ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ৫৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে কানাই বলাই বিগ্রহ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ রংপুরে ১৯ পিস ইয়াবাসহ দুই পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস : এনবিআরের ২ কর্মী বরখাস্ত ২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুলে পরপর দুইবার চুরি কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রধান শিক্ষক কসবায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার মৃত্যু, স্ত্রী ও মেয়ে আটক কুমিল্লায় যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ভোলাহাটে চামুশা সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ ইসকাপ জব্দ!! আত্রাইয়ে মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায়  ১৫০টি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ

আন্দোলনকারীদের আদালতে আসার আহ্বান প্রধান বিচারপতির

এবার সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আদালতে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের নেতাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, কোটা নিয়ে যারা আন্দোলন করছে তাদের পরামর্শ দিন। তারা কেনো নির্বাহী বিভাগের কথা বলছে? নির্বাহী বিভাগের যেকোনো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে এসে তুলে ধরতে পারে। আদালতে তা গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।

ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন তখনকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে সরকারি চাকরিতে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে) কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। এর পর থেকে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা সরকারের জারি করা সেই পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে মাঠে নামেন।

এদিকে সবশেষ গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) সরকারি চাকরিতে কোটা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের উপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। এরফলে সরকারের জারিকৃত ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল হয়। আগামী ৭ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে হাইকোর্ট। এদিকে আজ বিকেলে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ

আন্দোলনকারীদের আদালতে আসার আহ্বান প্রধান বিচারপতির

আপডেট সময় ১০:১৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

এবার সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আদালতে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের নেতাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, কোটা নিয়ে যারা আন্দোলন করছে তাদের পরামর্শ দিন। তারা কেনো নির্বাহী বিভাগের কথা বলছে? নির্বাহী বিভাগের যেকোনো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে এসে তুলে ধরতে পারে। আদালতে তা গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।

ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন তখনকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে সরকারি চাকরিতে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে) কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। এর পর থেকে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা সরকারের জারি করা সেই পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে মাঠে নামেন।

এদিকে সবশেষ গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) সরকারি চাকরিতে কোটা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের উপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আপিল বিভাগ। এরফলে সরকারের জারিকৃত ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল হয়। আগামী ৭ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে হাইকোর্ট। এদিকে আজ বিকেলে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।