ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন:

পূরণ হল রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা

  • মোঃ ইউসুফ
  • আপডেট সময় ০৩:১১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

তারেক রহমান শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, তিনি আজ একটি রাজনৈতিক ধারণা, একটি আন্দোলনের প্রতীক এবং পরিবর্তনের প্রতিশব্দ। দীর্ঘদিনের নির্বাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরের এক প্রভাবশালী নেতায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তারেক রহমান সেই শূন্যতা পূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তারেক রহমান কেবল একজন ঐতিহ্যবাহী রাজনীতিবিদ নন, তিনি এক ধরনের অনুপ্রেরণা একজন রকস্টার লিডার। তার রাজনৈতিক ভাষা, কৌশল এবং ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের আকর্ষণ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য, সংস্কারমূলক চিন্তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অবস্থান নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনাকে নাড়া দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারেক রহমান একজন পরিচিত মুখ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার নিয়ে তার অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন নেতৃত্ব শুধু ক্ষমতার চেয়ারে বসে তৈরি হয় না, নেতৃত্ব গড়ে ওঠে বিশ্বাস, দূরদৃষ্টি ও জনগণের সঙ্গে আত্মিক সংযোগের মাধ্যমে। সেই অর্থে তারেক রহমান আজ একটি নাম নয়, বরং একটি সময়ের দাবি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর কোনো শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং এটি দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ, গণতান্ত্রিক সংকট এবং আস্থার ঘাটতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে কার্যকর বিরোধী নেতৃত্বের অভাব ছিল একটি বহুল আলোচিত বিষয়। সংসদের বাইরে ও ভেতরে বিরোধী কণ্ঠের দুর্বলতা, নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতি সব মিলিয়ে রাজনীতি অনেকটাই একমুখী হয়ে পড়েছিল। এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের সক্রিয় প্রত্যাবর্তন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা সহজ ছিল না। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়, মামলা, নির্বাসন এবং দীর্ঘ নীরবতা সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় বহু স্তরে বিতর্কিত ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য, তিনি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে একটি সংগঠিত নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দলীয় সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ এবং তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রচেষ্টা তার রাজনৈতিক দর্শনের অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। ১৭ বছরের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি অনেক বদলে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার, তরুণ ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন সচেতনতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সব মিলিয়ে রাজনীতির ভাষা ও কৌশলও বদলেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে কেবল অতীতের রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা ও দিকনির্দেশনার অভাবে দলটি যে স্থবিরতায় ভুগছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনীতিতে একটি সুসংগঠিত ও কৌশলগত বিরোধী শক্তির উপস্থিতি গণতন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর বিরোধিতা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাই সুস্থ থাকতে পারে না। তবে প্রত্যাবর্তন মানেই সব সমস্যার সমাধান এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তারেক রহমানকে অতীতের বিতর্ক, রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ এবং শাসনামলের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা এখন আগের মতো আবেগনির্ভর নয়; তারা চায় সুশাসন, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সুস্পষ্ট রূপরেখা। তাই বক্তব্য ও আন্দোলনের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী চিন্তায় পরিণত হওয়াই হবে তার নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা। এই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রজন্মগত সংযোগ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ, যারা সরাসরি ৯০-এর দশক বা ২০০০-এর দশকের রাজনীতি দেখেনি। তাদের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠে বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে। তারেক রহমান যদি এই প্রজন্মের ভাষায় কথা বলতে পারেন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেন তাহলে তার নেতৃত্ব নতুন মাত্রা পেতে পারে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্নেও তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিরোধী রাজনীতির লক্ষ্য যদি কেবল ক্ষমতার পালাবদলেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে গণতান্ত্রিক সংকট কাটবে না। বরং একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারই হতে পারে তার প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় অবদান। ১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এটি সম্ভাবনার পাশাপাশি দায়িত্বও বহন করে। নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ কেবল ব্যক্তি দিয়ে নয়, চিন্তা, নীতি ও আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। এই প্রত্যাবর্তন যদি গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের আস্থার পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে, তবেই এটি ইতিহাসে একটি অর্থবহ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।

লেখকঃ- সহকারী অধ্যাপক, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন:

পূরণ হল রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা

আপডেট সময় ০৩:১১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমান শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, তিনি আজ একটি রাজনৈতিক ধারণা, একটি আন্দোলনের প্রতীক এবং পরিবর্তনের প্রতিশব্দ। দীর্ঘদিনের নির্বাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরের এক প্রভাবশালী নেতায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তারেক রহমান সেই শূন্যতা পূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তারেক রহমান কেবল একজন ঐতিহ্যবাহী রাজনীতিবিদ নন, তিনি এক ধরনের অনুপ্রেরণা একজন রকস্টার লিডার। তার রাজনৈতিক ভাষা, কৌশল এবং ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের আকর্ষণ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য, সংস্কারমূলক চিন্তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অবস্থান নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনাকে নাড়া দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারেক রহমান একজন পরিচিত মুখ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার নিয়ে তার অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন নেতৃত্ব শুধু ক্ষমতার চেয়ারে বসে তৈরি হয় না, নেতৃত্ব গড়ে ওঠে বিশ্বাস, দূরদৃষ্টি ও জনগণের সঙ্গে আত্মিক সংযোগের মাধ্যমে। সেই অর্থে তারেক রহমান আজ একটি নাম নয়, বরং একটি সময়ের দাবি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর কোনো শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং এটি দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ, গণতান্ত্রিক সংকট এবং আস্থার ঘাটতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে কার্যকর বিরোধী নেতৃত্বের অভাব ছিল একটি বহুল আলোচিত বিষয়। সংসদের বাইরে ও ভেতরে বিরোধী কণ্ঠের দুর্বলতা, নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতি সব মিলিয়ে রাজনীতি অনেকটাই একমুখী হয়ে পড়েছিল। এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের সক্রিয় প্রত্যাবর্তন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা সহজ ছিল না। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়, মামলা, নির্বাসন এবং দীর্ঘ নীরবতা সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় বহু স্তরে বিতর্কিত ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য, তিনি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে একটি সংগঠিত নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দলীয় সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ এবং তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রচেষ্টা তার রাজনৈতিক দর্শনের অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। ১৭ বছরের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি অনেক বদলে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার, তরুণ ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন সচেতনতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সব মিলিয়ে রাজনীতির ভাষা ও কৌশলও বদলেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে কেবল অতীতের রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা ও দিকনির্দেশনার অভাবে দলটি যে স্থবিরতায় ভুগছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনীতিতে একটি সুসংগঠিত ও কৌশলগত বিরোধী শক্তির উপস্থিতি গণতন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর বিরোধিতা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাই সুস্থ থাকতে পারে না। তবে প্রত্যাবর্তন মানেই সব সমস্যার সমাধান এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তারেক রহমানকে অতীতের বিতর্ক, রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ এবং শাসনামলের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা এখন আগের মতো আবেগনির্ভর নয়; তারা চায় সুশাসন, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সুস্পষ্ট রূপরেখা। তাই বক্তব্য ও আন্দোলনের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী চিন্তায় পরিণত হওয়াই হবে তার নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা। এই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রজন্মগত সংযোগ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ, যারা সরাসরি ৯০-এর দশক বা ২০০০-এর দশকের রাজনীতি দেখেনি। তাদের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠে বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে। তারেক রহমান যদি এই প্রজন্মের ভাষায় কথা বলতে পারেন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেন তাহলে তার নেতৃত্ব নতুন মাত্রা পেতে পারে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্নেও তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিরোধী রাজনীতির লক্ষ্য যদি কেবল ক্ষমতার পালাবদলেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে গণতান্ত্রিক সংকট কাটবে না। বরং একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারই হতে পারে তার প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় অবদান। ১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এটি সম্ভাবনার পাশাপাশি দায়িত্বও বহন করে। নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ কেবল ব্যক্তি দিয়ে নয়, চিন্তা, নীতি ও আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। এই প্রত্যাবর্তন যদি গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের আস্থার পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে, তবেই এটি ইতিহাসে একটি অর্থবহ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।

লেখকঃ- সহকারী অধ্যাপক, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।