ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে – গৃহায়ণমন্ত্রী কুমিল্লায় এসএন মার্কেটে দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ,নিরাপত্তার দাবি ভুক্তভোগীদের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই : আফরোজা খানম কালিহাতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে মারধর, চার দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৭:০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৫৯ বার পড়া হয়েছে

কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত এইচ, এম, এইচ, ভি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পিতা- মোঃ মুনসুর আলী, মাতা-মোছাঃ জুনুয়ারা খাতুন, গ্রাম- ভোমরদহ, ডাকঘর- জোড়পুকরিয়া, উপজেলা- গাংনী, জেলা- মেহেরপুর। অত্র বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের নিয়োগ ও সনদপত্রে দেখা যায়া যে, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত এমএস জোহা কৃষি কলেজে গত ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়, রোল নং- ১০৬২৫৭, রেজিষ্টেশন নং- ১৯৭৪৯৭। ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা অক্টোবর ২০০৮ এ পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, সার্টিফিকেট ইস্যু হয় ২৪ মে ২০০৯ খ্রিঃ তারিখে এই শিক্ষক ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার সনদ বের হওয়ার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে অত্র বিদ্যালয়ে ১০/০১/২০০৫ খ্রিঃ তারিখে শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে যোগদান করেন।
সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, কৃষি শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার পূর্বেই অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) নিয়োগ দিয়েছে। আমাকেও ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার শর্ত সাপেক্ষে কমিটি নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ বৈধ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি পরিপত্র অনুযায়ী আমার সকল কাগজ পত্র যাচাই বাচাই করে বেতন ভাতার ছাড় পত্র দিয়েছে।

এই বিষয়ে আরো জানার জন্য অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন যে, কৃষি ডিপ্লোমা ৬ সেমিস্টারের মধ্যে ৩ সেমিস্টার পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এমন কৃষি ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের কৃষি শিক্ষায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি পরিপত্র ২০০৫ সালে ছিলো। এই বিষয়টি আমি যেমন জানি অত্র বিদ্যালয়ের তত্ত্বকালীন সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানতেন। তাছাড়া আমরা চাকরি করি সভাপতির অধীনে। কোনো নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের একক সিন্ধান্তে নিয়োগ হয় না। সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীবিন্দের সিন্ধান্তে নিয়োগ হয়ে থাকে। অনেক সময় চাকরি বাঁচানোর জন্য অনেক অনিয়ম হাসি মুখে মেনে নিতে বাঁধ্য হতে হয়।
এই বিষয়ে গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন যে, আমার জানা মতে ২০০৫ সালে কৃষি ডিপ্লোমা ৬ সেমিস্টারের মধ্যে ৩ সেমিস্টার পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এমন কৃষি ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে কৃষি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি পরিপত্র ছিলো। পরিপত্রের বাহিরে নিয়োগ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। পরিপত্রের বাহিরে নিয়োগ হয়ে থাকলে সেটা নিশ্চয় বিধি সম্মত হয়নি।
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন এর মোবাইলে এই বিষয়ে আরো জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, এই বিষয় আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে অভিযোগটি তদন্ত চলছে তদন্ত রির্পোটে বিধি বর্হিভূত ভাবে নিয়োগ হলে তদন্ত রির্পোট সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরে আমরা পাঠিয়ে দিবো। শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান

ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ

আপডেট সময় ০৭:০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত এইচ, এম, এইচ, ভি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পিতা- মোঃ মুনসুর আলী, মাতা-মোছাঃ জুনুয়ারা খাতুন, গ্রাম- ভোমরদহ, ডাকঘর- জোড়পুকরিয়া, উপজেলা- গাংনী, জেলা- মেহেরপুর। অত্র বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের নিয়োগ ও সনদপত্রে দেখা যায়া যে, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত এমএস জোহা কৃষি কলেজে গত ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়, রোল নং- ১০৬২৫৭, রেজিষ্টেশন নং- ১৯৭৪৯৭। ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা অক্টোবর ২০০৮ এ পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, সার্টিফিকেট ইস্যু হয় ২৪ মে ২০০৯ খ্রিঃ তারিখে এই শিক্ষক ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার সনদ বের হওয়ার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে অত্র বিদ্যালয়ে ১০/০১/২০০৫ খ্রিঃ তারিখে শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে যোগদান করেন।
সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, কৃষি শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার পূর্বেই অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) নিয়োগ দিয়েছে। আমাকেও ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার শর্ত সাপেক্ষে কমিটি নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ বৈধ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি পরিপত্র অনুযায়ী আমার সকল কাগজ পত্র যাচাই বাচাই করে বেতন ভাতার ছাড় পত্র দিয়েছে।

এই বিষয়ে আরো জানার জন্য অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন যে, কৃষি ডিপ্লোমা ৬ সেমিস্টারের মধ্যে ৩ সেমিস্টার পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এমন কৃষি ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের কৃষি শিক্ষায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি পরিপত্র ২০০৫ সালে ছিলো। এই বিষয়টি আমি যেমন জানি অত্র বিদ্যালয়ের তত্ত্বকালীন সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানতেন। তাছাড়া আমরা চাকরি করি সভাপতির অধীনে। কোনো নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের একক সিন্ধান্তে নিয়োগ হয় না। সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীবিন্দের সিন্ধান্তে নিয়োগ হয়ে থাকে। অনেক সময় চাকরি বাঁচানোর জন্য অনেক অনিয়ম হাসি মুখে মেনে নিতে বাঁধ্য হতে হয়।
এই বিষয়ে গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন যে, আমার জানা মতে ২০০৫ সালে কৃষি ডিপ্লোমা ৬ সেমিস্টারের মধ্যে ৩ সেমিস্টার পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এমন কৃষি ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে কৃষি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি পরিপত্র ছিলো। পরিপত্রের বাহিরে নিয়োগ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। পরিপত্রের বাহিরে নিয়োগ হয়ে থাকলে সেটা নিশ্চয় বিধি সম্মত হয়নি।
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন এর মোবাইলে এই বিষয়ে আরো জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, এই বিষয় আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে অভিযোগটি তদন্ত চলছে তদন্ত রির্পোটে বিধি বর্হিভূত ভাবে নিয়োগ হলে তদন্ত রির্পোট সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তরে আমরা পাঠিয়ে দিবো। শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদপ্তর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।