ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

বাংলালিংককে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) সেবা চালু করার জন্য বাংলালিংককে অভিনন্দন জানাই। এটি আমাদের টেলিযোগাযোগ খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভয়েস ওভার ওয়াইফাই এমন একটি প্রযুক্তি, যা মোবাইল ব্যবহারকারীদেরকে শুধুমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক (2G/3G/4G/5G)-এর ওপর নির্ভর না করে, এরেঞ্জড এভেইলেবল ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাধারণ ভয়েস কল করার সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা একই থাকে, তবে কলটি সেলুলার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তিনি লেখেন, যখন কোনো মোবাইলে VoWiFi চালু থাকে এবং সেটি ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়, তখন ফোনটি প্রথমে একটি বিশেষ ধরনের পরিচয় যাচাই (EAP-SIM/EAP-AKA অথেন্টিকেশন রিকোয়েস্ট) পাঠায়। এই রিকোয়েস্টটি একটি গেটওয়ের (ePDG ইভল্ভড প্যাকেট ডেটা গেইটওয়ে) মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের সার্ভারে পৌঁছায়। সেখানে থাকে AAA সার্ভার (Authentication, Authorization, Accounting), যা আবার অপারেটরের গ্রাহক তথ্যভাণ্ডার HLR/HSS (Home Subscriber Server)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। HLR/HSS-এ সংরক্ষিত থাকে সিম কার্ডের পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য, যেমন IMSI নম্বর এবং এনক্রিপশন KEY। এগুলো যাচাই করে নিশ্চিত করা হয় যে সিমটি সত্যিই বৈধ গ্রাহকের কিনা। যাচাই সফল হলে ফোন এবং অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কের (IMS) মধ্যে একটি নিরাপদ আইপি সিকিউরিটি (IPSec) টানেল তৈরি হয়। এর ফলে, ব্যবহারকারী ওয়াইফাই ব্যবহার করলেও তার ডিভাইস কার্যত অপারেটরের নিজস্ব নিরাপদ মোবাইল নেটওয়ার্কের ভেতরে কাজ করতে থাকে।

• ভালো ইনডোর কাভারেজ : বেজমেন্ট, উঁচু ভবন কিংবা গ্রামীণ এলাকায় যেখানে মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল, সেখানে কার্যকর।

• নেটওয়ার্ক চাপ কমায় : সেলুলার টাওয়ার থেকে ভয়েস ট্রাফিক অফলোড হয়, ফলে সামগ্রিক সেবার মান উন্নত হয়।

• উন্নত কল কোয়ালিটি : স্পষ্ট এইচডি মানের ভয়েস কল এবং কম কল ড্রপ।

• খরচ সাশ্রয়ী : বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় রেটে ওয়াইফাই ব্যবহার করে কল করা সম্ভব।

তিনি আরও লেখেন, সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছে, সকল মোবাইল অপারেটর দ্রুত সারা দেশে VoWiFi চালু করবে, যাতে নগর ও গ্রামীণ সব ব্যবহারকারী সমানভাবে উপকৃত হন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আগস্ট মাসের শুরুতে আমরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে প্রয়োজনীয় নীতি ও নির্দেশনা প্রণয়নের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আরও লেখেন, সরকার টেলিকম সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং VoWiFi, VoLTE, 5G সহ আধুনিক প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই যৌথ প্রচেষ্টা গ্রাহকসেবার মান বাড়াবে এবং বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ভবিষ্যৎকে আরও মজবুত

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

বাংলালিংককে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

আপডেট সময় ০৪:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) সেবা চালু করার জন্য বাংলালিংককে অভিনন্দন জানাই। এটি আমাদের টেলিযোগাযোগ খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভয়েস ওভার ওয়াইফাই এমন একটি প্রযুক্তি, যা মোবাইল ব্যবহারকারীদেরকে শুধুমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক (2G/3G/4G/5G)-এর ওপর নির্ভর না করে, এরেঞ্জড এভেইলেবল ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাধারণ ভয়েস কল করার সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা একই থাকে, তবে কলটি সেলুলার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তিনি লেখেন, যখন কোনো মোবাইলে VoWiFi চালু থাকে এবং সেটি ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়, তখন ফোনটি প্রথমে একটি বিশেষ ধরনের পরিচয় যাচাই (EAP-SIM/EAP-AKA অথেন্টিকেশন রিকোয়েস্ট) পাঠায়। এই রিকোয়েস্টটি একটি গেটওয়ের (ePDG ইভল্ভড প্যাকেট ডেটা গেইটওয়ে) মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের সার্ভারে পৌঁছায়। সেখানে থাকে AAA সার্ভার (Authentication, Authorization, Accounting), যা আবার অপারেটরের গ্রাহক তথ্যভাণ্ডার HLR/HSS (Home Subscriber Server)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। HLR/HSS-এ সংরক্ষিত থাকে সিম কার্ডের পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য, যেমন IMSI নম্বর এবং এনক্রিপশন KEY। এগুলো যাচাই করে নিশ্চিত করা হয় যে সিমটি সত্যিই বৈধ গ্রাহকের কিনা। যাচাই সফল হলে ফোন এবং অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কের (IMS) মধ্যে একটি নিরাপদ আইপি সিকিউরিটি (IPSec) টানেল তৈরি হয়। এর ফলে, ব্যবহারকারী ওয়াইফাই ব্যবহার করলেও তার ডিভাইস কার্যত অপারেটরের নিজস্ব নিরাপদ মোবাইল নেটওয়ার্কের ভেতরে কাজ করতে থাকে।

• ভালো ইনডোর কাভারেজ : বেজমেন্ট, উঁচু ভবন কিংবা গ্রামীণ এলাকায় যেখানে মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল, সেখানে কার্যকর।

• নেটওয়ার্ক চাপ কমায় : সেলুলার টাওয়ার থেকে ভয়েস ট্রাফিক অফলোড হয়, ফলে সামগ্রিক সেবার মান উন্নত হয়।

• উন্নত কল কোয়ালিটি : স্পষ্ট এইচডি মানের ভয়েস কল এবং কম কল ড্রপ।

• খরচ সাশ্রয়ী : বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় রেটে ওয়াইফাই ব্যবহার করে কল করা সম্ভব।

তিনি আরও লেখেন, সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছে, সকল মোবাইল অপারেটর দ্রুত সারা দেশে VoWiFi চালু করবে, যাতে নগর ও গ্রামীণ সব ব্যবহারকারী সমানভাবে উপকৃত হন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আগস্ট মাসের শুরুতে আমরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে প্রয়োজনীয় নীতি ও নির্দেশনা প্রণয়নের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আরও লেখেন, সরকার টেলিকম সেবা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং VoWiFi, VoLTE, 5G সহ আধুনিক প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই যৌথ প্রচেষ্টা গ্রাহকসেবার মান বাড়াবে এবং বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ভবিষ্যৎকে আরও মজবুত