ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট: রাশেদ খাঁন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:২১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দুর্নীতি করেননি—এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ‘আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিজ্ঞেস করেন, জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই? নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটা ছাড়েনি! নাহিদ ইসলামের ভাষায়, জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিল, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করেছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির আসিফ মাহমুদের আসনটি ছাড়তে রাজি হননি। তাঁর দাবি, এর পেছনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় নিতে জামায়াতের অনাগ্রহ কাজ করেছিল।

‘এমনকি আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩টা আসন বেশি ছাড়ব, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করবেন না! আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতের আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই’-বলেও লিখেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ‘আজকের (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোনো নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট! এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের কোনো কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিল, যেটা আমি নিজে জানি। এ বিষয়ে আমি একজন উপদেষ্টাকে জানালে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এত টাকা দিতে পারে না।’

রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিল অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু বিরোধিতার কারণে, বিরোধী দলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাব, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল।

রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিশরে বাস উল্টে ২২ জনের মৃত্যু

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট: রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় ১১:২১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দুর্নীতি করেননি—এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ‘আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিজ্ঞেস করেন, জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই? নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটা ছাড়েনি! নাহিদ ইসলামের ভাষায়, জামায়াতের আমিরের মন্তব্য এমন ছিল, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কারও কারও কাছে আক্ষেপ করেছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির আসিফ মাহমুদের আসনটি ছাড়তে রাজি হননি। তাঁর দাবি, এর পেছনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় নিতে জামায়াতের অনাগ্রহ কাজ করেছিল।

‘এমনকি আসিফ মাহমুদের আসনের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে কল করলে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩টা আসন বেশি ছাড়ব, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করবেন না! আমি জামায়াতের সমালোচনা করলেও, জামায়াতের আমিরের এই অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানাই’-বলেও লিখেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ‘আজকের (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনটা লক্ষ্য করেন, সিনিয়র কোনো নেতা আসিফের পাশে নাই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টা এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট! এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের কোনো কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যায় না! সে অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিল, যেটা আমি নিজে জানি। এ বিষয়ে আমি একজন উপদেষ্টাকে জানালে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এত টাকা দিতে পারে না।’

রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিল অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা। আমি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু বিরোধিতার কারণে, বিরোধী দলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তাতে আমি সবসময় বলে যাব, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল।

রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।