ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামে এক দুবাইপ্রবাসীর বসতবাড়িতে হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিবাগত রাত থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকালের মধ্যে যেকোনো সময় প্রবাসীর তিনতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১ কেজি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, ৩০০টি মূল্যবান জমির দলিলসহ প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী কাজী সেলিম রেজা (৬৬) বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি তাঁর আপন ভাই-বোন ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জবরদখল ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভাদেশ্বরা গ্রামের মৃত কাজী ছন্দু মিয়ার ছেলে দুবাইপ্রবাসী কাজী সেলিম রেজা সম্প্রতি দেশে অবস্থান করছিলেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি খবর পান, তাঁর গ্রামের বাড়ির কাঁঠালগাছে বাড়ির মালিকানা দাবি করে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। ওই সাইনবোর্ডে তাঁর আপন ভাই কাজী টিপু সুলতানসহ অন্য ভাই-বোনদের নাম উল্লেখ করে পৈতৃক সূত্রে জায়গার মালিকানা দাবি করা হয়। পরে সেলিম রেজা সাইনবোর্ডটি খুলে নিজ হেফাজতে রাখেন।
অভিযোগ করা হয়, সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর ভাই-বোনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে জমিজমা জবরদখলের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রবাসী সেলিম রেজা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার কথা জানতে পেরে তাঁর ভাই কাজী টিপু সুলতানের পক্ষে স্থানীয় সন্ত্রাসী আবু শামীম মো. আরিফ (৫৫), মো. ইউসুফ (৪০)-সহ একটি দল তাঁদের প্রাণনাশের পরিকল্পনা করে।
জরুরি প্রয়োজনে সেদিন সেলিম রেজা বাড়িতে না আসায় পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে জানতে পারেন, তাঁর গ্রামের বাড়ির নিচতলার দরজার নাট-বল্টু ও ছিটকানি খোলা। পরে সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে এসে দেখেন, দ্বিতীয় তলার আলমারি ভেঙে প্রায় ১ কেজি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ৩০০টি সম্পদের মূল দলিল, ৩টি এলইডি টিভি, আইপিএস ব্যাটারি, এসি, ১০টি দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, কাপড়-চোপড় এবং পানি তোলার ৪টি মোটর ইঞ্জিন নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক হিসাব:
- স্বর্ণালংকার: ১ কেজি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা)
- দলিলপত্র: ৩০০টি মূল্যবান সম্পদের মূল দলিল
- অন্যান্য: ৩টি এলইডি টিভি, আইপিএস ব্যাটারি, এসি, ১০টি দামি ঘড়ি, ৫ লাখ টাকার অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি এবং ৪টি পানির মোটর
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া ৩টি রামদা, ৩টি চাপাতি ও ১টি লোহার শাবল উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, প্রবাসীর লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ক্রাইম রিপোর্টার মানিক 


















