ গবেষণা স্টেশনে ছয় বছর ধরে কাজ করা ফিল কুলম্যান বলেন, ‘এটা শুধু একটা স্টেশন নয়, এটাই আমাদের বাড়ি, এটাই আমাদের পরিবার। এখানে টিকে থাকতে হলে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আর দলগত মানসিকতা সবচেয়ে জরুরি।
যাদের মধ্যে চরম শীত সহ্য করার সাহস, অভিযোজন ক্ষমতা আর অ্যাডভেঞ্চারের নেশা আছে, তাদের জন্য এই চাকরি হতে পারে জীবনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অধ্যায়।
আগ্রহীরা ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেখে আবেদন করতে পারবেন। বরফের রাজ্যে কাজ করার স্বপ্ন থাকলে, সুযোগটা হাতছাড়া না করাই ভালো।সূত্র : ডেইলি মেইল