ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুলশানে বাড়ি দখলসহ চাঁদাবাজি

সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে গুলশানে অন্যের বাড়ি-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় সন্ত্রাসী চক্রের হোতা আসামি হানিফ হাওলাদার ওরফে আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী মো. ইউসুফকে (৬১) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. আরমান আলী আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, গ্রেপ্তার আসামি ইউসুফ মূলত আলোচিত প্রতারক ও ভূমিদস্যু চক্রের হোতা, যিনি ‘ভুয়া আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী। এই চক্রটি বিভিন্নভাবে জাল জালিয়াতি করে গুলশানে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার​মূল হোতা শনাক্তকরণ, পলাতক ১ নম্বর আসামি ইসমাইল এবং নেপথ্যে থাকা অন্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। তদন্তের স্বার্থে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করছি।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ভুয়া আজিজ নিজেই ইতোমধ্যে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি যে আজিজ নয় তা স্বীকার করেছেন। এদের চক্রটি গুলশানে বড় বড় বাড়ি টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে থাকেন। তারই সহযোগী এই ইউসুফ। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হোক।

অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ মার্চ গুলশান-১-এর ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাসায় ইসমাইল ও ইউসুফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বাসায় ঢুকে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে। এসময় তারা বাসার মালিকের ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও লেবারদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তারা বাসার ভেতরের বেশ কিছু আম ও কাঁঠাল গাছও কেটে ফেলে। ওই ঘটনায় গত মাসের ৩ তারিখ বাড়িটির ম্যানেজার আবু শিকদার আবু বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে গুলশানের বাড়িসহ ওই সম্পত্তির দখলের চেষ্টা করছেন। বাড়িটির পূর্বের মালিক আব্দুল আজিজ খান মারা গেছেন আগেই। ভুয়া এনআইডি ও জাল দলিল তৈরি করে ভুয়া আজিজ সেজে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা আসামির প্রকৃত নাম মো. হানিফ হাওলাদার। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল গফুর হাওলাদার এবং মা মৃত হামিদা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা বরগুনার বেতাগীতে। ভুয়া আজিজ ওরফে হানিফ হাওলাদার এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ১১ এপ্রিল আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় দৈনিক কালবেলার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে পুলিশের মদদে বাড়ি দখলসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দখলের পাঁচ দিনের মাথায় ওই বাড়িটি ছেড়ে চলে যায় ভুয়া আজিজ খানের গ্রুপ। পরে বাড়ির প্রকৃত মালিকপক্ষ বাড়িটিতে অবস্থান নেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলশানে বাড়ি দখলসহ চাঁদাবাজি

সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে

আপডেট সময় ০৪:০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে গুলশানে অন্যের বাড়ি-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় সন্ত্রাসী চক্রের হোতা আসামি হানিফ হাওলাদার ওরফে আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী মো. ইউসুফকে (৬১) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. আরমান আলী আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, গ্রেপ্তার আসামি ইউসুফ মূলত আলোচিত প্রতারক ও ভূমিদস্যু চক্রের হোতা, যিনি ‘ভুয়া আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী। এই চক্রটি বিভিন্নভাবে জাল জালিয়াতি করে গুলশানে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার​মূল হোতা শনাক্তকরণ, পলাতক ১ নম্বর আসামি ইসমাইল এবং নেপথ্যে থাকা অন্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। তদন্তের স্বার্থে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করছি।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ভুয়া আজিজ নিজেই ইতোমধ্যে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি যে আজিজ নয় তা স্বীকার করেছেন। এদের চক্রটি গুলশানে বড় বড় বাড়ি টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে থাকেন। তারই সহযোগী এই ইউসুফ। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হোক।

অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ মার্চ গুলশান-১-এর ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাসায় ইসমাইল ও ইউসুফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বাসায় ঢুকে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে। এসময় তারা বাসার মালিকের ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও লেবারদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তারা বাসার ভেতরের বেশ কিছু আম ও কাঁঠাল গাছও কেটে ফেলে। ওই ঘটনায় গত মাসের ৩ তারিখ বাড়িটির ম্যানেজার আবু শিকদার আবু বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে গুলশানের বাড়িসহ ওই সম্পত্তির দখলের চেষ্টা করছেন। বাড়িটির পূর্বের মালিক আব্দুল আজিজ খান মারা গেছেন আগেই। ভুয়া এনআইডি ও জাল দলিল তৈরি করে ভুয়া আজিজ সেজে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা আসামির প্রকৃত নাম মো. হানিফ হাওলাদার। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল গফুর হাওলাদার এবং মা মৃত হামিদা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা বরগুনার বেতাগীতে। ভুয়া আজিজ ওরফে হানিফ হাওলাদার এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ১১ এপ্রিল আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় দৈনিক কালবেলার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে পুলিশের মদদে বাড়ি দখলসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দখলের পাঁচ দিনের মাথায় ওই বাড়িটি ছেড়ে চলে যায় ভুয়া আজিজ খানের গ্রুপ। পরে বাড়ির প্রকৃত মালিকপক্ষ বাড়িটিতে অবস্থান নেন।