ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনবিআর কর কমিশনার রাকিবের বিরুদ্ধে ৩২৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি মুকসুদপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের পরিবারের নামে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ দুবাইয়ে এইচবিএম ইকবালের ৭ বিলাসবহুল সম্পত্তি নিয়ে এনবিআরের অনুসন্ধান বরগুনার বেতাগীতে সেই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন বড়লেখায় সিন্ডিকেট ভাঙায় হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিল পুনঃনিলামে, রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ

যেভাবে ‘সিরিয়াল কিসার’ হলেন ইমরান হাশমি

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৬৭৩ বার পড়া হয়েছে

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ একটা সময়জুড়ে ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমাটি বয়ে বেড়িয়েছেন। পর্দায় তার এই ইমেজ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হলেও, এবার জানা গেল এক চমকপ্রদ তথ্য।

ইমরান হাশমির এই রোমান্টিক ও সাহসী ইমেজটি আসলে কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বলিউডে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বা জনসংযোগ কৌশল।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ হাজির হয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন প্রখ্যাত পিআর প্রফেশনাল পারুল গোসাই। তিনি জানান, ইমরান হাশমি নিজে এই ইমেজটি নিয়ে এতটাই বিরক্ত যে তিনি নিজেই এই সত্যটি সবার সামনে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করে পারুল বলেন, শুরুতে ইমরানের পিআর বা প্রচারণার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না।

তখন মহেশ ভাট তাকে বলেন যে ইমরানের জন্য একটা জোরদার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। পারুল লক্ষ করেন যে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ইমরানের চুম্বনের দৃশ্য-সংবলিত খবরগুলো পাঠক লুফে নিচ্ছে। তখনই তিনি মহেশ ভাটকে বুদ্ধি দেন, ইমরানের এমন একটা ইমেজ তৈরি করা হোক যাতে মনে হয় তিনি প্রতিটি সিনেমায় সব নায়িকাকেই চুম্বন করেন। মহেশ ভাটও এই আইডিয়াটি লুফে নেন।

তবে এই পরিকল্পনার কথা শুনে ইমরান শুরুতে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন এবং তার স্ত্রী পারভীন রেগে যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। পরে পারুল নিজে ইমরানের স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলেন যে এটি বাস্তব কিছু নয়, কেবলই একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন। মূলত মহেশ ভাটের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ইমরান এতে রাজি হন এবং এই কৌশলটি ভারতের মফস্বল অঞ্চলের দর্শকদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

২০০৩ সালে ‘ফুটপাত’ সিনেমার মাধ্যমে ডেবিউ করলেও ২০০৪ সালে ‘মার্ডার’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান ইমরান হাশমি। এই ছবিতে মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন এবং চুম্বন দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে তাকে ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

ইমরান নিজেও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে তারা জেনেশুনে এই ইমেজটিকে ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। তবে এক দশক পর নতুন প্রজন্মের দর্শকদের রুচির কথা মাথায় রেখে এবং একই চরিত্রে একঘেয়েমি এড়াতে তিনি ‘জান্নাত’, ‘আওয়ারাপন’ ও ‘সাংহাই’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। ইমরান হাশমি হেসে জানান, ভারতের মতো রক্ষণশীল সমাজে একবার এমন জোরালো ইমেজ তৈরি হয়ে গেলে মানুষ তা সহজে ভোলে না, তাই আজও যেকোনো সংবাদ সম্মেলনে তাকে এই পুরোনো ইমেজ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

যেভাবে ‘সিরিয়াল কিসার’ হলেন ইমরান হাশমি

আপডেট সময় ০৩:৩২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ একটা সময়জুড়ে ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমাটি বয়ে বেড়িয়েছেন। পর্দায় তার এই ইমেজ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হলেও, এবার জানা গেল এক চমকপ্রদ তথ্য।

ইমরান হাশমির এই রোমান্টিক ও সাহসী ইমেজটি আসলে কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বলিউডে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বা জনসংযোগ কৌশল।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ হাজির হয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন প্রখ্যাত পিআর প্রফেশনাল পারুল গোসাই। তিনি জানান, ইমরান হাশমি নিজে এই ইমেজটি নিয়ে এতটাই বিরক্ত যে তিনি নিজেই এই সত্যটি সবার সামনে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করে পারুল বলেন, শুরুতে ইমরানের পিআর বা প্রচারণার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না।

তখন মহেশ ভাট তাকে বলেন যে ইমরানের জন্য একটা জোরদার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। পারুল লক্ষ করেন যে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ইমরানের চুম্বনের দৃশ্য-সংবলিত খবরগুলো পাঠক লুফে নিচ্ছে। তখনই তিনি মহেশ ভাটকে বুদ্ধি দেন, ইমরানের এমন একটা ইমেজ তৈরি করা হোক যাতে মনে হয় তিনি প্রতিটি সিনেমায় সব নায়িকাকেই চুম্বন করেন। মহেশ ভাটও এই আইডিয়াটি লুফে নেন।

তবে এই পরিকল্পনার কথা শুনে ইমরান শুরুতে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন এবং তার স্ত্রী পারভীন রেগে যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। পরে পারুল নিজে ইমরানের স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলেন যে এটি বাস্তব কিছু নয়, কেবলই একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন। মূলত মহেশ ভাটের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ইমরান এতে রাজি হন এবং এই কৌশলটি ভারতের মফস্বল অঞ্চলের দর্শকদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

২০০৩ সালে ‘ফুটপাত’ সিনেমার মাধ্যমে ডেবিউ করলেও ২০০৪ সালে ‘মার্ডার’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান ইমরান হাশমি। এই ছবিতে মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন এবং চুম্বন দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে তাকে ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

ইমরান নিজেও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে তারা জেনেশুনে এই ইমেজটিকে ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। তবে এক দশক পর নতুন প্রজন্মের দর্শকদের রুচির কথা মাথায় রেখে এবং একই চরিত্রে একঘেয়েমি এড়াতে তিনি ‘জান্নাত’, ‘আওয়ারাপন’ ও ‘সাংহাই’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। ইমরান হাশমি হেসে জানান, ভারতের মতো রক্ষণশীল সমাজে একবার এমন জোরালো ইমেজ তৈরি হয়ে গেলে মানুষ তা সহজে ভোলে না, তাই আজও যেকোনো সংবাদ সম্মেলনে তাকে এই পুরোনো ইমেজ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

সূত্র: এনডিটিভি