ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্যভাটিপাড়া এলাকায় পরিবেশ আইন ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেসার্স এম. এস. ব্রিকস ফিল্ড নামের এই ইটভাটার কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনজীবন ও কৃষি অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসার্স এম. এস. ব্রিকস ফিল্ডের প্রোপ্রাইটর মো. মামুনুর রশিদ (সোহেল)। প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা উপেক্ষা করে ভাটায় আগুন জ্বালিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও নানা অভিযোগ
ফসলের ব্যাপক ক্ষতি: ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে আশপাশের জমির ধানের ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধানের শিষ বিবর্ণ হয়ে যাওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
গাছপালা ও বসতবাড়ির ক্ষতি: ভাটার তীব্র উত্তাপ ও দূষণের ফলে আশপাশের বাড়িঘরের গাছপালা ও ফলমূল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ব্যবস্থাপনায় উদাসীনতার অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ইটভাটার ম্যানেজারের কাছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী একাধিকবার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ জানালেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ক্ষতি: ইটভাটার কাজে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবেশের ক্ষতি ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
মো. রাসেল ফকির-ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান 




















