ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মাদারীপুর সরকারি কলেজের ৩৮০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র একজন, আলোচনার ঝড়

মাদারীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক্‌-নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৩৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করেছে। এ ছাড়া মানবিক শাখায় ৬০৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩৬ জন। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার কিছুটা বেশি। এই বিভাগে ৩২০ জনের মধ্যে ৮১ জন পাস করেছে। এ ফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হয় ১ হাজার ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৪৯ জন, মানবিক বিভাগে ৭৩৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪৯ জন। ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই শিক্ষাবর্ষের প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে গত রোববার ২১ মে ফল ঘোষণা করা হয়।

প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধির সঙ্গে। তারা বলছে, কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না। এর মধ্যে হঠাৎ করেই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষার জন্য কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তারা পায়নি। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন ছিল। এসব কারণে তাদের পরীক্ষা ভালো হয়নি।

এ বিষয়ে দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষা-২০২৩ কমিটির আহ্বায়ক বেদানন্দ হালদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা, অথচ পরীক্ষার্থীরা কেউ এক ঘণ্টা হলে বসে পরীক্ষা দেয়নি। তাদের ক্লাসেও অনিচ্ছা। পরীক্ষা দিতেও অনীহা। এভাবে পড়ালেখা করলে তো পাস সম্ভব নয়। ৩০ মে থেকে এই সেশনের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে সামনের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের বারবার এসব বোঝানোর চেষ্টা করছি।’

মাদারীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জামান মিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আমাদের দায় আছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে শিক্ষকদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। শিক্ষকেরা নিয়মত ক্লাস নিলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ক্লাস নিয়মিত করে না। শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অভিভাবক ও ছাত্রনেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা তো সব সময় তাদের (ছাত্রদের) নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

মাদারীপুর সরকারি কলেজের ৩৮০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র একজন, আলোচনার ঝড়

আপডেট সময় ০৪:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩

মাদারীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক্‌-নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৩৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করেছে। এ ছাড়া মানবিক শাখায় ৬০৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩৬ জন। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার কিছুটা বেশি। এই বিভাগে ৩২০ জনের মধ্যে ৮১ জন পাস করেছে। এ ফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হয় ১ হাজার ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৪৯ জন, মানবিক বিভাগে ৭৩৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪৯ জন। ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই শিক্ষাবর্ষের প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে গত রোববার ২১ মে ফল ঘোষণা করা হয়।

প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধির সঙ্গে। তারা বলছে, কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না। এর মধ্যে হঠাৎ করেই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষার জন্য কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তারা পায়নি। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন ছিল। এসব কারণে তাদের পরীক্ষা ভালো হয়নি।

এ বিষয়ে দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষা-২০২৩ কমিটির আহ্বায়ক বেদানন্দ হালদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা, অথচ পরীক্ষার্থীরা কেউ এক ঘণ্টা হলে বসে পরীক্ষা দেয়নি। তাদের ক্লাসেও অনিচ্ছা। পরীক্ষা দিতেও অনীহা। এভাবে পড়ালেখা করলে তো পাস সম্ভব নয়। ৩০ মে থেকে এই সেশনের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে সামনের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের বারবার এসব বোঝানোর চেষ্টা করছি।’

মাদারীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জামান মিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আমাদের দায় আছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে শিক্ষকদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। শিক্ষকেরা নিয়মত ক্লাস নিলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ক্লাস নিয়মিত করে না। শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অভিভাবক ও ছাত্রনেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা তো সব সময় তাদের (ছাত্রদের) নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।’