ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

তীব্র গরমের মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় লাগামহীন লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোলট্রি জোন হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মারাত্মক সংকটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গোয়ালন্দে বিদ্যুতের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে লোডশেডিং শুরু হয়ে বিদ্যুৎ আসে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। এরপর সন্ধ্যা, রাত ও গভীর রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু হয়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের পর সকাল ও দিনের বিভিন্ন সময়ও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ও একই চিত্র দেখা যায়-দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা।

তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারগুলোতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান খামারিরা।

গোয়ালন্দ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘নিয়মিত লোডশেডিং ও তীব্র গরমে পোলট্রি খামারিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেনারেটর চালিয়ে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠছে। অনেক খামার বন্ধ হওয়ার পথে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শহরের কিছু এলাকায় বিশেষ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

গোয়ালন্দ পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নববর্ষের আয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও আগের রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাদের কর্মসূচি বিঘ্নিত হয়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) গোয়ালন্দ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘গোয়ালন্দে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট সময় ০৮:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র গরমের মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় লাগামহীন লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোলট্রি জোন হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মারাত্মক সংকটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গোয়ালন্দে বিদ্যুতের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে লোডশেডিং শুরু হয়ে বিদ্যুৎ আসে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। এরপর সন্ধ্যা, রাত ও গভীর রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু হয়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের পর সকাল ও দিনের বিভিন্ন সময়ও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ও একই চিত্র দেখা যায়-দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা।

তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারগুলোতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান খামারিরা।

গোয়ালন্দ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘নিয়মিত লোডশেডিং ও তীব্র গরমে পোলট্রি খামারিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেনারেটর চালিয়ে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠছে। অনেক খামার বন্ধ হওয়ার পথে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শহরের কিছু এলাকায় বিশেষ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

গোয়ালন্দ পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নববর্ষের আয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও আগের রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাদের কর্মসূচি বিঘ্নিত হয়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) গোয়ালন্দ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘গোয়ালন্দে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।’