ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

হঠাৎ ঝড়ে ৪০ পরিবারে অনিশ্চিত ঈদ আনন্দ

হালুয়াঘাটের ধারা, কৈচাপুর, বিলডোরা ইউনিয়নে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি বসতঘর ঝড়ে পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালা ও ফসলি ক্ষেত। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঝড় হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত। ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। ঘরবাড়ি, গাছপালার সঙ্গে ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামনে ঈদ। ঝড়ের ঝাপটা ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে তাদের। কিভাবে আবার মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করবেন, এই চিন্তায় দিশেহারা তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত হাতেম আলী জানান, হঠাৎ করে শোঁ শোঁ শব্দ। বুঝে ওঠার আগেই এক ঝাপটায় সব শেষ। কোনোরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁচেন তারা। ঘরের টিন তছনছ, আসবাব সব শেষ। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, ‘দুই আশের (হাঁসের) বাচ্ছা আছিন ঘরে একটাও নাই চাপা পইড়া মরছে। আল্লায় বাঁচাইয়া রাখছে এইডাই বেশি। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী-সন্তান লইয়া এহন কই যাইয়াম। ঘর যে আবার বানাইয়াম ওই সামর্থ্য নাই। বড় কষ্টত পড়ছি আমরা।’

গতকাল রোববার দুপুরে ধারা ইউনিয়নের কুতিকুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে হেলে পড়ে আছে গাছ। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা গাছ সরানোর কাজ করছেন। ঠিক পাশে পড়ে আছে টুকরো টুকরো টিন। জানা গেল এখানে একটি টিনশেড চালকল ছিল। ঝড়ে উড়ে গেছে টিনের চালা।

ওই পথ ধরে একটু আগালে কৈচাপুর ইউনিয়নের গুনিয়ারিকান্দা গ্রাম। ঝড়ে এই গ্রামেই বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানকার দিনমজুর আবুল কাশেম জানান, বৃদ্ধ স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিকে নিয়ে তাঁর সংসার। ঘরটি ভেঙে পড়ায় বড় বিপাকে পড়েছেন তিনি। ঝড়ের পরে রাতে শুধু পানি খেয়েই রোজা রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘বাবারে সবারি তো বিপদ। এক ঝাপটায় ভেঙে গেল। কোনোরকমে নাতিনডারে লইয়া বাইর হয়ছি। আল্লাহ বাঁচাইছে। আমরা তো নিরুপায়। কেউ সহায়তা করলে ঘরডা তুলবার পাইতাম।’

গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, নদীর পারে ইলিয়াস, লোকমান ও সফিকুলের ঘর তছনছ হয়ে গেছে। অনেকে স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়ে ঘর করেছিলেন। তারা এখন চলবেন কিভাবে?

বিলডোরা ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দা গ্রামের হরমুজ আলীর বসতঘরের ওপর আম গাছ পড়েছিল। সেই গাছ কাটতে গেলে ডাল মাথার ওপর পড়ে মারা যান হরমুজ আলী।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ হালুয়াঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, ৩৩ কেবি লাইনের তিনিটি খুঁটি ঝড়ে ভেঙে গেছে। তিনি উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎ লাইন সচল করতে কাজ করছেন। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতের ভাষ্য, শনিবার ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। বিদ্যুতের অনেক খুঁটি পড়ে গেছে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের ব্যাপারে প্রয়োজনী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

হঠাৎ ঝড়ে ৪০ পরিবারে অনিশ্চিত ঈদ আনন্দ

আপডেট সময় ০৭:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

হালুয়াঘাটের ধারা, কৈচাপুর, বিলডোরা ইউনিয়নে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি বসতঘর ঝড়ে পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালা ও ফসলি ক্ষেত। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঝড় হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত। ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। ঘরবাড়ি, গাছপালার সঙ্গে ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামনে ঈদ। ঝড়ের ঝাপটা ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে তাদের। কিভাবে আবার মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করবেন, এই চিন্তায় দিশেহারা তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত হাতেম আলী জানান, হঠাৎ করে শোঁ শোঁ শব্দ। বুঝে ওঠার আগেই এক ঝাপটায় সব শেষ। কোনোরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁচেন তারা। ঘরের টিন তছনছ, আসবাব সব শেষ। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, ‘দুই আশের (হাঁসের) বাচ্ছা আছিন ঘরে একটাও নাই চাপা পইড়া মরছে। আল্লায় বাঁচাইয়া রাখছে এইডাই বেশি। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী-সন্তান লইয়া এহন কই যাইয়াম। ঘর যে আবার বানাইয়াম ওই সামর্থ্য নাই। বড় কষ্টত পড়ছি আমরা।’

গতকাল রোববার দুপুরে ধারা ইউনিয়নের কুতিকুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে হেলে পড়ে আছে গাছ। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা গাছ সরানোর কাজ করছেন। ঠিক পাশে পড়ে আছে টুকরো টুকরো টিন। জানা গেল এখানে একটি টিনশেড চালকল ছিল। ঝড়ে উড়ে গেছে টিনের চালা।

ওই পথ ধরে একটু আগালে কৈচাপুর ইউনিয়নের গুনিয়ারিকান্দা গ্রাম। ঝড়ে এই গ্রামেই বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানকার দিনমজুর আবুল কাশেম জানান, বৃদ্ধ স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিকে নিয়ে তাঁর সংসার। ঘরটি ভেঙে পড়ায় বড় বিপাকে পড়েছেন তিনি। ঝড়ের পরে রাতে শুধু পানি খেয়েই রোজা রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘বাবারে সবারি তো বিপদ। এক ঝাপটায় ভেঙে গেল। কোনোরকমে নাতিনডারে লইয়া বাইর হয়ছি। আল্লাহ বাঁচাইছে। আমরা তো নিরুপায়। কেউ সহায়তা করলে ঘরডা তুলবার পাইতাম।’

গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, নদীর পারে ইলিয়াস, লোকমান ও সফিকুলের ঘর তছনছ হয়ে গেছে। অনেকে স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়ে ঘর করেছিলেন। তারা এখন চলবেন কিভাবে?

বিলডোরা ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দা গ্রামের হরমুজ আলীর বসতঘরের ওপর আম গাছ পড়েছিল। সেই গাছ কাটতে গেলে ডাল মাথার ওপর পড়ে মারা যান হরমুজ আলী।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ হালুয়াঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, ৩৩ কেবি লাইনের তিনিটি খুঁটি ঝড়ে ভেঙে গেছে। তিনি উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎ লাইন সচল করতে কাজ করছেন। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতের ভাষ্য, শনিবার ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। বিদ্যুতের অনেক খুঁটি পড়ে গেছে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের ব্যাপারে প্রয়োজনী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।