ঘোড়াশাল-পলাশ সারকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছ শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে কারখানার ব্যাগিং সেকশনের মূল ফটকের সামনে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। সারকারখানার ব্যাগিং শাখার প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক, কর্মচারী এতে অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি কারখানার ব্যাগিং সেকশনের মূল ফটক থেকে শুরু হয়ে লোড-আনলোড গেইটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফটক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা আদায় ও আকস্মিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন,। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জহিরুল ইসলাম এই সারকারখানায় কাজ করে শ্রমিকদের লাখ লাখ টাকা বকেয়া রেখেই পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে আবারও একই প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ৪০-৫০ বছর ধরে কাজ করা পুরোনো শ্রমিকদের বাদ দিয়েছে। তাদের পরিবর্তে আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে শ্রমিক এনে এখানে কাজ করাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যেখানে ৫০০ টাকা মজুরি দিয়ে পূর্বের শ্রমিকরা কাজ করে কোন মতে জীবন যাপন করছিল। সেখানে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি দিয়ে নতুন শ্রমিকদের কাজ কারানোটা চুরি ছাড়া সম্ভব নয় মনে করছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। যার ফলে
দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞ শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
শ্রমিকদের এই আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা, বিগত দিনে বকেয়া থাকা সমস্ত মজুরি ও বেতন পরিশোধ করা, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই পুরোনো অভিজ্ঞ শ্রমিকদের স্বপদে বহাল রেখে কাজের সুযোগ দেওয়া। কারখানার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এ দিকে পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। শ্রমিকরা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ ও ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পনর্বহালের দাবি জানান।
অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার 





















