ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদকবিরোধী ভূমিকার কুচক্রী মহলের নিশানায় ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান নাশকতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে: গয়েশ্বর নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস চুল টেনে লাল কার্ড খেলেন দুই খেলোয়াড় হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কীটনাশক ও বালাইনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশেহারা তাড়াইল উপজেলার কৃষক একটি দল বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মীর শাহে আলম মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের টাকা হরিলুট কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন ডিলান-বারবারা

কীটনাশক ও বালাইনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশেহারা তাড়াইল উপজেলার কৃষক

দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে কীটনাশকের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে বেশিরভাগ কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বেড়েছে গড়ে ২০ শতাংশ হারে। কোনো কোনো কীটনাশকের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে। কোম্পানিগুলো ‘ইচ্ছামতো’ দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতাদের।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য কীটনাশক, মাকড়নাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশকে সয়লাব। এর মধ্যে গোটা দশেক কোম্পানির অর্ধশতাধিক পণ্যের বেচাকেনা বেশি। প্রচলিত কোম্পানিগুলো হলো স্কয়ার, বায়ার, সেমকো, সিনজেনটা, অটোক্রপ, এসিআই, সেতু করপোরেশন, ন্যাশনাল ও পদ্মা অয়েল।

তাড়াইল উপজেলার সবকটি বাজারের সার ও কীটনাশকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম গড়ে ১০-২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির দাম দ্বিগুণও হয়েছে। আগে ১৪৫-১৫০ টাকা কেজির এই কৃষিপণ্যটির কেজি এখন ৩০০ টাকা। আগাছানাশক প্যারাকোয়াটের ২০ লিটারের ড্রামের দাম এখন ৬ হাজার ৫০০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ৪ হাজার ২০০ টাকা। সার, ছত্রাকনাশক ও মাকড়নাশক মাইক্রোথিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫ টাকা কেজি। অথচ ছয় মাস আগে দাম ৩০০ টাকার নিচে ছিল।

ছত্রাকনাশক ম্যানসার ১০০ মিলি ২০০ টাকা এবং ৫০০ মিলি ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এই পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল। উদ্ভিদের জৈব উজ্জীবক লিটোসেন ১০০ মিলি ১৯৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে। ছত্রাকনাশক সেলটিমার ১০০ মিলিতে গড়ে ২০ টাকা করে বেড়েছে। কীটনাশক মর্টারের দামও ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। কীটনাশক মার্শালের দাম ৫০০ মিলি এক বছরে ৮৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৮৫ টাকা হয়েছে। সুমিথিয়ান কার্টনপ্রতি বেড়েছে ২৫০ টাকা। নুট্রাফস ১০০ এমএল ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে।

কৃষক আব্দুল জলিল, ছাইদুর রহমান, মানিক মিয়াসহ আরও অনেকেই বলেন, ‘কীটনাশক লাগলে দোকানদারকে বললে দিয়ে দেয়। বাকিতে কিনতে হয় বলে যে দাম বলে, তাই দিয়ে কিনতে হয়। বাড়তি দাম বললে তাই দিতে হয়। শুধু বলে, কোম্পানি বাড়িয়েছে।’

তাড়াইল সদর বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বাড়ে। ডিলার থেকে তারা মালামাল সংগ্রহ করেন। কোম্পানি খুচরা মূল্য বাড়িয়ে দিলে তাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হয়। কেন দাম বাড়ল, তা কেউ জিজ্ঞেস করেন না। তারা আরও বলেন, কীটনাশকের দাম কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করে দেয়। তারা যেভাবে দাম লিখে দেয়, সেভাবেই বিক্রি হয়। এ নিয়ে তাদের কিছু করার থাকে না।

কোম্পানিগুলোই কীটনাশক ও বালাইনাশকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। এমনও দেখা গেছে, একটি পণ্যের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে।

কথা হয় তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, কীটনাশক বা বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয় বিক্রেতারা বড় ভূমিকা রাখেন। প্রয়োজন হোক বা না হোক, বিক্রেতাদের পরামর্শে কৃষকেরা নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেন। সমস্যা মনে হলেই কৃষক বিক্রেতা বা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ফলে কারণে-অকারণে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো কীটনাশকের দাম তাদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এর নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে পণ্য উৎপাদনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী ভূমিকার কুচক্রী মহলের নিশানায় ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান

কীটনাশক ও বালাইনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশেহারা তাড়াইল উপজেলার কৃষক

আপডেট সময় ০১:১৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে কীটনাশকের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে বেশিরভাগ কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বেড়েছে গড়ে ২০ শতাংশ হারে। কোনো কোনো কীটনাশকের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে। কোম্পানিগুলো ‘ইচ্ছামতো’ দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতাদের।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য কীটনাশক, মাকড়নাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশকে সয়লাব। এর মধ্যে গোটা দশেক কোম্পানির অর্ধশতাধিক পণ্যের বেচাকেনা বেশি। প্রচলিত কোম্পানিগুলো হলো স্কয়ার, বায়ার, সেমকো, সিনজেনটা, অটোক্রপ, এসিআই, সেতু করপোরেশন, ন্যাশনাল ও পদ্মা অয়েল।

তাড়াইল উপজেলার সবকটি বাজারের সার ও কীটনাশকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম গড়ে ১০-২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির দাম দ্বিগুণও হয়েছে। আগে ১৪৫-১৫০ টাকা কেজির এই কৃষিপণ্যটির কেজি এখন ৩০০ টাকা। আগাছানাশক প্যারাকোয়াটের ২০ লিটারের ড্রামের দাম এখন ৬ হাজার ৫০০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ৪ হাজার ২০০ টাকা। সার, ছত্রাকনাশক ও মাকড়নাশক মাইক্রোথিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫ টাকা কেজি। অথচ ছয় মাস আগে দাম ৩০০ টাকার নিচে ছিল।

ছত্রাকনাশক ম্যানসার ১০০ মিলি ২০০ টাকা এবং ৫০০ মিলি ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এই পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল। উদ্ভিদের জৈব উজ্জীবক লিটোসেন ১০০ মিলি ১৯৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে। ছত্রাকনাশক সেলটিমার ১০০ মিলিতে গড়ে ২০ টাকা করে বেড়েছে। কীটনাশক মর্টারের দামও ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। কীটনাশক মার্শালের দাম ৫০০ মিলি এক বছরে ৮৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৮৫ টাকা হয়েছে। সুমিথিয়ান কার্টনপ্রতি বেড়েছে ২৫০ টাকা। নুট্রাফস ১০০ এমএল ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে।

কৃষক আব্দুল জলিল, ছাইদুর রহমান, মানিক মিয়াসহ আরও অনেকেই বলেন, ‘কীটনাশক লাগলে দোকানদারকে বললে দিয়ে দেয়। বাকিতে কিনতে হয় বলে যে দাম বলে, তাই দিয়ে কিনতে হয়। বাড়তি দাম বললে তাই দিতে হয়। শুধু বলে, কোম্পানি বাড়িয়েছে।’

তাড়াইল সদর বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বাড়ে। ডিলার থেকে তারা মালামাল সংগ্রহ করেন। কোম্পানি খুচরা মূল্য বাড়িয়ে দিলে তাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হয়। কেন দাম বাড়ল, তা কেউ জিজ্ঞেস করেন না। তারা আরও বলেন, কীটনাশকের দাম কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করে দেয়। তারা যেভাবে দাম লিখে দেয়, সেভাবেই বিক্রি হয়। এ নিয়ে তাদের কিছু করার থাকে না।

কোম্পানিগুলোই কীটনাশক ও বালাইনাশকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। এমনও দেখা গেছে, একটি পণ্যের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে।

কথা হয় তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, কীটনাশক বা বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয় বিক্রেতারা বড় ভূমিকা রাখেন। প্রয়োজন হোক বা না হোক, বিক্রেতাদের পরামর্শে কৃষকেরা নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেন। সমস্যা মনে হলেই কৃষক বিক্রেতা বা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ফলে কারণে-অকারণে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো কীটনাশকের দাম তাদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এর নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে পণ্য উৎপাদনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।