
তারকাখ্যাতির বাইরে সালমান শাহর মানবিক দিকটিও শাবনূরের স্মৃতিতে গভীরভাবে জায়গা করে আছে। মানুষকে সম্মান করা এবং সবাইকে আপন করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার।
সেই স্মৃতিচারণা করে শাবনূর লিখেছেন, ‘কত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ ৯০-এর দশকের সেই সোনালী দিনগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে তুমি শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলে না, ছিলে একজন অসাধারণ হৃদয়ের মানুষ। তোমার আশপাশের প্রতিটি মানুষকে তুমি সম্মান করতে।
শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী—কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে। তোমার এই সুন্দর মন আর মানবিকতাই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে এতটা আপন করে রেখেছে।’
সালমানের সিনেমা কিংবা গান তাকে এখনো কীভাবে অতীতের সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নেয়, সেটিও জানিয়েছেন শাবনূর। তিনি লেখেন, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালী দিনগুলোতে।’
প্রিয় সহকর্মীর আত্মার শান্তি কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রার্থনা করেছেন শাবনূর। একই সঙ্গে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্য না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শাবনূরের ভাষায়, ‘প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সব সময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহর। স্মার্টনেস, অভিনয়শৈলী ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে খুব অল্প সময়েই তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন ২৭টি সিনেমায়। এর অধিকাংশই পেয়েছিল দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য।
মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও সালমান শাহর সবচেয়ে বেশি সিনেমার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। তাদের জুটি নব্বইয়ের দশকে এমন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে সালমান-শাবনূরের কোনো সিনেমা মুক্তি পেলেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল নামত।
স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া সালমান শাহ আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। জন্মদিনে সহকর্মীদের স্মৃতিচারণা আর ভক্তদের ভালোবাসায় আবারও সেই প্রিয় নায়কের নাম উচ্চারিত হচ্ছে শ্রদ্ধা ও আবেগে।