দুদক মশিউরের বিরুদ্ধে গোপনে অনুসন্ধান শুরু করেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বর্তমানে দেশের অন্যতম ধনী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশেরই বিলাসী জীবনযাপন নজর কাড়ে। সামান্য একজন গাড়ি চালকেরও কমপক্ষে ৫টি বাড়ি ও কয়েকটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য রয়েছে। যুগে যুগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ উঠলেও তেমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজউকের গুলশান-১ স্টেট অফিসার মশিউর রহমান তার সম্পদের কারণে আলোচনায়। তিনি বিএনপি আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তার সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গোপীবাগ ও টিকাটুলি এলাকায় তার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। রাজধানীর পূর্বাচলে ৭ কাঠার ১টি প্লট, এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে—অনেকের নাম বেনামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজউক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মশিউর রহমান উত্তরা স্টেটে ১০ বছর চাকরি করার সময় নানা অবৈধ পথে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা অর্জন করেছেন। তিনি বিডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। উত্তরা এলাকায় প্লট জালিয়াতির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মশিউর রহমান কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও ৫ আগস্টের পর তিনি জাতীয় শ্রমিক দলের সক্রিয় সদস্য হয়েছেন। বর্তমান সময়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করেছেন।
রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অভিযোগ জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে মশিউর রহমান এখনও বহাল তবিয়াতে রয়েছেন। প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নিরীহ কর্মচারীরা জানাচ্ছেন, তার এই অব্যাহত কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো রাজউক কর্মকর্তা দলই দুর্নামের শিকার হচ্ছে। দুদক বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গোপনে অনুসন্ধান করছে।
রাজউক এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন কর্মকর্তাদের অব্যাহত থাকা সাধারণ জনগণের আস্থা হ্রাস করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করা হচ্ছে, দ্রুত তদন্ত শুরু করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















