ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দলিল নিবন্ধনে চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

দেশের দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, ভোগান্তিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন সংশোধন করে জারি করা হয়েছে ‘নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো দলিল নিবন্ধনে ‘ই-রেজিস্ট্রেশন’ বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংসদ বহাল না থাকায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে (সংবিধানের ৯৩-১ অনুচ্ছেদ) এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ৭৭(ক) ধারা যুক্ত করে ই-রেজিস্ট্রেশনের পথ সুগম করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইনে দলিল উপস্থাপন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা সরকার শিগগিরই প্রণয়ন করবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ৬৮ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো সাব-রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি সরকার নির্ধারিত ফি, কর বা শুল্ক যথাযথভাবে আদায় না করে দলিল রেজিস্ট্রি করেন, তবে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, অনাদায়ী ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

দলিল নিবন্ধনের আওতা বাড়িয়ে ৫২(ক) ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বিক্রয় দলিলের মতোই মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী ‘হেবা’ এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের ‘দান’ সংক্রান্ত ঘোষণাও নিবন্ধনের কঠোর আওয়াভুক্ত করা হলো। দলিলের সময়সীমাতেও এসেছে পরিবর্তন। দলিল সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।

জনভোগান্তি কমাতে আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করার ৪৫ দিনের মধ্যে এবং সাধারণ আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া দলিল উপস্থাপনের সময়েই সমস্ত ফি ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

দলিল নিবন্ধনে চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

আপডেট সময় ০১:১৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, ভোগান্তিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন সংশোধন করে জারি করা হয়েছে ‘নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো দলিল নিবন্ধনে ‘ই-রেজিস্ট্রেশন’ বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংসদ বহাল না থাকায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতাবলে (সংবিধানের ৯৩-১ অনুচ্ছেদ) এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ৭৭(ক) ধারা যুক্ত করে ই-রেজিস্ট্রেশনের পথ সুগম করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইনে দলিল উপস্থাপন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা সরকার শিগগিরই প্রণয়ন করবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ৬৮ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো সাব-রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি সরকার নির্ধারিত ফি, কর বা শুল্ক যথাযথভাবে আদায় না করে দলিল রেজিস্ট্রি করেন, তবে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, অনাদায়ী ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

দলিল নিবন্ধনের আওতা বাড়িয়ে ৫২(ক) ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে বিক্রয় দলিলের মতোই মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী ‘হেবা’ এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের ‘দান’ সংক্রান্ত ঘোষণাও নিবন্ধনের কঠোর আওয়াভুক্ত করা হলো। দলিলের সময়সীমাতেও এসেছে পরিবর্তন। দলিল সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।

জনভোগান্তি কমাতে আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করার ৪৫ দিনের মধ্যে এবং সাধারণ আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া দলিল উপস্থাপনের সময়েই সমস্ত ফি ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।