ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’ পাঁচ মাস পর দেশের পথে মির্জা আব্বাস ১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে জেলা পুলিশের ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ বিটিভির লোগো পরিবর্তন নয়; দরকার দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীকে জেল-হাজতের ভাত খাওয়াব’: কাকে হুমকি দিলেন পলি? ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির মায়ের

৫০ শয্যার হাসপাতাল, চিকিৎসক মাত্র একজন

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভয়াবহ চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। ৫০ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এখানে থাকার কথা অন্তত ২৭ জন চিকিৎসকের। অথচ কর্মরত আছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার।

হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসক না থাকায় ভর্তি হয়েও সেবা পাচ্ছেন না তারা। জরুরি বিভাগে রোগী এলে নাম-ঠিকানা লিখে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে সিজারিয়ান সুবিধা থাকলেও গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতি মায়েদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো, নেই আল্ট্রাসনোগ্রাম সুবিধা। প্যাথোলজি বিভাগও চলছে দায়সারাভাবে। কোটি টাকায় নির্মিত হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি কোয়ার্টারগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। অপরিষ্কার টয়লেট ব্যবহারে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সখিপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ হাসপাতাল ৫০ শয্যার হলেও চিকিৎসক নেই বললেই চলে। একজন ডাক্তার দিয়ে কীভাবে এত রোগীর চিকিৎসা সম্ভব? আমরা চাই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শ্রাবন্তী মৃধা বলেন, অনেক সময় গুরুতর রোগী ভর্তি হয়। কিন্তু একজন মাত্র ডাক্তার থাকায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে রেফার করতে হয়।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার এবং একজন ডেন্টাল সার্জন আছেন। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এত রোগীকে সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিষয়টি মহাপরিচালক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সচল এবং সেবার মানোন্নয়ন না হলে দেবহাটার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’

৫০ শয্যার হাসপাতাল, চিকিৎসক মাত্র একজন

আপডেট সময় ১২:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভয়াবহ চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। ৫০ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এখানে থাকার কথা অন্তত ২৭ জন চিকিৎসকের। অথচ কর্মরত আছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার।

হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসক না থাকায় ভর্তি হয়েও সেবা পাচ্ছেন না তারা। জরুরি বিভাগে রোগী এলে নাম-ঠিকানা লিখে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে সিজারিয়ান সুবিধা থাকলেও গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতি মায়েদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো, নেই আল্ট্রাসনোগ্রাম সুবিধা। প্যাথোলজি বিভাগও চলছে দায়সারাভাবে। কোটি টাকায় নির্মিত হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি কোয়ার্টারগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। অপরিষ্কার টয়লেট ব্যবহারে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সখিপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ হাসপাতাল ৫০ শয্যার হলেও চিকিৎসক নেই বললেই চলে। একজন ডাক্তার দিয়ে কীভাবে এত রোগীর চিকিৎসা সম্ভব? আমরা চাই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শ্রাবন্তী মৃধা বলেন, অনেক সময় গুরুতর রোগী ভর্তি হয়। কিন্তু একজন মাত্র ডাক্তার থাকায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে রেফার করতে হয়।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার এবং একজন ডেন্টাল সার্জন আছেন। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এত রোগীকে সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিষয়টি মহাপরিচালক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সচল এবং সেবার মানোন্নয়ন না হলে দেবহাটার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।