ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাস আগে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাধারণ মানুষের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যার পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের ব্যাপক সাড়া পড়ে এতে। প্রায় আড়াই মাসে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার মানুষ ওই পেজে মোট ৫২৫টি বার্তা পাঠান। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৫০টি বার্তা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এসব ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে- আর্থিক সহায়তার আবেদন, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, মসজিদ-মন্দির ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের আবেদন, চাকরি বা কর্মসংস্থানের আবেদন, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বা মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা (যেমন জমি সংক্রান্ত) সমাধানের আবেদন, চিকিৎসা সহায়তার আবেদন, শিক্ষায় সহায়তার আবেদনসহ অন্যান্য বিষয়।
নির্বাচনের পর এসব আবেদনের ভিত্তিতে বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত আবেদনগুলো তালিকাভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে মসজিদ-মন্দিরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু জায়গায় কাজও শুরু হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রক্রিয়াও চলছে।
এছাড়াও আর্থিক সহায়তার কিছু আবেদন যাচাই-বাছাই করে কয়েকজনের জন্য সহায়তা, কর্মসংস্থান বা ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, দেশ গড়ার কাজে আমরা সকলে ব্যস্ত। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যার পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই বছরের শুরুতে এই পেজ চালু করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে ৫২৫টি মেসেজ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৫০টি মেসেজ পর্যালোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘টিম মির্জা আলমগীর’ প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যার বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ এর মানুষের আস্থা, ধৈর্য ও সহযোগিতাই আমার শক্তি। আপনাদের ধৈর্য, আস্থা ও সহযোগিতার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ‘টিম মির্জা আলমগীর’ এর প্রতিটি সদস্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন উদ্যোগকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। সাধারণ মানুষের কথা শোনার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন নেটিজেনরা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণত নির্বাচনের সময় মানুষের কথা শুনলেও পরে অনেক সময় সেই যোগাযোগটা আর থাকে না। কিন্তু একটি পেজ খুলে সরাসরি মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সেগুলো যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে সাধারণ মানুষ মনে করছে তাদের কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ আছে যারা বড় নেতাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পান না। এই ধরনের একটি পেজ থাকলে মানুষ সহজেই তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারে। যদি সত্যিই এসব অভিযোগ যাচাই করে সমাধান করা হয়, তাহলে এটা সাধারণ মানুষের জন্য বড় একটি আশার জায়গা হয়ে উঠবে।
পৌর শহরের গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক সময় ছোট ছোট সমস্যাও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকে। যদি এই পেজের (ওয়েবসাইট) মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো সরাসরি মন্ত্রীর নজরে যায় এবং প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, তাহলে মানুষ অনেক উপকৃত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
অপরদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। তারা মনে করছেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের অভিযোগ শোনা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনতোষ কুমার দে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি পৌঁছানো অনেক সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ আছেন, যারা বিভিন্ন কারণে জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান না। এ কারণে অনেক সময় তাদের নানাবিধ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থেকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করে মানুষের অভিযোগ পরামর্শ ও সমস্যার কথা শোনার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 





















