সংসারের অভাব ঘোচানোর আশায় বাবার ২ শতক জমি বিক্রি করে প্রায় আড়াই বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপ্রতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস (২৮)। স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক দুর্দশা কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ১১ মে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ড্রোন হামলায় হামলায় প্রাণ হারান শুভ।
নিহত হওয়ার তিন মাস ২৬ দিন পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাড়িতে পৌঁছেছে শুভর মরদেহ। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও স্বজনরা। ছোট একটি ভাড়া ঘরে বসবাস করা পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম। শোকে পরিবারের সদস্যরা কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।
শুভর বাবা শুভরঞ্জন দাস এখনো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে বাবার দুই শতক জমি বিক্রি করে লেবাননে যান শুভ। সেখানে একটি বাড়ি ও সংলগ্ন ফলের বাগান দেখাশোনার কাজ করতেন তিনি। নিজের উপার্জন থেকে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুভর স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব দূর করার। কিছুটা সচ্ছলতা ফিরলে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনি।
শুভর এক প্রতিবেশী বলেন, পরিবারের অভাব কিছুটা কমানোর আশায় বাবার জমি বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছিল শুভ। ছেলেটা যে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কেউ ভাবেনি।
শুভর এক স্বজন বলেন, শুভর স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব দূর করবে। আজ সেই ছেলেটাই কফিনে করে বাড়িতে ফিরেছে। পরিবার এই কষ্ট কীভাবে সামলাবে জানি না।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ বাড়িতে এসেছে। সকালে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আমাদের যতটুকু সুপারিশের প্রয়োজন, সেগুলো দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। শুভর পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। পরিবারের কাউকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও আমরা ভাবছি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতে শুভর পরিবারের কাছে ৮৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে তিন লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি জীবনবীমার পক্ষ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে।
শুভর সৎকার কখন করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবার।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















