ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তেজগাঁও রেলস্টেশন ও কারওয়ান বাজারে ৩০০ অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ ফুয়াদ হাসান আকন্দের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচারের প্রকৃত সত্য প্রকাশ হোলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন স্থগিত রাজউকের ১,৪১৩ প্লট নিয়ে তদন্ত, স্থগিত ১,০৭৪টির কার্যক্রম ‘বিরিয়ানির ভাগ’ দিতে নারাজ বিএনপি: রাশেদ খাঁন দুই বছর লভ্যাংশ নেই মার্কেন্টাইল ব্যাংকে, ব্যাংকের টাকায় বিদেশ ঘুরছেন এমডি মতিউল হাসান চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি সভাপতি রানা, সম্পাদক বারী, যুগ্ম সম্পাদক কামাল নারায়ণগঞ্জে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’

তিন দশক আগে আজকের এই দিনে থমকে গিয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্র। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। তার চলে যাওয়ার পর কেটে গেছে ৩০ বছর, বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা। কিন্তু বদলায়নি তাকে ঘিরে দর্শকের ভালোবাসা।

আজও যেন আকাশের ওপারে প্রিয় নায়ককে উদ্দেশ করে ভক্তদের কণ্ঠে বাজে- ‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।’

সালমান শাহর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম তার। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় সন্তান ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গান, অভিনয় ও মডেলিংয়ের প্রতি ছিল তার ঝোঁক। শিশুদের বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে তাকে।

চলচ্চিত্রে তার প্রবেশও ছিল অনেকটা হঠাৎ করেই। অভিনয়কে শুরুতে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবেননি তিনি। পরিবারেরও প্রথম দিকে ছিল আপত্তি। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সম্মতিতে রুপালি পর্দায় পা রাখেন। এরপর যা ঘটেছে, তা যেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসেরই এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ হয়ে উঠেছিলেন দর্শকের স্বপ্নের নায়ক। অভিনয়ের পাশাপাশি তার পোশাক, চুলের স্টাইল, সানগ্লাস, ব্যান্ডানা, জিনস কিংবা মোটরসাইকেল-সবকিছুতেই ছিল আলাদা ছাপ। তরুণদের কাছে তার সাজপোশাক হয়ে উঠেছিল অনুকরণের বিষয়।

তবে শুধু বাহ্যিক স্টাইল নয়, প্রাণবন্ত হাসি, সাবলীল অভিনয় আর পর্দায় তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই ছিল জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ। নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে তিনি যেন নিয়ে এসেছিলেন একেবারে নতুন ধরনের নায়ক-ভাবনা।
মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করে নেন সালমান শাহ। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় তারকাদের একজন।

কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ থেমে যায় সেই পথচলা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে। প্রিয় নায়ককে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় অগণিত ভক্ত।

তার মৃত্যুর তিন দশক পরও তাকে ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড- এই প্রশ্ন আজও আলোচনায় আসে। সময় পেরিয়েছে, তদন্ত হয়েছে, নানা মত সামনে এসেছে; কিন্তু ভক্তদের মনে প্রিয় নায়কের চলে যাওয়ার সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

তবে মৃত্যুর ৩০ বছর পরও সালমান শাহকে মুছে দিতে পারেনি সময় । তার সিনেমা এখনও দর্শক দেখে, তার পোশাকের ধারা এখনো আলোচনায় আসে, তার অভিনয় নিয়ে নতুন প্রজন্মের আগ্রহও কমেনি। ২৪ বছরের সেই তরুণ নায়ক আজ শারীরিকভাবে নেই। নেই নতুন কোনো সিনেমা, নেই নতুন কোনো চরিত্র। অথচ ভক্তদের স্মৃতিতে তিনি আজও ঠিক আগের মতোই তরুণ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তেজগাঁও রেলস্টেশন ও কারওয়ান বাজারে ৩০০ অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’

আপডেট সময় ০৭:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন দশক আগে আজকের এই দিনে থমকে গিয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্র। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। তার চলে যাওয়ার পর কেটে গেছে ৩০ বছর, বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা। কিন্তু বদলায়নি তাকে ঘিরে দর্শকের ভালোবাসা।

আজও যেন আকাশের ওপারে প্রিয় নায়ককে উদ্দেশ করে ভক্তদের কণ্ঠে বাজে- ‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।’

সালমান শাহর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম তার। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় সন্তান ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গান, অভিনয় ও মডেলিংয়ের প্রতি ছিল তার ঝোঁক। শিশুদের বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে তাকে।

চলচ্চিত্রে তার প্রবেশও ছিল অনেকটা হঠাৎ করেই। অভিনয়কে শুরুতে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবেননি তিনি। পরিবারেরও প্রথম দিকে ছিল আপত্তি। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সম্মতিতে রুপালি পর্দায় পা রাখেন। এরপর যা ঘটেছে, তা যেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসেরই এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ হয়ে উঠেছিলেন দর্শকের স্বপ্নের নায়ক। অভিনয়ের পাশাপাশি তার পোশাক, চুলের স্টাইল, সানগ্লাস, ব্যান্ডানা, জিনস কিংবা মোটরসাইকেল-সবকিছুতেই ছিল আলাদা ছাপ। তরুণদের কাছে তার সাজপোশাক হয়ে উঠেছিল অনুকরণের বিষয়।

তবে শুধু বাহ্যিক স্টাইল নয়, প্রাণবন্ত হাসি, সাবলীল অভিনয় আর পর্দায় তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই ছিল জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ। নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে তিনি যেন নিয়ে এসেছিলেন একেবারে নতুন ধরনের নায়ক-ভাবনা।
মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করে নেন সালমান শাহ। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় তারকাদের একজন।

কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ থেমে যায় সেই পথচলা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে। প্রিয় নায়ককে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় অগণিত ভক্ত।

তার মৃত্যুর তিন দশক পরও তাকে ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড- এই প্রশ্ন আজও আলোচনায় আসে। সময় পেরিয়েছে, তদন্ত হয়েছে, নানা মত সামনে এসেছে; কিন্তু ভক্তদের মনে প্রিয় নায়কের চলে যাওয়ার সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

তবে মৃত্যুর ৩০ বছর পরও সালমান শাহকে মুছে দিতে পারেনি সময় । তার সিনেমা এখনও দর্শক দেখে, তার পোশাকের ধারা এখনো আলোচনায় আসে, তার অভিনয় নিয়ে নতুন প্রজন্মের আগ্রহও কমেনি। ২৪ বছরের সেই তরুণ নায়ক আজ শারীরিকভাবে নেই। নেই নতুন কোনো সিনেমা, নেই নতুন কোনো চরিত্র। অথচ ভক্তদের স্মৃতিতে তিনি আজও ঠিক আগের মতোই তরুণ।