ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিজ জেলায় চাকরি করে কোটিপতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পিআইও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা অনিক ও সোহেলের ভুয়া “প্রাচীন পিলার ও কয়েন” চক্রে নিঃস্ব হচ্ছে অনেকে এক ধরনের এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল : চঞ্চল চৌধুরী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন সরফরাজ ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোটার্স সোসাইটি ও সাপ্তাহিক পল্লীদূত পত্রিকার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল  আত্রাইয়ে এবারে ঈদ বাজারে বাজেটের চেয়ে দাম বেশি পছন্দের পোশাকের সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর ভবনের ছাদে মিলল শিশুর মরদেহ মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ শবে কদর লাভের সহজ ৫ উপায়

জাবিতে খাসির বদলে গরুর কলিজা দেয়ায় দোকান ভাঙচুর করলো হিন্দু শিক্ষার্থীরা

  • জাবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৮:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৬৯৪ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলায় খাবারের দোকানে খাসির কলিজার জায়গায় গরুর কলিজা পরিবেশন করায় খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে হিন্দু শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে দোকান বরাদ্দ বাতিল করে তালাবদ্ধ করে দেয় হল কর্তৃপক্ষ।  বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকার রাধুনী হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুপুর আড়াইটায় বান্ধবীকে নিয়ে রাঁধুনী হোটেলে আসেন বোটানি ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ বড়াল। তিনি দোকানের কর্মচারী ফারুককে খাসির কলিজা দেয়ার কথা বলেন। কর্মচারী তাকে কলিজা পরিবেশন করলে পরে বুঝতে পারেন সেটা গরুর কলিজা ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দোকান মালিক মো. রিপনকে জিজ্ঞেস করলে এ বিষয়ের সত্যতা পান। পরে বিশ্বজিতের ডাকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা এসে দোকানের খাবারের গামলা নিচে ফেলে দেয় ও প্লেট ভাংচুর করে৷

পরে বিকাল ৪ টায় প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলমসহ টিক্টোরিয়াল টিম সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় প্রক্টরের সামনেই রনি চন্দ্র নামে ৪৯ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী দোকান মালিক রিপনকে মারধর করে৷

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ বড়াল (বোটানি ৫১ ব্যাচ) বলেন, আমাকে খাসির কলিজা বলে গরুর কলিজা খাওয়ানো হয়েছে৷ এটা আমার ধর্মে বারণ বা পাপ। এ কাজ করে দোকানদার গুরুতর অন্যায় করেছে। তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বোটানি ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ সরকার বলেন, এর আগেও রফিক জব্বারের পাশে সাদেকের দোকানে এমন হয়েছে। তারপরও তাদের শিক্ষা হয় না। ২০ মিনিটের মধ্যে প্রক্টর এখানে না আসলে আমরা দোকান ভেঙে গুড়িয়ে দিবো। দোকান মালিক ও স্টাফকে পুলিশে দিতে হবে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এ ব্যাপারে দোকান মালিক রিপন বলেন, আমার স্টাফের আসলে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল, ভাই কি খেতে চায়। এটা নিশ্চিতভাবে একটা বড় ভুল। আমি ভাই আর আপুর হাতে পায়ে ধরে মাফ চেয়েছি। বলেছি, আর কখনো এমন হবে না৷ কিন্তু তারা তবুও আমার কথা শুনছে না। দোকান বন্ধ করে দিলে আমি চলতে পারব না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, দোকানটা কামালউদ্দিন হলের অধীনে। আমি একই সাথে কামাল উদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে রিপন মিয়ার দোকানের বরাদ্দ বাতিল করলাম। তার দোকান এখন থেকেই তালাবদ্ধ থাকবে৷ পরবর্তীতে সে এসে মালামাল নিয়ে যাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ জেলায় চাকরি করে কোটিপতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পিআইও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা

জাবিতে খাসির বদলে গরুর কলিজা দেয়ায় দোকান ভাঙচুর করলো হিন্দু শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৮:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলায় খাবারের দোকানে খাসির কলিজার জায়গায় গরুর কলিজা পরিবেশন করায় খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে হিন্দু শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে দোকান বরাদ্দ বাতিল করে তালাবদ্ধ করে দেয় হল কর্তৃপক্ষ।  বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকার রাধুনী হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুপুর আড়াইটায় বান্ধবীকে নিয়ে রাঁধুনী হোটেলে আসেন বোটানি ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ বড়াল। তিনি দোকানের কর্মচারী ফারুককে খাসির কলিজা দেয়ার কথা বলেন। কর্মচারী তাকে কলিজা পরিবেশন করলে পরে বুঝতে পারেন সেটা গরুর কলিজা ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দোকান মালিক মো. রিপনকে জিজ্ঞেস করলে এ বিষয়ের সত্যতা পান। পরে বিশ্বজিতের ডাকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা এসে দোকানের খাবারের গামলা নিচে ফেলে দেয় ও প্লেট ভাংচুর করে৷

পরে বিকাল ৪ টায় প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলমসহ টিক্টোরিয়াল টিম সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় প্রক্টরের সামনেই রনি চন্দ্র নামে ৪৯ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী দোকান মালিক রিপনকে মারধর করে৷

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ বড়াল (বোটানি ৫১ ব্যাচ) বলেন, আমাকে খাসির কলিজা বলে গরুর কলিজা খাওয়ানো হয়েছে৷ এটা আমার ধর্মে বারণ বা পাপ। এ কাজ করে দোকানদার গুরুতর অন্যায় করেছে। তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বোটানি ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ সরকার বলেন, এর আগেও রফিক জব্বারের পাশে সাদেকের দোকানে এমন হয়েছে। তারপরও তাদের শিক্ষা হয় না। ২০ মিনিটের মধ্যে প্রক্টর এখানে না আসলে আমরা দোকান ভেঙে গুড়িয়ে দিবো। দোকান মালিক ও স্টাফকে পুলিশে দিতে হবে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এ ব্যাপারে দোকান মালিক রিপন বলেন, আমার স্টাফের আসলে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল, ভাই কি খেতে চায়। এটা নিশ্চিতভাবে একটা বড় ভুল। আমি ভাই আর আপুর হাতে পায়ে ধরে মাফ চেয়েছি। বলেছি, আর কখনো এমন হবে না৷ কিন্তু তারা তবুও আমার কথা শুনছে না। দোকান বন্ধ করে দিলে আমি চলতে পারব না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, দোকানটা কামালউদ্দিন হলের অধীনে। আমি একই সাথে কামাল উদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে রিপন মিয়ার দোকানের বরাদ্দ বাতিল করলাম। তার দোকান এখন থেকেই তালাবদ্ধ থাকবে৷ পরবর্তীতে সে এসে মালামাল নিয়ে যাবে।