ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী বোরহানউদ্দিনে ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মেহেদীর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি, বৃহস্পতিবার কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিকদের একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন বিএনপিকে দুর্বল ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন: ডিএসসিসি প্রশাসক পোশাকশিল্পে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহজাহানপুরে রাজউকের নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ, নেপথ্যে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান গড়ছে সশস্ত্র বাহিনী ফায়ার সার্ভিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নে তদবির, মামুনুর রশিদকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

কুয়াশাঘেরা নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে নতুন বছরের স্বপ্ন বুনছেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা

শীতকালীন ছুটিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে এখন পিনপতন নীরবতা। যে লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন আর ক্যাফেটেরিয়া শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার রাজত্ব। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাড়ির টানে বাড়ি ফিরলেও, বিসিএস বা চাকরির প্রস্তুতি, টিউশনি কিংবা আর্থিক টানাপড়েনে অনেকে রয়ে গেছেন ক্যাম্পাসের হল কিংবা মেসগুলোতে। এই নিস্তব্ধতার মাঝেই নতুন বছর ২০২৬ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে এসেছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের মানোন্নয়ন এবং একটি সহনশীল শিক্ষাঙ্গনের প্রত্যাশা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মেঘ বলেন, ‘‘নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের। বেরোবি নবীন হলেও এর সম্ভাবনা প্রচুর। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা এবং সহনশীল একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি দ্রুতই একটি মানসম্মত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে।’’

ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের কানিজ ফারহানা মুভা প্রত্যাশা করেন একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের। তিনি বলেন, ‘‘২০২৬ সাল হোক নতুন উদ্যমের বছর। নিয়মিত ক্লাস আর আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়বে।’’

নতুন বছরকে নিজেকে গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের তানভীর হাসান দিপু ও জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নাজনীন মুশফিকা। তানভীর বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লে আমরা বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে পারব।’’ অন্যদিকে নাজনীন গুরুত্ব দিয়েছেন সময়ের সঠিক ব্যবহার ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর।

সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতির দাবি জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের আব্দুল মালেক। একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘স্বপ্ন যতই বড় হোক, শিক্ষার ভিত মজবুত হওয়া জরুরি। নতুন বছরে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা আমাদের অন্যতম দাবি।’’

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আফসানা ইসলাম আর্নিকা চান একটি রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস। তিনি বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি ইতিহাসচর্চা ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে চাই। ২০২৬ সাল হোক আত্মউন্নয়ন ও সচেতনতার বছর।’’

আগামী ১১ জানুয়ারি শীতকালীন ছুটি শেষে পুনরায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে বেরোবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে গবেষণামুখী শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

কুয়াশাঘেরা নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে নতুন বছরের স্বপ্ন বুনছেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ১১:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকালীন ছুটিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে এখন পিনপতন নীরবতা। যে লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন আর ক্যাফেটেরিয়া শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার রাজত্ব। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাড়ির টানে বাড়ি ফিরলেও, বিসিএস বা চাকরির প্রস্তুতি, টিউশনি কিংবা আর্থিক টানাপড়েনে অনেকে রয়ে গেছেন ক্যাম্পাসের হল কিংবা মেসগুলোতে। এই নিস্তব্ধতার মাঝেই নতুন বছর ২০২৬ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে এসেছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের মানোন্নয়ন এবং একটি সহনশীল শিক্ষাঙ্গনের প্রত্যাশা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মেঘ বলেন, ‘‘নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের। বেরোবি নবীন হলেও এর সম্ভাবনা প্রচুর। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা এবং সহনশীল একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি দ্রুতই একটি মানসম্মত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে।’’

ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের কানিজ ফারহানা মুভা প্রত্যাশা করেন একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের। তিনি বলেন, ‘‘২০২৬ সাল হোক নতুন উদ্যমের বছর। নিয়মিত ক্লাস আর আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়বে।’’

নতুন বছরকে নিজেকে গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের তানভীর হাসান দিপু ও জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নাজনীন মুশফিকা। তানভীর বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লে আমরা বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে পারব।’’ অন্যদিকে নাজনীন গুরুত্ব দিয়েছেন সময়ের সঠিক ব্যবহার ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর।

সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতির দাবি জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের আব্দুল মালেক। একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘স্বপ্ন যতই বড় হোক, শিক্ষার ভিত মজবুত হওয়া জরুরি। নতুন বছরে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা আমাদের অন্যতম দাবি।’’

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আফসানা ইসলাম আর্নিকা চান একটি রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস। তিনি বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি ইতিহাসচর্চা ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে চাই। ২০২৬ সাল হোক আত্মউন্নয়ন ও সচেতনতার বছর।’’

আগামী ১১ জানুয়ারি শীতকালীন ছুটি শেষে পুনরায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে বেরোবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে গবেষণামুখী শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।