গাজীপুরে একাধিক মুক্তিযোদ্ধার মূল সনদপত্র গ্রহণ করে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহায়ক ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া সিল ব্যবহার করে কাগজপত্র নেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি তাকে ফোন করে ইউএনও অফিসে ডাকা হয়। সেখানে উপস্থিত হলে অফিস সহায়ক পরিচয়ে ইমতিয়াজ তার কাছে মুক্তিযোদ্ধার মূল সনদপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা নেন। এ সময় তাকে একটি লিখিত কাগজ দেওয়া হয়, যেখানে ইউএনও অফিসের সিল সংযুক্ত ছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে ওই কাগজপত্র ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কখনো বলা হয় কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না, কখনো বলা হয় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নির্দেশে কাগজ নেওয়া হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কাগজপত্র জমা নেওয়ার কোনো অফিসিয়াল রেকর্ড নেই।
বর্তমান গাজীপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একাধিকবার চেষ্টা করেও অফিসের রেকর্ডে এসব কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ইমতিয়াজ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। কখনো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কখনো জেলা প্রশাসক কিংবা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
বর্তমানে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমতিয়াজ আর ইউএনও অফিসে কর্মরত নেই; তিনি এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত থাকায় তাকে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর সদর উপজেলার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। তাদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ মূল কাগজপত্র গ্রহণ করলে তা অবশ্যই রেজিস্টারভুক্ত থাকতে হবে এবং যথাযথ রসিদ প্রদান করতে হবে। কিন্তু এখানে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, মূল সনদপত্র না থাকলে ভবিষ্যতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের দাবি—
* ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত
* জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা
* হারিয়ে যাওয়া মূল কাগজপত্র উদ্ধার বা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
তারা আশা করছেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত সমাধান করবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি দপ্তরের প্রতি আস্থা আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টাফ রিপোর্টারঃ 



















