ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঈদের ছুটি শেষ হলেও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদের ছুটিতে বৃষ্টির আগমনে রাজধানীর অনেকেই বেকায়দায় পড়েন। আবার অনেকেই উত্তপ্ত শহরে প্রশান্তির বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। বেকায়দায় পড়েন তারা, যারা ভেবে রেখেছিলেন ছুটিতে ঘুরতে বের হবেন। ঈদের চতুর্থ দিন সকাল থেকে শহর ছিল বৃষ্টিহীন। এ কারণে ঘুরতে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে পড়েন ঘর থেকে।

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থান হলো মিরপুরের বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। এখানে সারা বছরই থাকে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। তবে ঈদ বা অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতে থাকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) জাতীয় চিড়িয়াখানা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ঘুরতে আসার চিত্র। ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি থাকায় এ কয়দিন আশানুরূপ দর্শনার্থী আসেনি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি বলেও জানায় তারা।

রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। অনেকে এসেছেন প্রথমবারের মতো। তাদের উচ্ছ্বাসের মাত্রাও ছিল বেশি। শিশুদের নানারকম পশুপাখির সঙ্গে পরিচিত করাতে অনেকেই যান সেখানে।

মো. নাদির হোসেন পুরান ঢাকা থেকে তার ছেলে আনাস হোসেনকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন চিড়িয়াখানায়। তিনি আগে এলেও তার ছেলের এবারই প্রথম আসা। আনাস জানান, চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসে তার খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে বাঘ আর বানর।

শিশু মীম আক্তার বাবার সঙ্গে এসেছে চিড়িয়াখানায়। এবারই প্রথম এসেছে সে। মীম বলে, ‘চিড়িয়াখানা আমার খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে খরগোশ।’

মো. ইয়াসিন কেরানীগঞ্জ থেকে ঈদের ছুটিতে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি আগে এলেও তার স্ত্রী এবারই প্রথম আসেন। স্ত্রীকে চিড়িয়াখানা দেখানোর জন্যই আসা বলে জানান ইয়াসিন।

গাজীপুরের বোর্ডবাজার থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে শিশু অর্নব। সে বলে, চিড়িয়াখানায় এসে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি আগেও এসেছি। বারবার আসতে ইচ্ছে করে।’

বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনে দর্শনার্থীর ভিড় ছিল বেশি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে হায়েনার খাঁচার সামনেও ছিল সমান ভিড়।

প্রাণীদের খাঁচা ছাড়াও চিড়িয়াখানার শিশুপার্ক এবং প্রাণী জাদুঘরেও শিশুদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিভিন্ন রাইডে চড়তে ছিল লম্বা লাইন।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আমাদের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, র‍্যাব চিড়িয়াখানায় টহলরত আছে। আজ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

বৃষ্টিতে দর্শনার্থী আশানুরূপ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোরবানি ঈদের দিন এমনিতেই দর্শনার্থী সংখ্যা কম থাকে। কারণ সবার বাসায়ই কাজ থাকে। সাধারণত ঈদের দিন ৩০ হাজারের মতো দর্শনার্থী হয়। কিন্তু এবার ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজারের মতো। ঈদের পরদিন আমাদের ধারণা ছিল এক লাখের মতো দর্শনার্থী হবে, কিন্তু সেদিন হয়েছিল ৪০ হাজারের মতো। তারপরের দিনও আমরা এক লাখ দর্শনার্থী আশা করেছিলাম, কিন্তু সেদিন হয়েছিল ৩৫ হাজারের মতো। বৃষ্টির কারণের আমাদের দর্শনার্থী কমে গিয়েছিল। আজ আমাদের প্রত্যাশা ছিল ৮০ হাজার থেকে এক লাখ দর্শনার্থী হবে। আজ সেটা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে আজই শুধু বৃষ্টি ছাড়া একটি দিন পাওয়া গেছে। আমার মনে হয় দর্শনার্থীরা সেটিই কাজে লাগিয়েছেন।’

তবে আজ সারা দিন বৃষ্টিহীন থাকলেও বিকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানার ভেতরের বিভিন্ন ক্যানটিনসহ পরিচালকের অফিসের করিডোরে আশ্রয় নেন। অনেকে আবার বৃষ্টিতে ভিজেই চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাফলং সহ গোয়াইনঘাটের সবকটি পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হল

ঈদের ছুটি শেষ হলেও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়

আপডেট সময় ০৬:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০২৩

ঈদের ছুটিতে বৃষ্টির আগমনে রাজধানীর অনেকেই বেকায়দায় পড়েন। আবার অনেকেই উত্তপ্ত শহরে প্রশান্তির বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। বেকায়দায় পড়েন তারা, যারা ভেবে রেখেছিলেন ছুটিতে ঘুরতে বের হবেন। ঈদের চতুর্থ দিন সকাল থেকে শহর ছিল বৃষ্টিহীন। এ কারণে ঘুরতে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে পড়েন ঘর থেকে।

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থান হলো মিরপুরের বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। এখানে সারা বছরই থাকে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। তবে ঈদ বা অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতে থাকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) জাতীয় চিড়িয়াখানা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ঘুরতে আসার চিত্র। ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি থাকায় এ কয়দিন আশানুরূপ দর্শনার্থী আসেনি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি বলেও জানায় তারা।

রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। অনেকে এসেছেন প্রথমবারের মতো। তাদের উচ্ছ্বাসের মাত্রাও ছিল বেশি। শিশুদের নানারকম পশুপাখির সঙ্গে পরিচিত করাতে অনেকেই যান সেখানে।

মো. নাদির হোসেন পুরান ঢাকা থেকে তার ছেলে আনাস হোসেনকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন চিড়িয়াখানায়। তিনি আগে এলেও তার ছেলের এবারই প্রথম আসা। আনাস জানান, চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসে তার খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে বাঘ আর বানর।

শিশু মীম আক্তার বাবার সঙ্গে এসেছে চিড়িয়াখানায়। এবারই প্রথম এসেছে সে। মীম বলে, ‘চিড়িয়াখানা আমার খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে খরগোশ।’

মো. ইয়াসিন কেরানীগঞ্জ থেকে ঈদের ছুটিতে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি আগে এলেও তার স্ত্রী এবারই প্রথম আসেন। স্ত্রীকে চিড়িয়াখানা দেখানোর জন্যই আসা বলে জানান ইয়াসিন।

গাজীপুরের বোর্ডবাজার থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে শিশু অর্নব। সে বলে, চিড়িয়াখানায় এসে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি আগেও এসেছি। বারবার আসতে ইচ্ছে করে।’

বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনে দর্শনার্থীর ভিড় ছিল বেশি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে হায়েনার খাঁচার সামনেও ছিল সমান ভিড়।

প্রাণীদের খাঁচা ছাড়াও চিড়িয়াখানার শিশুপার্ক এবং প্রাণী জাদুঘরেও শিশুদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিভিন্ন রাইডে চড়তে ছিল লম্বা লাইন।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আমাদের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, র‍্যাব চিড়িয়াখানায় টহলরত আছে। আজ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

বৃষ্টিতে দর্শনার্থী আশানুরূপ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোরবানি ঈদের দিন এমনিতেই দর্শনার্থী সংখ্যা কম থাকে। কারণ সবার বাসায়ই কাজ থাকে। সাধারণত ঈদের দিন ৩০ হাজারের মতো দর্শনার্থী হয়। কিন্তু এবার ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজারের মতো। ঈদের পরদিন আমাদের ধারণা ছিল এক লাখের মতো দর্শনার্থী হবে, কিন্তু সেদিন হয়েছিল ৪০ হাজারের মতো। তারপরের দিনও আমরা এক লাখ দর্শনার্থী আশা করেছিলাম, কিন্তু সেদিন হয়েছিল ৩৫ হাজারের মতো। বৃষ্টির কারণের আমাদের দর্শনার্থী কমে গিয়েছিল। আজ আমাদের প্রত্যাশা ছিল ৮০ হাজার থেকে এক লাখ দর্শনার্থী হবে। আজ সেটা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে আজই শুধু বৃষ্টি ছাড়া একটি দিন পাওয়া গেছে। আমার মনে হয় দর্শনার্থীরা সেটিই কাজে লাগিয়েছেন।’

তবে আজ সারা দিন বৃষ্টিহীন থাকলেও বিকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানার ভেতরের বিভিন্ন ক্যানটিনসহ পরিচালকের অফিসের করিডোরে আশ্রয় নেন। অনেকে আবার বৃষ্টিতে ভিজেই চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখেন।