সংবাদ শিরোনাম ::
গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ ডিএনসিসির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পবিপ্রবিতে ব্যবসায় প্রশাসন, সিএসই ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের দূর্নীতি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান  আমশিল্প ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

আ.লীগ আমলে আইসিটি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ১০ হাজার কোটি টাকা

আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরে নেওয়া ২১টি প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি ব্যয় করা হয়। এমন অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বের আওতার মধ্যেই পড়ে না। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এখনো উদ্যোগ নেওয়া হলে এসব প্রকল্প থেকে অন্তত ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। আইসিটি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত রোববার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও তদন্ত কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেছেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে একটি ভয়াবহ লুটপাট ও অপব্যবস্থাপনার খাত হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিয়ে গেছে। তাদের অপকর্মে দেশের ডিজিটাল ইকোনমি এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতিও নাজুক হয়েছে।

তিনি বলেন, বেপরোয়া দুর্নীতির ওপর দাঁড়িয়ে গণভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্তির পরে এই খাতের অপখরচ ও মেগা দুর্নীতি থামানোর জন্য যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এমন তদন্ত যাতে অতীতের মতো ফাইলবন্দি হয়ে না থাকে; বরং আগামী ১০০ দিনের কার্যক্রমে সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। দুর্নীতি নয় বরং তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনকে বৈষম্যহীন উন্নয়নের সোপান হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও এর অধীন সংস্থা-দপ্তরগুলোতে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেওয়া ২১টি প্রকল্প মূল্যায়ন করে ১৩ সদস্যের ওই কমিটি। প্রকল্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত যেসব অপচয়, অসংগতি, দুর্বলতা, আর্থিক ক্ষতি, অসম চুক্তি, সুবিধাভোগী নির্বাচনে অস্বচ্ছতা, জনবল নিয়োগে অনিয়ম, অনৈতিকতা, একই কাজ বারবার করার মতো বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিত করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। কমিটি এ বিষয়ে পাঁচ দফা সুপারিশও করেছে।

এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামের নির্দেশে গত ৮ আগস্ট আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী সরাসরি এই তদন্তকাজে দিকনির্দেশনা দেন। পরে এতে যুক্ত হন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার ফায়েজ আহমদ তৈয়ব।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই খাতে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খোঁজ মিলেছে। ডুপ্লিকেশন, ট্রিপলিকেশন হয়েছে। একটা কাজ হয়তো হয়ে গেছে আবার এ কাজটি করা হয়েছে। ৫ টাকায় যে কাজ করা যেত, সেটি ওই প্রকল্পেই ২০ টাকায় করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও কাজই হয়নি। আমরা রাষ্ট্রের অর্থ ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো কেটে দিচ্ছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

আ.লীগ আমলে আইসিটি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ১০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ০২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরে নেওয়া ২১টি প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি ব্যয় করা হয়। এমন অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বের আওতার মধ্যেই পড়ে না। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এখনো উদ্যোগ নেওয়া হলে এসব প্রকল্প থেকে অন্তত ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। আইসিটি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত রোববার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও তদন্ত কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেছেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে একটি ভয়াবহ লুটপাট ও অপব্যবস্থাপনার খাত হিসেবে পরিচিত করিয়ে দিয়ে গেছে। তাদের অপকর্মে দেশের ডিজিটাল ইকোনমি এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতিও নাজুক হয়েছে।

তিনি বলেন, বেপরোয়া দুর্নীতির ওপর দাঁড়িয়ে গণভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্তির পরে এই খাতের অপখরচ ও মেগা দুর্নীতি থামানোর জন্য যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এমন তদন্ত যাতে অতীতের মতো ফাইলবন্দি হয়ে না থাকে; বরং আগামী ১০০ দিনের কার্যক্রমে সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। দুর্নীতি নয় বরং তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনকে বৈষম্যহীন উন্নয়নের সোপান হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও এর অধীন সংস্থা-দপ্তরগুলোতে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেওয়া ২১টি প্রকল্প মূল্যায়ন করে ১৩ সদস্যের ওই কমিটি। প্রকল্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত যেসব অপচয়, অসংগতি, দুর্বলতা, আর্থিক ক্ষতি, অসম চুক্তি, সুবিধাভোগী নির্বাচনে অস্বচ্ছতা, জনবল নিয়োগে অনিয়ম, অনৈতিকতা, একই কাজ বারবার করার মতো বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিত করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। কমিটি এ বিষয়ে পাঁচ দফা সুপারিশও করেছে।

এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামের নির্দেশে গত ৮ আগস্ট আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী সরাসরি এই তদন্তকাজে দিকনির্দেশনা দেন। পরে এতে যুক্ত হন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার ফায়েজ আহমদ তৈয়ব।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই খাতে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খোঁজ মিলেছে। ডুপ্লিকেশন, ট্রিপলিকেশন হয়েছে। একটা কাজ হয়তো হয়ে গেছে আবার এ কাজটি করা হয়েছে। ৫ টাকায় যে কাজ করা যেত, সেটি ওই প্রকল্পেই ২০ টাকায় করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও কাজই হয়নি। আমরা রাষ্ট্রের অর্থ ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো কেটে দিচ্ছি।