সংবাদ শিরোনাম ::
গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ ডিএনসিসির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পবিপ্রবিতে ব্যবসায় প্রশাসন, সিএসই ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের দূর্নীতি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান  আমশিল্প ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের

কুয়াশাঘেরা নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে নতুন বছরের স্বপ্ন বুনছেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা

শীতকালীন ছুটিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে এখন পিনপতন নীরবতা। যে লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন আর ক্যাফেটেরিয়া শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার রাজত্ব। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাড়ির টানে বাড়ি ফিরলেও, বিসিএস বা চাকরির প্রস্তুতি, টিউশনি কিংবা আর্থিক টানাপড়েনে অনেকে রয়ে গেছেন ক্যাম্পাসের হল কিংবা মেসগুলোতে। এই নিস্তব্ধতার মাঝেই নতুন বছর ২০২৬ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে এসেছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের মানোন্নয়ন এবং একটি সহনশীল শিক্ষাঙ্গনের প্রত্যাশা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মেঘ বলেন, ‘‘নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের। বেরোবি নবীন হলেও এর সম্ভাবনা প্রচুর। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা এবং সহনশীল একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি দ্রুতই একটি মানসম্মত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে।’’

ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের কানিজ ফারহানা মুভা প্রত্যাশা করেন একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের। তিনি বলেন, ‘‘২০২৬ সাল হোক নতুন উদ্যমের বছর। নিয়মিত ক্লাস আর আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়বে।’’

নতুন বছরকে নিজেকে গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের তানভীর হাসান দিপু ও জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নাজনীন মুশফিকা। তানভীর বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লে আমরা বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে পারব।’’ অন্যদিকে নাজনীন গুরুত্ব দিয়েছেন সময়ের সঠিক ব্যবহার ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর।

সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতির দাবি জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের আব্দুল মালেক। একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘স্বপ্ন যতই বড় হোক, শিক্ষার ভিত মজবুত হওয়া জরুরি। নতুন বছরে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা আমাদের অন্যতম দাবি।’’

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আফসানা ইসলাম আর্নিকা চান একটি রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস। তিনি বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি ইতিহাসচর্চা ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে চাই। ২০২৬ সাল হোক আত্মউন্নয়ন ও সচেতনতার বছর।’’

আগামী ১১ জানুয়ারি শীতকালীন ছুটি শেষে পুনরায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে বেরোবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে গবেষণামুখী শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা

কুয়াশাঘেরা নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে নতুন বছরের স্বপ্ন বুনছেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ১১:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকালীন ছুটিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে এখন পিনপতন নীরবতা। যে লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন আর ক্যাফেটেরিয়া শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার রাজত্ব। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাড়ির টানে বাড়ি ফিরলেও, বিসিএস বা চাকরির প্রস্তুতি, টিউশনি কিংবা আর্থিক টানাপড়েনে অনেকে রয়ে গেছেন ক্যাম্পাসের হল কিংবা মেসগুলোতে। এই নিস্তব্ধতার মাঝেই নতুন বছর ২০২৬ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে এসেছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের মানোন্নয়ন এবং একটি সহনশীল শিক্ষাঙ্গনের প্রত্যাশা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মেঘ বলেন, ‘‘নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের। বেরোবি নবীন হলেও এর সম্ভাবনা প্রচুর। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা এবং সহনশীল একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি দ্রুতই একটি মানসম্মত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে।’’

ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের কানিজ ফারহানা মুভা প্রত্যাশা করেন একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের। তিনি বলেন, ‘‘২০২৬ সাল হোক নতুন উদ্যমের বছর। নিয়মিত ক্লাস আর আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়বে।’’

নতুন বছরকে নিজেকে গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের তানভীর হাসান দিপু ও জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নাজনীন মুশফিকা। তানভীর বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়লে আমরা বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে পারব।’’ অন্যদিকে নাজনীন গুরুত্ব দিয়েছেন সময়ের সঠিক ব্যবহার ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর।

সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতির দাবি জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের আব্দুল মালেক। একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘স্বপ্ন যতই বড় হোক, শিক্ষার ভিত মজবুত হওয়া জরুরি। নতুন বছরে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা আমাদের অন্যতম দাবি।’’

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আফসানা ইসলাম আর্নিকা চান একটি রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস। তিনি বলেন, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি ইতিহাসচর্চা ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে চাই। ২০২৬ সাল হোক আত্মউন্নয়ন ও সচেতনতার বছর।’’

আগামী ১১ জানুয়ারি শীতকালীন ছুটি শেষে পুনরায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে বেরোবি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে গবেষণামুখী শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।