রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর মিঠিপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের (ব্লক সুপারভাইজার-বিএস) জন্য নির্মিত কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব সরকারি স্থাপনায় নেই কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রম। একসময় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে ভবনগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। আবার কেউ কেউ ভবনের কক্ষ ও বারান্দা ব্যবহার করে স্কুল কোচিং পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে এলাকার কয়েকটি পরিবার এসব কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছে। তাদের দাবি, পরিবারগুলো সেখানে বসবাস না করলে সরকারি মূল্যবান স্থাপনাগুলো আরও বেশি অযত্নে পড়ে থাকত। একসময় ভবনগুলোর আশপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গিয়ে মাদকসেবীদের আনাগোনার স্থান ও অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছিল বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের জন্য এসব কোয়ার্টার নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কেন সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না? কৃষি বিভাগের বিএস কার্যক্রম এখনো চালু থাকলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব স্থাপনা কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না? সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনগুলো এভাবে ফেলে রাখার কারণ কী?
এলাকাবাসীর মতে, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষি বিভাগের প্রয়োজন থাকলে কোয়ার্টারগুলো সংস্কার করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবাসন ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর প্রয়োজন না থাকলে বিধি অনুযায়ী বিকল্প জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে কেন অব্যবহৃত রয়েছে, এর পেছনে কী কারণ এবং ভবিষ্যতে এগুলো কীভাবে কাজে লাগানো হবে—তা জানতে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
জনগণের প্রশ্ন, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি স্থাপনা কি শুধু পড়ে থাকার জন্য, নাকি কৃষি ও জনস্বার্থে সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে?
তারিকুল ইসলাম তারিক-পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 
























