ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্ট চালুর পায়তারা, জ্বালানি বিভাগে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের তদবির দিরাইয়ের ওসির বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কুরিয়ার অফিস থেকে পার্সেল নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার ভুয়া চুক্তিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপের মানববন্ধন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে প্রশাসকের শুভেচ্ছা বিনিময় পবিপ্রবির পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর এনবিআরে যোগ দিতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র জাল নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রামে ৪ ভবনের অংশ ভাঙল সিডিএ, সিলগালা ২টি

দলিল নিবন্ধনে চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

দেশের দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, ভোগান্তিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন সংশোধন করে জারি করা হয়েছে ‘নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো দলিল নিবন্ধনে ‘ই-রেজিস্ট্রেশন’ বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংসদ বহাল না থাকায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে (সংবিধানের ৯৩-১ অনুচ্ছেদ) এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ৭৭(ক) ধারা যুক্ত করে ই-রেজিস্ট্রেশনের পথ সুগম করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইনে দলিল উপস্থাপন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা সরকার শিগগিরই প্রণয়ন করবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ৬৮ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো সাব-রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি সরকার নির্ধারিত ফি, কর বা শুল্ক যথাযথভাবে আদায় না করে দলিল রেজিস্ট্রি করেন, তবে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, অনাদায়ী ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

দলিল নিবন্ধনের আওতা বাড়িয়ে ৫২(ক) ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বিক্রয় দলিলের মতোই মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী ‘হেবা’ এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের ‘দান’ সংক্রান্ত ঘোষণাও নিবন্ধনের কঠোর আওয়াভুক্ত করা হলো। দলিলের সময়সীমাতেও এসেছে পরিবর্তন। দলিল সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।

জনভোগান্তি কমাতে আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করার ৪৫ দিনের মধ্যে এবং সাধারণ আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া দলিল উপস্থাপনের সময়েই সমস্ত ফি ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য

দলিল নিবন্ধনে চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

আপডেট সময় ০১:১৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, ভোগান্তিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন সংশোধন করে জারি করা হয়েছে ‘নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো দলিল নিবন্ধনে ‘ই-রেজিস্ট্রেশন’ বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংসদ বহাল না থাকায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে (সংবিধানের ৯৩-১ অনুচ্ছেদ) এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ৭৭(ক) ধারা যুক্ত করে ই-রেজিস্ট্রেশনের পথ সুগম করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইনে দলিল উপস্থাপন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা সরকার শিগগিরই প্রণয়ন করবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ৬৮ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো সাব-রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি সরকার নির্ধারিত ফি, কর বা শুল্ক যথাযথভাবে আদায় না করে দলিল রেজিস্ট্রি করেন, তবে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, অনাদায়ী ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

দলিল নিবন্ধনের আওতা বাড়িয়ে ৫২(ক) ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বিক্রয় দলিলের মতোই মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী ‘হেবা’ এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের ‘দান’ সংক্রান্ত ঘোষণাও নিবন্ধনের কঠোর আওয়াভুক্ত করা হলো। দলিলের সময়সীমাতেও এসেছে পরিবর্তন। দলিল সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।

জনভোগান্তি কমাতে আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করার ৪৫ দিনের মধ্যে এবং সাধারণ আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া দলিল উপস্থাপনের সময়েই সমস্ত ফি ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।