ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০৫ স্কুল-কলেজের জমি ভূমিখেকোর পেটে

দেশের ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুরের কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৬ সালে। প্রতিষ্ঠাকালীন ৩০০ একরের ওপরে ছিল কলেজের জমি। শত বছরেরও বেশি পথ পরিক্রমায় বর্তমানে এই কলেজের প্রায় ২০২ শতক জমি বেদখল হয়ে গেছে। ১৯৪১ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীকাইল সরকারি কলেজ। বর্তমানে এই কলেজের মোট ৭ দশমিক ২০ একর জমির অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে। ১৯৪৯ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার নালগোলার জুম্মন ব্যাপারী লেনে (ভাওয়াল রাজ এস্টেট) ‘কায়েদ-ই-আজম কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে নাম পরিবর্তন করে হয় ‘সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ’।

কলেজের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠান ১ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এর জমি রয়েছে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ। নালগোলার জায়গায় কলেজের প্রথম স্থাপনাটি বেদখল হয়ে গেছে। একইভাবে রাজধানীর পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারে অবস্থিত ‘প্রিয়নাথ হাই স্কুল’, যা বর্তমানে নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানেরও অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে বলে মনে করেন শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

এভাবেই দেশের ৪৪টি জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আওতাধীন ১০৫টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জমির বেশ কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেছে। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বেদখল হওয়া এসব জমির পরিমাণ কয়েকশ একর হতে পারে। মাউশি অধিদপ্তরের জমির দলিলাদি সংরক্ষণসংক্রান্ত কমিটির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় ভূমিখেকোরা কবে ও কীভাবে এসব জমি বেদখল করেছে, প্রতিবেদনে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা পূর্বসূরি বা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অনেক জায়গা-জমির বিষয়ে গল্প শুনলেও কোনো কাগজপত্র না পাওয়ায় ব্যবস্থা নিতে পারেন না।

কালের পরিক্রমায় সরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি এখন দেশের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের জমি-জমার দলিলপত্র সঠিবভাবে সংরক্ষণ না করা, জমি-জমা পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের উদাসীনতা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের নিয়মিত নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই সবার অগোচরে ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যায় এসব জমি। রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে খোদ মাউশি অধিদপ্তরের জমিরই এখনো নামজারি হয়নি। এই জমি মাউশি কীভাবে পেয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো মাউশিরও জমি আশপাশের অন্য কোনো স্থাপনায় ঢুকে গেছে বলে ধারণা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের, কিন্তু কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই।

মাউশির জমির দলিল সংরক্ষণ কমিটি ও বেদখল হওয়া জমির একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি-জমা সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে গত এক বছরে মাউশির জমির দলিল সংরক্ষণ কমিটির সুপারিশ প্রদানের পর শুধু মাউশির জমির নামজারির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরে মাউশির ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন কোনো গতি পায়নি। প্রয়োজনীয় বাজেট, জনবলসহ নানা সমস্যার কারণে সুপারিশ বাস্তবায়নে ধীরগতি। এ বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুফল পেতে মাউশি অধিদপ্তরে ‘ভূমি’সংক্রান্ত আলাদা শাখা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এ শাখার মূল কাজই হবে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিসংক্রান্ত বিষয় তদারক করা।

জানা গেছে, সরকারের নির্দেশে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চেয়ে সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা-উপজেলা কার্যালয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় মাউশি। চিঠিতে জমি-জমার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা-ও উল্লেখ করতে বলা হয়। মাউশির বিশেষ শিক্ষা শাখার উপপরিচালক ও অধিদপ্তরের জমির দলিলাদি সংরক্ষণসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলামের কাছে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়।

মাউশির চাহিদামতো সারা দেশের ২১৮টি প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য পাঠায়। ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১০৫টিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। গত বছরের ৯ এপ্রিল জমির দলিলাদি সংরক্ষণ কমিটি ওই তালিকা পর্যালোচনা করে ১২টি সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাউশির মহাপরিচালকের কাছে জমা দেয়।

কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জমি নিয়ে মামলা থাকলে তা যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে নির্দেশ দেওয়া; মামলায় কোনো আদালতে হারলেও গাফিলতি ছাড়া আইনের সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত লড়াই করা, বেদখল জমি পুনরুদ্ধারে মামলা দায়ের; সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করে উচ্ছেদের ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করে মামলা পরিচালনা করা, বেসরকারি আইনজীবী নিয়োগ করে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া ইত্যাদি।

৪৪টি জেলার যে ১০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির অংশ বেদখল হয়েছে সেই জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম (রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও সাতকানিয়া), কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, খুলনা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, লালমনিরহাট, শেরপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, মৌলভীবাজার, বগুড়া, মাগুরা, যশোর, রংপুর, নড়াইল, পঞ্চগড়, পটুয়াখালী, পাবনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নওগাঁ।

বেদখলের শিকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হলো গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ সরকারি কলেজের ৬৫ শতাংশ জমি, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ৩ একর, সিলেট সরকারি কলেজের ৪৮ শতক, সিলেটের সরকারি অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭০ শতক, নওগাঁ সদরের কৃষ্ণধন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ একর, পটুয়াখালীর লেবুখালীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ দশমিক ৭৪ একর, শেরপুরের সরকারি করিমউদ্দিন পাবলিক কলেজের ১ দশমিক ৩৪ একর, গলাচিপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ১২ শতক, ফরিদপুরের সরকারি আইনউদ্দিন কলেজের ২ দশমিক ৩ একর এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজের ৬ শতাংশ জমি বেদখল হয়ে গেছে।

এদিকে জায়গার অভাবে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে জমি বন্দোবস্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহসীন কবির। আবেদনে তিনি লেখেন, ‘জানা যায়, কলেজের চারপাশের অধিকাংশ জমিই সরকারি পরিত্যক্ত/ভেস্টেড প্রাপার্টি। বিভিন্ন ব্যক্তি এগুলো লিজ নিয়ে ভোগদখল করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কলেজের সীমানাপ্রাচীরও ব্যবহার করছেন।’ সাবেক এই অধ্যক্ষ অবসরে চলে গেলেও জমি আর পাওয়া হয়নি কলেজের।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোহসীন কবির বলেন, শুনেছি, মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে নালগোলা নামে একটি স্থানে কলেজের স্থাপনা ছিল একসময়, সেই জমির এখন আর অস্তিত্ব নেই। কবে, কীভাবে বেদখল হয়ে গেছে জানি না। অন্যদিকে বর্তমান ক্যাম্পাসের জন্য বারবার চিঠি দিয়েও জমির ব্যবস্থা করা যায়নি।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের হেড ক্লার্ক (প্রধান সহকারী) মামুনুর রশীদও মিটফোর্ডের কাছে নালগোলায় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ক্ষমতার প্রভাবে জমিটি বেদখল হয়ে গেছে।

বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জমি বেদখল আছে স্বীকার করে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হোসেন মণ্ডল বলেন, কলেজের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, কমিটি জমি পুনরুদ্ধারের মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রাজধানীর নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশির দশকের একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা যখন পড়তেন, তখনো স্কুলের মাঠ চারপাশ থেকে অনেক বড় ছিল। কিন্তু এখন মাঠের চারপাশ ছোট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সীমানাও অনেক কমে গেছে। নাম প্রকাশ না করে স্কুলের একাধিক শিক্ষকও একই মত প্রকাশ করেছেন। নতুন করে ভূমি জরিপ হলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে দাবি তাদের।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি সরকার অধিগ্রহণ করে বা কোনো ব্যক্তি দান করে অথবা সরকার ক্রয় করে অর্থাৎ, যেভাবেই অর্জিত হোক তা সরকারি জমি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মশিহুর রহমান। তিনি বলেন, এসব জমি দখল করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জমির দলিলাদি সংরক্ষণসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাউশির জমি রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব, তবে এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব ডেস্কেরও দায়িত্ব পালন করতে হয়। একদিকে কাজ অনেক, জনবলও কম। তাই কাজে সময় লাগে।’ তিনি জানান, মাউশি অধিদপ্তরের পরিশোধযোগ্য ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই কর দেওয়ার পর অধিদপ্তরের জায়গার বিষয়টি আপডেট হবে। তিনি আরও বলেন, জমি-জমার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, তাই এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জমির তথ্যাদির তালিকা তৈরির সময় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মাউশির উপপরিচালক (বিশেষ শিক্ষা) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিঠির ভিত্তিতে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা দিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।’ তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জমি-জমার বিষয়ে ঝামেলা মনে করে অনেকেই হয়তো এড়িয়ে গেছেন।

১০৫ প্রতিষ্ঠানের জমিসংক্রান্ত তালিকা তৈরিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি-জমার রেকর্ড সংরক্ষণসহ নানাবিধ বিষয় সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ শাখার প্রয়োজন। বর্তমানে মাউশির প্রশাসন শাখা এ বিষয়ের দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণ করে। কিন্তু প্রশাসনের নিয়মিত অন্য অনেক কাজ থাকায় এ-সংক্রান্ত কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। পাশপাশি এসব কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট, জনবল ইত্যাদিরও অভাব রয়েছে। জমি-জমির এসব বিষয় স্থায়ীভাবে দেখভালের জন্য মাউশিতে ভূমিসংক্রান্ত শাখা স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জমিসংক্রান্ত কমিটি যখন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, তখন মাউশির মহাপরিচালক ছিলেন প্রফেসর ড. আজাদ খান। সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি সেই প্রতিবেদন দেখে যেসব জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেদখল হয়েছে, সেই জেলার প্রশাসকদের বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দিয়েছি। আমি চলে আসার পর আর ফলোআপ জানি না।’ তিনি আরও বলেন, জমি-জমার বিষয়টি অনেকটা স্লো-আইটেম। ফাইলগুলোর ফলোআপের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের তৎপরতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি। সবার আগে বেদখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পাশপাশি মাউশিতে এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলারও পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই মহাপরিচালক।

গত বৃহস্পতিবার মাউশির মহাপরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। জমিসংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মাত্রই দায়িত্ব পেয়েছি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০৫ স্কুল-কলেজের জমি ভূমিখেকোর পেটে

আপডেট সময় ১২:১৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুরের কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৬ সালে। প্রতিষ্ঠাকালীন ৩০০ একরের ওপরে ছিল কলেজের জমি। শত বছরেরও বেশি পথ পরিক্রমায় বর্তমানে এই কলেজের প্রায় ২০২ শতক জমি বেদখল হয়ে গেছে। ১৯৪১ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীকাইল সরকারি কলেজ। বর্তমানে এই কলেজের মোট ৭ দশমিক ২০ একর জমির অধিকাংশই বেদখল হয়ে গেছে। ১৯৪৯ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার নালগোলার জুম্মন ব্যাপারী লেনে (ভাওয়াল রাজ এস্টেট) ‘কায়েদ-ই-আজম কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে নাম পরিবর্তন করে হয় ‘সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ’।

কলেজের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠান ১ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এর জমি রয়েছে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ। নালগোলার জায়গায় কলেজের প্রথম স্থাপনাটি বেদখল হয়ে গেছে। একইভাবে রাজধানীর পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারে অবস্থিত ‘প্রিয়নাথ হাই স্কুল’, যা বর্তমানে নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানেরও অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে বলে মনে করেন শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

এভাবেই দেশের ৪৪টি জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আওতাধীন ১০৫টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জমির বেশ কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেছে। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বেদখল হওয়া এসব জমির পরিমাণ কয়েকশ একর হতে পারে। মাউশি অধিদপ্তরের জমির দলিলাদি সংরক্ষণসংক্রান্ত কমিটির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় ভূমিখেকোরা কবে ও কীভাবে এসব জমি বেদখল করেছে, প্রতিবেদনে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা পূর্বসূরি বা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অনেক জায়গা-জমির বিষয়ে গল্প শুনলেও কোনো কাগজপত্র না পাওয়ায় ব্যবস্থা নিতে পারেন না।

কালের পরিক্রমায় সরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি এখন দেশের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের জমি-জমার দলিলপত্র সঠিবভাবে সংরক্ষণ না করা, জমি-জমা পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের উদাসীনতা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের নিয়মিত নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই সবার অগোচরে ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যায় এসব জমি। রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে খোদ মাউশি অধিদপ্তরের জমিরই এখনো নামজারি হয়নি। এই জমি মাউশি কীভাবে পেয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো মাউশিরও জমি আশপাশের অন্য কোনো স্থাপনায় ঢুকে গেছে বলে ধারণা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের, কিন্তু কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই।

মাউশির জমির দলিল সংরক্ষণ কমিটি ও বেদখল হওয়া জমির একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি-জমা সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে গত এক বছরে মাউশির জমির দলিল সংরক্ষণ কমিটির সুপারিশ প্রদানের পর শুধু মাউশির জমির নামজারির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরে মাউশির ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন কোনো গতি পায়নি। প্রয়োজনীয় বাজেট, জনবলসহ নানা সমস্যার কারণে সুপারিশ বাস্তবায়নে ধীরগতি। এ বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুফল পেতে মাউশি অধিদপ্তরে ‘ভূমি’সংক্রান্ত আলাদা শাখা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এ শাখার মূল কাজই হবে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিসংক্রান্ত বিষয় তদারক করা।

জানা গেছে, সরকারের নির্দেশে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চেয়ে সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা-উপজেলা কার্যালয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় মাউশি। চিঠিতে জমি-জমার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা-ও উল্লেখ করতে বলা হয়। মাউশির বিশেষ শিক্ষা শাখার উপপরিচালক ও অধিদপ্তরের জমির দলিলাদি সংরক্ষণসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলামের কাছে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়।

মাউশির চাহিদামতো সারা দেশের ২১৮টি প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য পাঠায়। ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১০৫টিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। গত বছরের ৯ এপ্রিল জমির দলিলাদি সংরক্ষণ কমিটি ওই তালিকা পর্যালোচনা করে ১২টি সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাউশির মহাপরিচালকের কাছে জমা দেয়।

কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জমি নিয়ে মামলা থাকলে তা যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে নির্দেশ দেওয়া; মামলায় কোনো আদালতে হারলেও গাফিলতি ছাড়া আইনের সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত লড়াই করা, বেদখল জমি পুনরুদ্ধারে মামলা দায়ের; সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করে উচ্ছেদের ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করে মামলা পরিচালনা করা, বেসরকারি আইনজীবী নিয়োগ করে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া ইত্যাদি।

৪৪টি জেলার যে ১০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির অংশ বেদখল হয়েছে সেই জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম (রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও সাতকানিয়া), কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, খুলনা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, লালমনিরহাট, শেরপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, মৌলভীবাজার, বগুড়া, মাগুরা, যশোর, রংপুর, নড়াইল, পঞ্চগড়, পটুয়াখালী, পাবনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নওগাঁ।

বেদখলের শিকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হলো গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ সরকারি কলেজের ৬৫ শতাংশ জমি, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ৩ একর, সিলেট সরকারি কলেজের ৪৮ শতক, সিলেটের সরকারি অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭০ শতক, নওগাঁ সদরের কৃষ্ণধন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ একর, পটুয়াখালীর লেবুখালীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ দশমিক ৭৪ একর, শেরপুরের সরকারি করিমউদ্দিন পাবলিক কলেজের ১ দশমিক ৩৪ একর, গলাচিপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ১২ শতক, ফরিদপুরের সরকারি আইনউদ্দিন কলেজের ২ দশমিক ৩ একর এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজের ৬ শতাংশ জমি বেদখল হয়ে গেছে।

এদিকে জায়গার অভাবে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে জমি বন্দোবস্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহসীন কবির। আবেদনে তিনি লেখেন, ‘জানা যায়, কলেজের চারপাশের অধিকাংশ জমিই সরকারি পরিত্যক্ত/ভেস্টেড প্রাপার্টি। বিভিন্ন ব্যক্তি এগুলো লিজ নিয়ে ভোগদখল করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কলেজের সীমানাপ্রাচীরও ব্যবহার করছেন।’ সাবেক এই অধ্যক্ষ অবসরে চলে গেলেও জমি আর পাওয়া হয়নি কলেজের।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোহসীন কবির বলেন, শুনেছি, মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে নালগোলা নামে একটি স্থানে কলেজের স্থাপনা ছিল একসময়, সেই জমির এখন আর অস্তিত্ব নেই। কবে, কীভাবে বেদখল হয়ে গেছে জানি না। অন্যদিকে বর্তমান ক্যাম্পাসের জন্য বারবার চিঠি দিয়েও জমির ব্যবস্থা করা যায়নি।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের হেড ক্লার্ক (প্রধান সহকারী) মামুনুর রশীদও মিটফোর্ডের কাছে নালগোলায় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ক্ষমতার প্রভাবে জমিটি বেদখল হয়ে গেছে।

বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জমি বেদখল আছে স্বীকার করে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হোসেন মণ্ডল বলেন, কলেজের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, কমিটি জমি পুনরুদ্ধারের মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রাজধানীর নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশির দশকের একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা যখন পড়তেন, তখনো স্কুলের মাঠ চারপাশ থেকে অনেক বড় ছিল। কিন্তু এখন মাঠের চারপাশ ছোট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সীমানাও অনেক কমে গেছে। নাম প্রকাশ না করে স্কুলের একাধিক শিক্ষকও একই মত প্রকাশ করেছেন। নতুন করে ভূমি জরিপ হলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে দাবি তাদের।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি সরকার অধিগ্রহণ করে বা কোনো ব্যক্তি দান করে অথবা সরকার ক্রয় করে অর্থাৎ, যেভাবেই অর্জিত হোক তা সরকারি জমি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মশিহুর রহমান। তিনি বলেন, এসব জমি দখল করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জমির দলিলাদি সংরক্ষণসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক মাউশির উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাউশির জমি রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব, তবে এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব ডেস্কেরও দায়িত্ব পালন করতে হয়। একদিকে কাজ অনেক, জনবলও কম। তাই কাজে সময় লাগে।’ তিনি জানান, মাউশি অধিদপ্তরের পরিশোধযোগ্য ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই কর দেওয়ার পর অধিদপ্তরের জায়গার বিষয়টি আপডেট হবে। তিনি আরও বলেন, জমি-জমার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, তাই এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জমির তথ্যাদির তালিকা তৈরির সময় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মাউশির উপপরিচালক (বিশেষ শিক্ষা) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিঠির ভিত্তিতে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা দিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।’ তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জমি-জমার বিষয়ে ঝামেলা মনে করে অনেকেই হয়তো এড়িয়ে গেছেন।

১০৫ প্রতিষ্ঠানের জমিসংক্রান্ত তালিকা তৈরিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি-জমার রেকর্ড সংরক্ষণসহ নানাবিধ বিষয় সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ শাখার প্রয়োজন। বর্তমানে মাউশির প্রশাসন শাখা এ বিষয়ের দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণ করে। কিন্তু প্রশাসনের নিয়মিত অন্য অনেক কাজ থাকায় এ-সংক্রান্ত কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। পাশপাশি এসব কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট, জনবল ইত্যাদিরও অভাব রয়েছে। জমি-জমির এসব বিষয় স্থায়ীভাবে দেখভালের জন্য মাউশিতে ভূমিসংক্রান্ত শাখা স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জমিসংক্রান্ত কমিটি যখন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, তখন মাউশির মহাপরিচালক ছিলেন প্রফেসর ড. আজাদ খান। সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি সেই প্রতিবেদন দেখে যেসব জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেদখল হয়েছে, সেই জেলার প্রশাসকদের বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দিয়েছি। আমি চলে আসার পর আর ফলোআপ জানি না।’ তিনি আরও বলেন, জমি-জমার বিষয়টি অনেকটা স্লো-আইটেম। ফাইলগুলোর ফলোআপের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের তৎপরতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তিনি। সবার আগে বেদখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পাশপাশি মাউশিতে এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলারও পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই মহাপরিচালক।

গত বৃহস্পতিবার মাউশির মহাপরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। জমিসংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মাত্রই দায়িত্ব পেয়েছি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।