ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’ শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় : ড. মঈন খান বাউফলে মৎস্যজীবী দলের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, মোবাইল ভাঙচুর সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গাঁজা-স্কাফসহ গ্রেপ্তার ৪ মঠবাড়িয়ায় বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নওগাঁর রাণীনগরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কালিহাতীতে ৪ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক লালমনিরহাটে পাঁচ মাসের শিশুকে রেখে মাকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড আত্রাইয়ে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

চট্টগ্রামে জাল রেকর্ডে ২৪ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ

জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও তা ব্যবহার করে চট্টগ্রামে প্রায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৮ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন—চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক, ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। এ সময় জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করে সেগুলোকে আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে। জমিটি চট্টগ্রামের গোঁসাইলডাঙা মৌজায় অবস্থিত এবং লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের অংশ। জমির পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৬ শতক।

দুদকের হিসাবে, ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী বাড়ি বাদে ওই জমির মূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা। এর সঙ্গে জমির ভাড়া বাবদ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে জমির মূল্য ও ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করেই অভিযুক্তরা জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন। জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং জমি ভোগদখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। কমিশনের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’

চট্টগ্রামে জাল রেকর্ডে ২৪ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:২৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও তা ব্যবহার করে চট্টগ্রামে প্রায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৮ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন—চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক, ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। এ সময় জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করে সেগুলোকে আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে। জমিটি চট্টগ্রামের গোঁসাইলডাঙা মৌজায় অবস্থিত এবং লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের অংশ। জমির পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৬ শতক।

দুদকের হিসাবে, ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী বাড়ি বাদে ওই জমির মূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা। এর সঙ্গে জমির ভাড়া বাবদ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে জমির মূল্য ও ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করেই অভিযুক্তরা জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন। জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং জমি ভোগদখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। কমিশনের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।