মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি মিনি ট্রাক থামিয়ে মাছ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ছাত্রদলের তিন স্থানীয় নেতার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে কুলাউড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো একসময়ে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার মহাসড়কের কৌলা এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার মাছ বোঝাই করে একটি মিনি ট্রাক কুলাউড়া হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি কাদিপুর ইউনিয়নের কৌলা এলাকায় অবস্থিত মেঘনা ব্রিক ফিল্ডের সামনে পৌঁছামাত্র একটি লাল রঙের পালসার মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক আকস্মিক পথরোধ করে মিনি ট্রাকটির গতি থামায়।
এ সময় দুর্বৃত্তরা গাড়ির চালক কামরান হোসেনকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হত্যার ও শারীরিক আঘাতের হুমকি দেয়। আতঙ্কে থাকা চালক ও তার সহযোগী তারেক আহমদের সঙ্গে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা এবং ট্রাকে থাকা সমস্ত শোল মাছ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতার প্রাথমিক প্রমাণ পায়।
এই ঘটনায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বারই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ও ট্রাকচালক কামরান হোসেন বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে কুলাউড়া উপজেলার মনসুর এলাকার বাসিন্দা ইসরাইল বক্স প্রকাশ বদউল্লার ছেলে ও কুলাউড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমান উদ্দিন রাজ, আব্দুর রহিমের ছেলে ও কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদি হাসান খান এবং নিয়ামত মিয়ার ছেলে ও কুলাউড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন আরিয়ান খানের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত/অপারেশনস) হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছিনতাই ও অস্ত্র প্রদর্শনের এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ রাজনৈতিক পদধারী ব্যক্তিদের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















